somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রাউন অব কুইন

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সকাল ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আগে ইংল্যান্ডে সংসদ বসার সময় ডিউক, আর্ল এবং ভিসকাউন্টের স্ত্রীরা ব্যাংকের নিরাপদ ভল্ট থেকে যে যার মুকুট নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে যেতেন। তাদের রাজমুকুট পরা উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত এবং সজীব করে তুলত। এমনকি রানী বা রাজকুমারীদের সুসজ্জিত চুলকে বেঁধে রেখেছে এই রাজমুকুট, কিন্তু এখন এ দৃশ্য একেবারেই দুর্লভ।

একটি মুকুট তার মালিকের আভিজাত্য, গর্ব এবং সমৃদ্ধির পরিচয় বহন করে। একই সঙ্গে নির্মাতার শিল্প শৈলীর অপূর্ব দক্ষতাকেও তুলে ধরে। আর সে মুকুট যদি হয় রাজমুকুট তাহলে তো প্রতিনিধিত্ব করে যুগ এবং বংশ মর্যাদার। এই মুকুট পরে রানী বা রাজকুমারীরা বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোতে দীপ্তি ছড়িয়ে থাকেন। তবে ইদানীং রাজ পরিবারগুলোতেও আগের সেই আভিজাত্য নেই। এখনকার অনুষ্ঠানগুলোতে রাজকুমারীদের মুকুট পরে আসতে খুব কমই দেখা যায়।



আগে ইংল্যান্ডে সংসদ বসার উদ্বোধনী দিনে ডিউক, আর্ল এবং ভিসকাউন্টের স্ত্রীরা ব্যাংকের নিরাপদ ভল্ট থেকে যে যার মুকুট নিয়ে ওই বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে যেতেন। তাদের রাজমুকুট শোভিত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত এবং সজীব করে তুলত। কিন্তু আজকাল ডিউক আর আর্লদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। রানী বা রাজকুমারীদের সুসজ্জিত চুলকে বেঁধে রেখেছে রাজমুকুট, কিন্তু এখন এ দৃশ্য একেবারেই দুর্লভ। মাঝে মধ্যে বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর ক্যাসেলের স্টেট ব্যাংকোয়েটের রাজকীয় অনুষ্ঠানে মুকুট পরে আসেন রানী ও রাজকুমারীরা, তখন রাজমুকুটের দীপ্যময় ছটায় মুগ্ধ হওয়ার সুযোগ পান অভ্যাগতরা। তবে সাধারণ মানুষরাও যাতে এই মুকুট দেখার সুযোগ পান তার ব্যবস্থা করা হয় সবসময়। আমেরিকার বোস্টন শহরে মিউজিয়াম অব ফাইব আর্ট একবার ৮০টি অপূর্ব সুন্দর রাজমুকুট প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিল। এই প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয়েছিল ক্রাউনিং গ্লোরিজ। এখানে সপ্তদশ শতাব্দী থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বহুমূল্যের মুকুট রাখা হয়েছিল। এই প্রদর্শনীর জন্য সাহায্য করেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। তবে তিনি বলেছিলেন কাজটা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল কারণ মুকুটের মালিকরা ভয় পাচ্ছিলেন যে, একবার মুকুট পাঠালে সেগুলো যদি চুরি হয়ে যায়। তবে ডায়ানা তার কাজ করেছিলেন সঠিকভাবে। প্রথমে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারে। কিন্তু তাকে প্রত্যাখিত করা হয় এই বলে যে রানীকে সবসময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয় তাই এটা দেয়া যাবে না। প্রিন্সেস অ্যানের কাছে গেলে তিনিও সেই একই জবাব দেন। পরবর্তীতে ডায়ানা আর্ল স্পেন্সারের কাছে গিয়েছিলেন তিনি তাদের বিখ্যাত মুকুটটি ধার দিতে পারবেন কিনা জানতে। এই মুকুট এক সময় প্রিন্সেস ডায়ানা পরতেন। মুকুটটি তৈরি হীরা দিয়ে। ১৭৬৭ সালে ভিসকাউন্টেস মন্টেগুর জন্য এটি তৈরি করা হয়। মুকুটটি বর্তমানে প্রিন্সেস অব ওয়েলস মিউজিয়ামে রাখা আছে। ডায়ানা বিয়ের সময় এই মুকুটটি পরেছিলেন। পরে নানা রাজকীয় অনুষ্ঠানে তাকে এই মুকুট পরে যেতে দেখা যায়। আর্ল স্পেনসারও ডায়ানাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নানা অজুহাত দেখিয়ে। তবে এখানে স্থান পেয়েছিল মোনাকোর প্রিন্সেস গ্রেসের রাজমুকুট। ১৯৭৬ সালে এটি তৈরি করে ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আর্পেলস। অভিনেত্রী গ্রেস কেলি এ মুকুট পরে তার মেয়ে প্রিন্সেস ক্যারোলিনের বিয়েতে। প্রিন্সেস ডায়ানাকে বিয়েতে যে উপহার দিয়েছিলেন সেটা পুরোটাই হীরা দিয়ে বানানো এবং ১৯টি বড় বড় মুক্তা ছিল। ১৯১৪ সালে রানী মেরীর জন্য মুকুটটি তৈরি করে রাজকীয় গহনা প্রতিষ্ঠান অ্যাসপ্রে অ্যান্ড গারার্ড।



প্রায় প্রতিটি রাজমুকুট তৈরির পেছনে রয়েছে রোমান্টিক ও করুন কিছু ঘটনা। যেমন প্রিন্সেস গ্রেস অব মোনাকো তার মেয়ের বিয়েতে মুকুট পরে যাওয়ার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়।

সংগৃহীত

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সকাল ৯:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×