somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ। সেই পুরনো পাওয়ার গেম।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




পৃথিবীটা আদতে এখনো চলছে সেই পাওয়ার গেম নিয়েই, যা বরাবরই রাজত্ব করেছে মানবসভ্যতার ইতিহাসে। এখানে কেউই সাধু নয়, সবারই যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাবার কোনও না কোনও এজেণ্ডা আছে, লক্ষ্য ও উপলক্ষ আছে। সেই লক্ষ্য অনুযায়ী চলতে গিয়ে বাঁধে কনফ্লিকট অব ইন্টারেস্ট। সংঘর্ষের সূচনা এখান থেকেই হয়। যুদ্ধ, ধংসযজ্ঞ এবং ব্যাপক মানুষের জানমালহানি যেখানে অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। এমনটা মানবসভ্যতার ইতিহাসে হয়েছে বার বার। আমাদের একুশ শতকের পৃথিবীটা এখনো এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসেনি। আসবেও না।
রাশিয়া ইউরোপিয়ান পাওয়ার গেমের পুরনো খেলোয়াড়। সেই সোভিয়েত আমলের উত্তেজনা এখনো চলমান। বলা বাহুল্য এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে রাশিয়া। নতুন যুগের রাশিয়া আবারো সেই সোভিয়েত আমলের মতো প্রতাপশালী হতে চায়। সেই শৌর্য-বীর্য এখনো রাশিয়ার নতুন প্রজন্মকে করে উদ্বেলিত। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গনের পর চরম বিশৃঙ্খল, হতশ্রী এবং অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত রাশিয়াকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করার সবচেয়ে বড় কাজটা সম্পাদন করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সাবেক কেজিবির সেই দুর্ধর্ষ স্পাই। রাশিয়াকে সাম্রাজ্যবাদী খেলায় তিনিই ফিরিয়ে এনেছেন। নতুন করে। নতুন আঙ্গিকে। সিরিয়া যুদ্ধে রুশ ইনভল্ভমেন্ট ছিল তার সূচনা মাত্র। রাশিয়াকে ঘিরে ফেলার জন্য পশ্চিমা শক্তিগুলো যে খেলা খেলছিল ইউক্রেনকে নিয়ে এবং ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার যে স্বার্থ রয়ে গেছে তাতে করে রাশিয়া যে ইউক্রেনকে আক্রমণ করবে যখনই হোক, যেভাবেই হোক এটা এক প্রকার অনুমিতই ছিল। ইউক্রেন এমন এক প্রাকৃতিক সম্পদে ভীষণভাবে সমৃদ্ধ দেশ যাকে তুলনা করা যায় একত্রে বাংলা ও বিহারের মতো। যার প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করতে উৎসাহী হয়েছিলো খোদ নাৎসি মহানায়ক এডলফ হিটলার। অধুনা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো যে তাকে ন্যাটো জোটে ঢুকাতে চেয়েছে সেটারও বিশাল এক কারণ ইউক্রেনের শক্তিসম্পদ। আর সেই সাথে তাদের পুরনো শত্রু রাশিয়াকে বেকায়দায় ফেলাটাও আরেক কারণ। ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়া আর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর সমস্ত খেলার কারণ এই দুটো। এমনিতেই ইউরোপে যে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করে রাশিয়া তার বড় এক অংশ গেছে ইউক্রেন হয়েই। এজন্য রাশিয়া সবসময় চেয়েছে ইউক্রেনের ওপর তার কর্তৃত্ব। ইউক্রেনের শাসকগোষ্ঠী চায় পশ্চিমাদের সাথে হাত মিলিয়ে চলতে। ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে ঢুকানো, পর্যায়ক্রমে তাকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য বানানো এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে খেলিয়ে রাশিয়াকে বেকায়দায় ফেলার সমস্ত আয়োজন রাশিয়া আজ বন্ধই করে দিল বলা যায়।
ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার এই আক্রমণ সেই সোভিয়েত আমলের পর চেপে বসা এককেন্দ্রিক বিশ্ব-ব্যবস্থার অবসানকে পরিস্কার করে দিলো। পৃথিবী এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে মাল্টিপোলার ওয়ার্ল্ড বাঁ বহু কেন্দ্রিক বিশ্বের দিকে। এই খেলায় একদিকে থাকবে যুক্তরাস্ত্র ও মিত্ররা, আরেকদিকে থাকবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলো আর অন্যদিকে থাকবে রাশিয়া ও চীনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা তাদের প্রতি অনুগত দেশগুলো। এই খেলা নতুন নতুন যুদ্ধ , নতুন নতুন প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা তৈরি করবে। এই ব্যবস্থা দ্বন্দ সংঘাতের ক্ষেত্র ক্রমাগতভাবে তৈরি করতেই থাকবে। হয়তো মানবসভ্যতা শেষ না হওয়া অবধি যার হাত থেকে মুক্তি নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×