
আপনি যদি ভ্রমন পিপাসু হয়ে থাকেন, কোরিয়া হতে পারে আপনার জন্য বিনোদনের অন্যতম প্রিয় একটি স্থান। সি.এন.এন নিউজের জরিপে কোরিয়ার ৩৫ টি স্থানকে অন্যতম দর্শনীয় এবং ওয়াল্ড হেরিটেজ স্থান বলে উল্লেখ ধরা হয়েছে।
কলিমুদ্দির কোরিয়াতে আসা হইছে এই নিয়ে দুই বার। প্রথমবার, সে যখন কোরিয়াতে আসে, তখন ছিল নভেম্বর মাস। যখন চরম ও হার কাপানো ঠান্ডা আর শীত। প্রথমবার বিমানে এসে কোরিয়াতে নামে প্রায় সন্ধায়। জাতি ও দেশ হিসেবে কোরিয়া কতটা পরিস্কার এবং উন্নত তা মোটামুটি কলিমুদ্দি কোরিয়ান ইনচন এয়ারপোর্ট দেখে বুঝতে পারে!!! যে কয়েকটি দেশের এয়ারপোর্ট তার দেখা হইছে, তারমধ্যে ইনচন সেরা, আর এত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন আর ইকোফেন্ডলী আর কোথাও দেখে নাই। তারমধ্যে আবার যখন ইমিগ্রেশন আসলো, তখন অফিসার তার পাসপোর্ট স্কেন করার সাথে সাথে স্পিকার থেকে বাংলায় বলে উঠলো "বদ্ধা আঙুল দিয়ে দুই আঙ্গুল প্রেস করুন"। কলিমুদ্দি মনে মনে কয় বাপরে!!! কি প্রযুক্তি!!! পরে আবিস্কার ওদের ব্যাংকের এ.টি.এম বুথগুলোতে ও বাংলাসহ আরো কিছু বিদেশি ভাষা ব্যবহারের সুযো। সেই অবস্থা! তাই না।

সবকাজ শেষ করে কলিমুদ্দির এয়ারপোর্ট এর বাইরে আসতে, তার মনে হল শরীরে কেউ বরফের ছুরিকাঘাত করলো। বাপরে!!! এত ঠান্ডা। যতদুর মনে পড়ে সেদিন তাপমাত্রা ছিল -৩ এর মত। আর কলিমুদ্দির গায়ে দেশের শীতের হালকা পোশাক, তাই দফাদারের রফা ঠাণ্ডা হয়ে যায়।

এর মধ্য দফাদার সাহেবের কোরিয়ান বন্ধু তার জন্য বাইরে অপেক্ষা করছিল। বন্ধুর সাথে এরপর সোজা বাসে। কোরিয়ান এয়ারপোর্ট লাইনারের লিমোজিন বাস সিউল এর প্রায় সব জায়গা তে যায়, এবং খুবই আরামদায়ক এর সিটগুলো, তাই কলিমুদ্দি বাস ও সীট দেখে বলে, যে এয়ারলাইন আইছি তার বিজনেস ক্লাস ও এত আরামদায়ক না।
কোরিয়াতে ঠান্ডাছিল কলিমুদ্দির ধারনার চেয়ে ও বেশী। তাই সেদিন রাতে ই চলে গিয়েছিল কিছু গরম কাপর কেনার জন্য। সিউলের রাস্তাঘাট, শপিং মল গুলো খুবই আলোকময়।
কলিমুদ্দি ভাবছিল, কোরিয়া আইসা খাবার দাবার নিয়ে তার খুব ঝামেলা হইবো। তার ধারনা ছিল এরা যা খায়, সাপ বিচ্ছু, শুকর তা সে কি করে খাবে? কিন্তু এমন কিছুই হয় নাই। এরা বিফ খুবই পছন্দ করে। সব খাবারে এমন কি সুপ গুলোতে ও বিফ থাকে। আর কোরিয়া আইসা কোরিয়ান বারবিউ খাবেন না তা কি করে হয়?




সিউল শহরের মধ্যে দিয়ে বহমান বিখ্যাত "হান" রিভার। কলিমুদ্দির খুবই প্রিয় জায়গা; যতদুর চোখ যায় এই নদীর উপর প্রায় ৮ থেকে ১০ খানা সেতু দেখা যায়। কোন এক সেতুর এর উপর থেকে সে পাহাড়ের সাথে ঘেঁষে থাকা এক উচ্চ অট্যালিকার আলোক জ্বলমলে রাতের দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখে আর মনে মনে পড়ে বাল্যকালের সেই কবিতা-
"থাকবো নাকো বধ্য ঘরে, দেখবো এবার জগৎ টাকে
কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে"


ভালবাসার এক নিদর্শনের নাম কোরিয়ান লাভ হোটেল। আমাদের দেশের প্রেমিক- প্রেমিকাদের কোরিয়ান কাপলেরা লিটনের ফ্লাটে এ যায় না। তাদের মনোরঞ্জন জন্য এই সু ব্যবস্থা; দাম অনুযায়ী পাচ তারকা হোটেলের মত সব সুযোগ-সুবিধা আছে এখানে ।


কোরিয়ানরা গরম-শীত প্রায় সারা বছর গরম পানি দিয়ে গোসল করে। কোরিয়ান "সাওনা" কালচার খুবই বিখ্যাত। সাওনাতে অনেকগুলো সুগন্দীযুক্ত গরম পানির চৌবাচ্চা থাকে। এতে তারা সবাই হয়ে গোসল করে।
কলিমুদ্দি তার বন্ধুকে বলে সেখানে যেতে চায়। কিন্তু বন্ধু বলে সেখানে নাকি সবাই উলঙ্গ হয়ে গোসল করে। কলিমুদ্দি বলে এইটা কেমন কথা?? এখানে তোর বাপ-দাদা আইসা ও দেখতে পারস, তখন কি হবে?? বন্ধু বলে আরে এইটা কোন ব্যাপার নাকি? আগে বাবা দাদা সবাইরে নিয়া আইসা অনেক গোসল করছি; এখন তেমন আসা হয় না। আর আমার বাপ দাদার "ইয়ে" আমি অনেক দেখছি, একসাথে গোসল করা এইডা আমাগো কালচার। কেন তোরা যাছ না? কলিমুদ্দি "থ" হয়ে কয়, আমরা আমাদের বাপের সাথে ঈদের নামাজ পড়া ছাড়া আর কোথায় যাই না। পড়ে ব্যাপারটা নিজে যেয়ে বুঝার জন্য কলিমুদ্দি "সাওনায়" গিয়ে একদিন এর জন্য কোরিয়ান হয়ে যায়।
কোরিয়ান সাওনা। এখানে ঠুকার আগে লকার জামা কাপড়, ফোন সব রাখতে হবে। ছবি তোলা নিষেধ। তাই এইগুলো গুগল থেকে নেওয়া।

।

সেখানে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। এছাড়া আছে স্টিম বাথ,বডি ম্যাসাজ। এখানে কিছু লোক থাকে, যারা সারা শরীর স্কাব করে ময়লা তুলে দিবে। কলিমুদ্দি তার সব গুলো ই করে আর অবাক হয়ে দেখে, বাপ, দাদা, কচি খোকা বালকসহ সবার "ইয়ে"।
গোসলের পড়ে কলিমুদ্দি তার বন্ধুসহ রেস্ট রুমে যায়। বিশাল বর রুম। মহিলা পুরুষ সবাই এখানে গোসল শেষে রেস্ট নেয়। অব্শ্য সবাই টাওয়াল পড়ে থাকে। তাই কলিমুদ্দির একটু মন খারাপ। তাই খারাপ মনে, কোন এক সুন্দরী রমনির কাছে যেয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে।

একদিন বন্ধুসহ কলিমুদ্দি কোরিয়ান সুপারসপ দেখতে যায়। যাকে কোরিয়ান ভাষায় ই-মার্ট বলে। বিশাল বড় মার্ট।। টিভি ফ্রিজ থেকে বাচ্চাদের চাড্ডি সবই আছে। সেখান থেকে দুইখান সুইট ওয়ান ও কিনে কলিমুদ্দি। কিন্তু একটা জিনিস দেখে তার চোখ আটকে যায়। সে দেখে কিছু গরু মাংসের দাম অন্যান্য গরু মাংসের দাম থেকে খুবই কম। কলিমুদ্দি তার বন্ধুর কাছে ঘটনা কি জানতে চায়? বন্ধু বলে এই মাংস দিনশেষে বা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এমন হয়। আর কোরিয়ানরা খাবারের ব্যাপারে খুব হাইজেনিক।পুরানো কিছু তারা খায় না তাই এমন দাম। কলিমুদ্দি বলে, আমাদের দেশেতো কোরবানির গরু জবাই দিয়ে ৩ মাস ফ্রিজে রেখে খাই আমাদের তো কিছুই হয় না। বন্ধু কথায় না পেড়ে বলে চল এইদিকে যাই।



কলিমুদ্দি এখনো কোরিয়াতে আছে, তাই তার ভ্রমন কাহিনি ও চলব!!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০২৫ ভোর ৪:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



