
গতকালকের খবর এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এক ড্রাইভারকে প্রকাশ্যে পিটালেন, বুট দিয়ে পিষলেন । (সূত্র: Click This Link )
আমি আইনে ৪ বছর অনার্স (LL.B) এবং ১ বছর মাষ্টার্স (LL.M) পড়েছি এবং এখনো আইনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় পড়ছি কিন্তু মানুষকে জনসম্মুখে পুলিশ কর্তৃক এমন আঘাত করা কোন আইনে বলা আছে সেটা জানা নাই। পুলিশ নাকি জনগণের বন্ধু??
সমাজ ও জাতিসমূহের উন্নতি বিধানের ক্ষেত্রে আচার-আচরণ একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উন্নত আচার-আচরণ এত প্রয়োজনীয় যে, যারা ধর্মে বিশ্বাস করে না,তারাও একে সম্মান করে এবং এটা বিশ্বাস করে যে জীবনের এই কঠিন পথে অগ্রগতি সাধন করতে হলে তাদেরকে অবশ্যই কিছু নৈতিকতার বিধি মেনে চলা দরকার।
দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ভদ্র আচার-ব্যবহার প্রায় নাই বললেই চলে। যেটা আছে সেটাও তলানিতে এসে ঠেকেছে ( যদিও মুষ্টিমেয় কিছু পুলিশ আছেন যারা এখনো আচার ব্যবহারে ভদ্র ও বিনয়ী )।
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর জন্য নৈতিকতা শিক্ষা এখন অপরিহার্য বিষয়। লন্ডনে যদি কোন বাচ্চার বাবা কিংবা মা পুলিশ বাহিনীর সদস্য হয় মানুষ সেই বাচ্চাকে ভালবাসার দৃষ্টিতে দেখে আর বাংলাদেশে মনে মনে দশটা গালি দেয়। লন্ডনে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা পুলিশ হচ্ছে উপকারী বন্ধু যেটা বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বিপরীত। শুধু লন্ডন নয় সমগ্র ইউরোপ আমেরিকাতে পুলিশ উপকারী বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হয়। আর বাংলাদেশের অঅধিকাংশ পুলিশ হচ্ছে হয়রানী ম্যাশিন। মানুষকে চরম মাত্রায় হয়রানী করে তারা বেশতৃপ্তি পায় এবং যুদ্ধজয়ের আনন্দ লাভ করে। শুধু হয়রানী নয় অবাধ এবং প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেন তো সকলেরই জানা। একটা সময় ছিল যখন টেবিলের নীচ থেকে ঘুষ নিত যাতে অন্য কেউ দেখে না ফেলে, কারণ তখনো তাদের মধ্যে লজ্জা সংকোচ নামক বিশেষণ কাজ করতো। কিন্তু সেই বিশেষন এখন জাদুঘরের বাক্সে বন্দি। এখন লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে বলে 'খরচ' এনেছেন??
অর্থাৎ এখন এটা আর লজ্জাকর কিছু না। কোন মামলা কিংবা কোন কিছুর তদন্তে সেটা সত্য হোক আর মিথ্যাই হোক না কেন, ঘুষ সেখানে অপরিহার্য বিষয়।
এমনটা যদি চলতে থাকে এবং এর লাগাম এখনি টেনে না ধরা হলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থার সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

