somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সঞ্চিত অভিজ্ঞতার নোট -০৩

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একজন বিদেশীনীর বঙ্গ দর্শন
****************************
সেদিন পরিচয় হলো মিস ব্রাউনিয়ার সাথে। পেশায় সদ্য পাশ করা একজন আইনজীবী। পরিচয় পর্বের শুরুতে আমার নাম শুনে বললেন, তার বেষ্ট ফ্রেন্ডের নাম আর আমার নাম নাকি একি। কথাটা শুনে বেশ কৌতুহলী হলাম। ইংলিশ মেয়ে আর বেস্ট ফ্রেন্ড বাঙালী কারণটা কি! অনেক কথাবার্তা বলার পর জানলাম মিঃ রহমান তার ক্লাসমেট ছিল যে পাশ করে দেশে চলে গিয়ে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করছে। সে মূলত আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বিলেতে পড়তে আসেনি, এদেশে পড়তে এসেছিলো শুধু পারিবারিক স্টাটাস ধরে রাখার নিমিত্তে । আমার কৌতূহল আরো বেড়ে গেলো, বিস্তারিত জানতে পেরে যা ভাবছিলাম তার কোন মিল নয় বরং উল্টো জিনিস বুঝতে পারলাম। নাহ কোন প্রেম নয়। খাঁটি বন্ধু, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সবাইকে নিয়ে ক্লাবে ডিংকস ও পার্টির জন্য মিঃ রহমান অতি সহজেই সবার বন্ধু হয়ে গিয়েছিল । কিছুদিন আগে বন্ধু মিঃ রহমানের বিয়েতে মিস ব্রাউনিয়া সহ পনের জনের একটি গ্রুপ চট্টগ্রাম গিয়েছিলো। বাংলাদেশে একজন বিদেশীনীর ভ্রমণ কাহিনি জানতে পেরে নিজ দেশ সম্পর্কে তার ভাবনাটা জানতে ইচ্ছে হলো, আমি বললাম আচ্ছা তোমার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের পাঁচটি মন্দ ও পাঁচটি ভালো দিক বলো প্লিজ, সে কোন কিছু চিন্তা না করে প্রথমেই মন্দ দিক বলতে শুরু করলো,
১) তাদের গ্রুপের সবাইকে বাংলাদেশের লোকজন নাকি অন্য গ্রহের মানুষ মনে করে হ্যাঁ করে তাকিয়ে থাকতো।
২) বাংলাদেশে মদ ও বারের কোন সুবিধা নেই। যদিও তাদের বন্ধু মদের ব্যবস্থা করে ঘরের মধ্যে পার্টি দিয়েছিলো।
৩) তার বন্ধুর বাড়ির গেটে দারোয়ান,গাড়িতে ড্রাইভার, চলাফেরার জন্য পারসোনাল সিকিউরিটি,এত এত কাজের লোকের জন্য টাকার অপচয় যা তার কাছে বড় একটা অপরাধ বলে মনে হয়েছে।
৪) বাংলাদেশে একটি বিয়েতে হরেক রকমের পার্টি করা হয় যেমন হলুদ পার্টি , মেহেদী পার্টি, বৌভাত, সহ অনেক কিছু যা নিতান্তই অপচয়। এত বেশি অপচয় তার জীবনে আর কখনো দেখে নি।
৫) একদিকে তার বন্ধুর এত টাকা,অভিজাত বাড়ি, দামী গাড়ি অন্যদিকে তাদের আশেপাশে অনাহারী লোকজন খাবারের জন্য হাত পেতে আছে। যা তার কাছে বেশ অমানবিক ও নিষ্ঠুরতা বলে মনে হয়েছে।
সে আরো বলতে থাকলে আমি থামিয়ে বললাম পাঁচটি কারণ জানতে চেয়েছি, এবার ভালো দিকটা বলো, সে এবার চিন্তায় পড়ে গিয়ে নিচু স্বরে বললো,
১) সাধারণ মানুষ তাদের দেখে হ্যাঁ করে তাকিয়ে থাকলেও তারা কোন ক্ষতি করতে চাইতো না।
২)দেশের মানুষগুলোর মধ্যে কিছু সংখ্যাক অনেক ধনী আর কারো কারো সম্পদ বলতে কোন কিছু নেই।
৩) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তার দেখা সকল কোন দেশের চেয়েও সুন্দর স্পেশালি সী-বিচ।
এইটুকু বলে থেমে গেলে আর কোন পয়েন্ট বলতে পারলো না।

মনে মনে ভাবলাম, মিঃ রহমান তাহলে পনের জনের গ্রুপকে টিকেট দিয়ে নিয়েছে যেভাবে সবাইকে ক্লাবের মদ আর টিকেটের টাকা দিতো তাহলে কিভাবে কনফার্ম হওয়া যায়! মেয়েটা যদি আবার মাইন্ড করে বসে। বুদ্ধি করে বললাম। তাহলে বাংলাদেশে অনেক মজা হয়েছে সেই সাথে আমাদের দেশের মানুষ ও ফুড সম্বন্ধে আইডিয়া পেয়ে গেলে। সে বললো বাংলাদেশের ফুড খুব চমৎকার। তাহলে কি আবার ছুটির সময় বন্ধুকে দেখতে যাবে ? অবশ্য আমাদের দেশে যেতে প্লেনের ভাড়া অনেক! সে অবাক হয়ে বললো, তাই নাকি কত পাউন্ড নেয়? আমি বোকার মতে হেসে হেসে বললাম,তোমার তো সেটা জানা লাগবে না। এটা আমাদের ট্রেডিশন কাউকে দাওয়াত দিলে ভাড়াসহ নিতে হয়। এদেশে দেখো না রেস্টুরেন্ট খাবার পর সবাই বিল ভাগ করে দেয় আর আমাদের দেশের হেড অফ ফ্যমেলি সব ম্যানেজ করে। সে হাসলো এটি কি বিদ্রুপের হাসি নাকি তৃপ্তির হাসি জানা হলো না।
একজন বিদেশীনী যা দু'সপ্তাহের ছুটিতে বুঝতে পারলো তা অভাগা জাতি দু'শ বছরের গোলামী থেকেও বুঝলো না।

নোটঃ
১) বাংলাদেশে মুসলিম বিয়েতে যে অপচয় হয় তা নিঃসন্দেহে লোক দেখানো আয়োজন ছাড়া কিছু নয়।
২) কিছু সংখ্যাক লোক বাংলাদেশে যে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তা বহু দেশের রাজা বাদশাকেও হার মানাবে।
৩) যথাযত পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশে পর্যটন খাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হতে পারতো।

সঞ্চিত অভিজ্ঞতার নোট -০১
সঞ্চিত অভিজ্ঞতার নোট -০২
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৭:২৬
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সদ্য প্রেমে পরা বর্হিমূখি প্রেমিকা'কে বশীকরণের অব্যর্থ কৌশলঃ-

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:২৫



নতুন প্রেমে পড়েছেন কিন্তু সদ্য প্রেমে পরা প্রেমিকার মতিগতি ঠিক আন্দাজ করতে পারছেন না?
.
মোবাইলে যখন তখন প্রেমিকা'কে ফোন করলে লাইন বিজি দেখায়, ধরেও না! আবার কারণ জিজ্ঞেস করলে উল্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বের অপেক্ষায় বসে থেকো না, তুমি তোমার কাজ করে যাও

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:৫৪




আমি খুব ফুর্তিবাজ মানুষ।
যতদিন বেঁচে থাকব হাসি আনন্দ নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই। আচ্ছা, আমি যদি হুট করে মরে যাই? তখন মানুষ আমার বিচার করবে- লোকটা ভালো ছিল, কেউ বলবে লোকটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নভোনীল (পর্ব-১২)

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৩ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৩৮

আমেরিকায় স্কুল, ইউনিভার্সিটি খোলা নিয়ে রাজনৈতিক যুদ্ধ চলছে!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৩ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৫১



বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ ও ইউনিভারসিটি খোলা নিয়ে সরকারী কোন নির্দেশ দেয়া হয়েছে? আমি মিডিয়ায় কিছু দেখিনি, আপনারা এই ব্যাপারে কি জানেন? পড়ালেখা নিয়ে সরকার বা মা-বাবা, কারো মাথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ গোধূলির গান

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:৫১

সকল গোধূলিই কি বিষণ্ণতার প্রতিচ্ছবি?
সকল গোধূলিতেই কি মূক হয়ে যান কবি?
ক্লান্ত সূর্য অস্ত যায় আবির ছড়িয়ে চারিদিকে
সেখানেও কি বিষণ্ণতার বর্ণ ছড়িয়ে থাকে?

পাখিরা ফিরে এসে গান করে আপন নীড়ে
সে গানও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×