somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কলিমুদ্দি দফাদার
“কলিমদ্দিকে আবার দেখা যায় ষোলই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাজারের চা স্টলে। তার সঙ্গীরা সবাই মুক্তি, সে-ই শুধু তার পুরনো সরকারি পোশাকে সকলের পরিচিত কলিমদ্দি দফাদার।”

কলিমুদ্দির কোরিয়া ভ্রমণ। (কোরিয়া ডায়েরী)

৩১ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরিয়ার ইনচন এয়ারপোর্ট।

আপনি যদি ভ্রমন পিপাসু হয়ে থাকেন, কোরিয়া হতে পারে আপনার জন্য বিনোদনের অন্যতম প্রিয় একটি স্থান। সি.এন.এন নিউজের জরিপে কোরিয়ার ৩৫ টি স্থানকে অন্যতম দর্শনীয় এবং ওয়াল্ড হেরিটেজ স্থান বলে উল্লেখ ধরা হয়েছে।

কলিমুদ্দির কোরিয়াতে আসা হইছে এই নিয়ে দুই বার। প্রথমবার, সে যখন কোরিয়াতে আসে, তখন ছিল নভেম্বর মাস। যখন চরম ও হার কাপানো ঠান্ডা আর শীত। প্রথমবার বিমানে এসে কোরিয়াতে নামে প্রায় সন্ধায়। জাতি ও দেশ হিসেবে কোরিয়া কতটা পরিস্কার এবং উন্নত তা মোটামুটি কলিমুদ্দি কোরিয়ান ইনচন এয়ারপোর্ট দেখে বুঝতে পারে!!! যে কয়েকটি দেশের এয়ারপোর্ট তার দেখা হইছে, তারমধ্যে ইনচন সেরা, আর এত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন আর ইকোফেন্ডলী আর কোথাও দেখে নাই। তারমধ্যে আবার যখন ইমিগ্রেশন আসলো, তখন অফিসার তার পাসপোর্ট স্কেন করার সাথে সাথে স্পিকার থেকে বাংলায় বলে উঠলো "বদ্ধা আঙুল দিয়ে দুই আঙ্গুল প্রেস করুন"। কলিমুদ্দি মনে মনে কয় বাপরে!!! কি প্রযুক্তি!!! পরে আবিস্কার ওদের ব্যাংকের এ.টি.এম বুথগুলোতে ও বাংলাসহ আরো কিছু বিদেশি ভাষা ব্যবহারের সুযো। সেই অবস্থা! তাই না।

এ.টি.এম বুথ বাংলা ফ্রন্ট। কোরিয়া বাঙালি শ্রমিকদের ব্যবহার সুবিধার্থে।

সবকাজ শেষ করে কলিমুদ্দির এয়ারপোর্ট এর বাইরে আসতে, তার মনে হল শরীরে কেউ বরফের ছুরিকাঘাত করলো। বাপরে!!! এত ঠান্ডা। যতদুর মনে পড়ে সেদিন তাপমাত্রা ছিল -৩ এর মত। আর কলিমুদ্দির গায়ে দেশের শীতের হালকা পোশাক, তাই দফাদারের রফা ঠাণ্ডা হয়ে যায়।



এর মধ্য দফাদার সাহেবের কোরিয়ান বন্ধু তার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছিল। বন্ধুর সাথে এরপর সোজা বাসে। কোরিয়ান এয়ারপোর্ট লাইনারের লিমোজিন বাস সিউল এর প্রায় সব জায়গা তে যায়, এবং খুবই আরামদায়ক এর সিটগুলো, তাই কলিমুদ্দি বাস ও সীট দেখে বলে, যে এয়ারলাইন আইছি তার বিজনেস ক্লাস ও এত আরামদায়ক না।

কোরিয়াতে ঠান্ডাছিল কলিমুদ্দির ধারনার চেয়ে ও বেশী। তাই সেদিন রাতে ই চলে গিয়েছিল কিছু গরম কাপর কেনার জন্য। সিউলের রাস্তাঘাট, শপিং মল গুলো খুবই আলোকময়।


কলিমুদ্দি ভাবছিল, কোরিয়া আইসা খাবার দাবার নিয়ে তার খুব ঝামেলা হইবো। তার ধারনা ছিল এরা যা খায়, সাপ বিচ্ছু, শুকর তা সে কি করে খাবে? কিন্তু এমন কিছুই হয় নাই। এরা বিফ খুবই পছন্দ করে। সব খাবারে এমন কি সুপ গুলোতে ও বিফ থাকে। আর কোরিয়া আইসা কোরিয়ান বারবিউ খাবেন না তা কি করে হয়?


নিচে কোরিয়ান বারবিকিউ। স্বনামধন্য একটি কোরিয়ান রেসিপি।




'র' মানে কাচা সিরম্প। ইজাকায়া বিখ্যাত একটি জাপানিজ রেস্টুরেন্টে।


সী সেল মানে সামুদ্রিক ফুড। বিচ দেখতে গিয়ে খেয়েছিলাম। দাম ও বেশ কম।

সিউল শহরের মধ্যে দিয়ে বহমান বিখ্যাত "হান" রিভার। কলিমুদ্দির খুবই প্রিয় জায়গা; যতদুর চোখ যায় এই নদীর উপর প্রায় ৮ থেকে ১০ খানা সেতু দেখা যায়। কোন এক সেতুর এর উপর থেকে সে পাহাড়ের সাথে ঘেঁষে থাকা এক উচ্চ অট্যালিকার আলোক জ্বলমলে রাতের দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখে আর মনে মনে পড়ে বাল্যকালের সেই কবিতা-

"থাকবো নাকো বধ্য ঘরে, দেখবো এবার জগৎ টাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে"


বিখ্যাত হান‌ রিভার।



ভালবাসার এক নিদর্শনের নাম কোরিয়ান লাভ হোটেল। আমাদের দেশের প্রেমিক- প্রেমিকাদের কোরিয়ান কাপলেরা লিটনের ফ্লাটে এ যায় না। তাদের মনোরঞ্জন জন্য এই সু ব্যবস্থা; দাম অনুযায়ী পাচ তারকা হোটেলের মত সব সুযোগ-সুবিধা আছে এখানে ।


কোরিয়ান কাপল অর লাভ হোটেল।



কোরিয়ানরা গরম-শীত প্রায় সারা বছর গরম পানি দিয়ে গোসল করে। কোরিয়ান "সাওনা" কালচার খুবই বিখ্যাত। সাওনাতে অনেকগুলো সুগন্দীযুক্ত গরম পানির চৌবাচ্চা থাকে। এতে তারা সবাই হয়ে গোসল করে।

কলিমুদ্দি তার বন্ধুকে বলে সেখানে যেতে চায়। কিন্তু বন্ধু বলে সেখানে নাকি সবাই উলঙ্গ হয়ে গোসল করে। কলিমুদ্দি বলে এইটা কেমন কথা?? এখানে তোর বাপ-দাদা আইসা ও দেখতে পারস, তখন কি হবে?? বন্ধু বলে আরে এইটা কোন ব্যাপার নাকি? আগে বাবা দাদা সবাইরে নিয়া আইসা অনেক গোসল করছি; এখন তেমন আসা হয় না। আর আমার বাপ দাদার "ইয়ে" আমি অনেক দেখছি, একসাথে গোসল করা এইডা আমাগো কালচার। কেন তোরা যাছ না? কলিমুদ্দি "থ" হয়ে কয়, আমরা আমাদের বাপের সাথে ঈদের নামাজ পড়া ছাড়া আর কোথায় যাই না। পড়ে ব্যাপারটা নিজে যেয়ে বুঝার জন্য কলিমুদ্দি "সাওনায়" গিয়ে একদিন এর জন্য কোরিয়ান হয়ে যায়।

কোরিয়ান সাওনা। এখানে ঠুকার আগে লকার জামা কাপড়, ফোন সব রাখতে হবে। ছবি তোলা নিষেধ। তাই এইগুলো গুগল থেকে নেওয়া।




স্টীম বাথ, বেশ আরামদায়ক একটি জায়গা।

সেখানে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। এছাড়া আছে স্টিম বাথ,বডি ম্যাসাজ। এখানে কিছু লোক থাকে, যারা সারা শরীর স্কাব করে ময়লা তুলে দিবে। কলিমুদ্দি তার সব গুলো ই করে আর অবাক হয়ে দেখে, বাপ, দাদা, কচি খোকা বালকসহ সবার "ইয়ে"।

গোসলের পড়ে কলিমুদ্দি তার বন্ধুসহ রেস্ট রুমে যায়। বিশাল বর রুম। মহিলা পুরুষ সবাই এখানে গোসল শেষে রেস্ট নেয়। অব্শ্য সবাই টাওয়াল পড়ে থাকে। তাই কলিমুদ্দির একটু মন খারাপ। তাই খারাপ মনে, কোন এক সুন্দরী রমনির কাছে যেয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে।


রেস্টিং রুম, ঘুমানোর জায়গা।

একদিন বন্ধুসহ কলিমুদ্দি কোরিয়ান সুপারসপ দেখতে যায়। যাকে কোরিয়ান ভাষায় ই-মার্ট বলে। বিশাল বড় মার্ট।। টিভি ফ্রিজ থেকে বাচ্চাদের চাড্ডি সবই আছে। সেখান থেকে দুইখান সুইট ওয়ান ও কিনে কলিমুদ্দি। কিন্তু একটা জিনিস দেখে তার চোখ আটকে যায়। সে দেখে কিছু গরু মাংসের দাম অন্যান্য গরু মাংসের দাম থেকে খুবই কম। কলিমুদ্দি তার বন্ধুর কাছে ঘটনা কি জানতে চায়? বন্ধু বলে এই মাংস দিনশেষে বা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এমন হয়। আর কোরিয়ানরা খাবারের ব্যাপারে খুব হাইজেনিক।পুরানো কিছু তারা খায় না তাই এমন দাম। কলিমুদ্দি বলে, আমাদের দেশেতো কোরবানির গরু জবাই দিয়ে ৩ মাস ফ্রিজে রেখে খাই আমাদের তো কিছুই হয় না। বন্ধু কথায় না পেড়ে বলে চল এইদিকে যাই।

ই মার্ট। অনেক বড় আর সহজলভ্য। সব জিনিস ঈ পাওয়া যায়





কলিমুদ্দি এখনো কোরিয়াতে আছে, তাই তার ভ্রমন কাহিনি ও চলব!!!!


সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০২৫ ভোর ৪:২০
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×