somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্যা নোটবুক -৭

২৬ শে মে, ২০১৯ সকাল ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
টাচস্ক্রীন জেনারেশন ও পরিণতি,
----------------------------------


একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়,জ্ঞানচর্চা ও বিশ্বকে কাছে থেকে জানার একমাত্র উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হলো তথ্য ও প্রযুক্তি। তবে প্রযুক্তি কি সবসময় মঙ্গল বয়ে আনছে নাকি পাশাপাশি অজানা আতংক ছড়িয়ে দিচ্ছে তা নিয়ে বহু তর্ক-বিতর্ক আছে।
লক্ষ্য করা যায় প্রযুক্তির ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে শিশু-কিশোররাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটি শিশুর বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে যুক্ত হওয়া ও বিকারগ্রস্ত মানসিকতা তৈরীতে মারাত্মক প্রভাবক হিসাবে কাজ করছে প্রযুক্তির অপব্যবহার। বিভিন্ন কার্টুন, ভিডিও গেমস, মোবাইল, এ্যাপস, ট্যাবসহ ডিভাইসগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের মাঝে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে তারা পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষা,আদব, শিষ্টাচার, ও ভ্যালুজ এডুকেশন অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সিরিয়ার কথাই ধরা যাক, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর মগজে সুক্ষ হাতের ইনোভেটিভ ক্রাইমপ্ল্যান করে তাদের দলে যুক্ত করে। যার ফলে দেশে দেশে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক,ইয়াবা,সাইবার ক্রাইম,শারিরীক, মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে শিশু- কিশোররা অসহনীয় পরিণতি ভোগ করছে ।
২০১৭ সালে Birkbeck University of London ও King's College of London এক গবেষণা করে ৭১৫ জন মা-বাবা’র ওপর এক জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, যেসব শিশু টাচস্ক্রীন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের রাতে কম ঘুম হয়। আর প্রায় ৭৫ ভাগ শিশু প্রতিদিন টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে তাদের ৫১ শতাংশ হলো ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু।

অনেক সময় দেখা যায়, ছয় বছরের শিশু ষাটোর্ধ বৃদ্ধের ন্যায় চশমা ব্যবহার করছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারের রেডিয়েশনের প্রভাবে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। শিশুর মস্তিষ্ক সঠিক সময়ে সঠিক উপাদান পায় না ফলে শিশু বিষাদগ্রস্হ ও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কায়িক পরিশ্রম কিংবা খেলাধুলা আগ্রহ হারিয়ে শরীরে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে থাকে।

বছর খানেক আগে, এক নিকট আত্নীয় তার আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে আমার বাসায় বেড়াতে আসেন। তখন ছোট্ট ছেলেটির চঞ্চলতা ও এক্টিভিটি দেখে মনে হলো সে বড় হলো একস্ট্রা বুদ্ধিমান কিছু একটা হবে। কিছুদিন পর ছেলেটার অসুস্থতা শুনে খুব মর্মাহত হলাম।ছেলেটার শ্রবণ শক্তি ও স্মৃতি শক্তি লোপ পাওয়াতে তাকে দেখতে যাই। গিয়ে দেখি ছেলেটি আড়াই বছর বয়সে যা একটু আব্বু - আম্মু বলতো এখন সাড়ে তিন বছর বয়সে তাও বলতে পারে না। অনেক আলাপচারিতায় জানলাম, মা বাবা শিশুটির দুষ্টমি সইতে না পেরে প্রায়ই মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে দিতেন। আর সে ইচ্ছেমতো বিভিন্ন গেমস, কার্টুন ইত্যাদি দেখে শান্ত থাকতে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে ডিভাইস ব্যবহার আস্তে আস্তে তার মানসিক বিকাশ লোপ পায়। এখন চিকিৎসা চলছে এর থেকে মুক্তি আদৌও মিলবে কি না জানা নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এ ধরনের অপব্যবহার রোধ করতে পিতামাতার দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি একান্ত জরুরী বলে মনে হলো।
ভারী মন নিয়ে বাড়ি ফিরে ভাবলাম,
হায় প্রযুক্তি!
তুমি কত সহজেই দাও কুযুক্তি,
সুযোগ পেলে গুড়িয়ে দাও--
আছে যত ধব্জাধারী সুযুক্তি।

নোট-
১) প্রযুক্তির অশুভ প্রভাবে অদূর ভবিষ্যতে ক্যন্সারের চেয়েও ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করবে।
২) আধুনিক প্রযুক্তি -ফ্যাশনের আগ্রাসনে আকৃষ্ট হয়ে শিশুরা বিকৃতমনা হয়ে গড়ে উঠেছে।
৩) আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ যতটা হচ্ছে ঠিক ততটাই একটি পরিবারে মা-বাবা ও শিশুর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।

আরো পড়ুন -
গড ইজ স্মাইলিংং টু'ডে,নোট -০১
ইউ আর এ পাকি বয়, নোট -০২
একজন বিদেশীনীর বঙ্গ দর্শন,নোট-৩
বন্ধুর কৃতজ্ঞতাও থ্রি ডাব্লিউ,নোট-৪
পুত্রসন্তান ও লালবাতি, নোট-৫
জুলুমের যাতনা, নোট ৬
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৯ সকাল ৯:০১
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×