আমার মনে হয় দেশপ্রেমের চাইতেও আগে দরকার বা বেশি দরকার ভাষার প্রতি প্রেম আর ভালবাসা।
আমরা জাতি হিসাবে ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছিলাম আগে আর দেশের জন্য পরে লক্ষাধিক প্রাণ দিতে কষ্ঠ হয়নাই।
বাংলাভাষা বলতে কষ্ট হয়, ইয়ো বেবি, ওহ সিট যত তারাতারি বের হয় অন্য বাংলা শব্দ বের হতে কোষ্টকাঠিন্ন্য হয়।
আবার বাংলা কম বলতে পারা সেতা আরেক আধুনিকতার নাম। ওহ ইউ নো, আমি কিচু কিচু বাঙলা বোলটে ফারি..!!
আর প্রমিত বাংলা ভাষাটা তো হাজারে খুজলেও ভাই, লোম বাছতে কম্বল উজারের মত অবস্থা।(যদিও প্রমিত বাংলা ভাষা এখনকার পোলাপানের কাছে ভিনগ্রহের কোন ভাষা হিসাবে পরিচয় করায়া দিলেও তারা বিনা বাক্যে মাইনা ফেলবে।)
আমাদের কোন দোকান, খাবারের দোকান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পাওয়া যাবেনা যে বাংলা কোন নাম রাখছে, সব ইস্ট থেকে অয়েস্ট আর সাউথ থেকে নর্থ কোন কোনা -কানচি বাদ রাখে নাই। কেরে ভাই বাংলায় কি নামের অভাব পরছে, পদ্মা ইউনিভার্সিটি, মেঘনা ইউনিভার্সিটি, কীর্তনখোলা……….. ইত্যাদি….ইত্যাদি….
সব যায়গায় আজিরা কামে ইংরেজি ব্যবহার করছে, বিয়ের কার্ডে, পোস্টারে, বিজ্ঞাপনে,আরে ভাই তোর বিজ্ঞাপন তো আর বাইরের কেউ দেখতাছেনা। বাংলাদেশের দোকান ক্রেতা বিক্রেতা দুজই বাঙালী, আবার কিনতাছেও বাঙলাদেশের কোন কিছু যেমন ধরেন পালংশাক বা কচুর লতী, সে যায়গায় ও ইংলিশ মাইরা দেয় আলতো করে পাউরুটির উপর মাখনের মত।
ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, হিন্দি, উর্দূ আমি সব ভাষা ব্যবহারের পক্ষে। যাগামত ব্যবহার কর। আর হৃদয়ের বাম পাশে থাকবে বাংলা।
>>বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার তো সব ভাষার উপর দখল ছিল,২৪টি ভাষা তিনি আয়ত্ত করেছিলেন, ১৮টি ভাষার ওপর তার অসাধারণ পান্ডিত্য ছিল। সে তো বাঙলা বলা ছারে নাই।দোহাকোষ সম্পর্কে গবেষণা করে তিনি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি লিট ডিগ্রী লাভ করে। ইউরোপ অবস্থানকালে তিনি জার্মানির ফ্লেইবাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত ও আরবি ভাষা নিয়েও পড়াশুনা করেন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মাতৃভাষাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসতেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে তাঁর রয়েছে অনেকগুলো মূলবান গবেষণাগ্রন্থ। এ বইগুলো বাংলাভাষা ও সাহিত্য ভালোভাবে বুঝতে আমাদের সাহায্য করে। তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ ও প্রবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৪০টি। এছাড়া তিনি ৪১টি পাঠ্যবই লিখেছেন, ২০টি বই সম্পাদনা করেছেন। বাংলা সাহিত্যের উপর তাঁর লিখিত প্রবন্ধের সংখ্যা ৬০টিরও বেশী। ভাষাতত্ত্বেও উপর রয়েছে তাঁর ৩৭ টি রচনা। অন্যান্য বিষয়ে বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮০টি। এছাড়া তিনি তিনটি ছোট গল্প এবং ২৯টি কবিতাও লিখেছিলেন।ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন – “যে জাতি তার ভাষাকে শ্রদ্ধা করে না সে জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়”।
>>আমাদের যুবক আর তরুন ভাই ও বোনদের সব ভাষার পারদর্শিতা থাকবে আবার আমরা আমার মায়ের ভাষা বাংলার জন্য জীবন দিতেও তৈরি আছি। এটা থাকলে দেশের প্রতি আরে ভালবাসা জন্মাবে।
সরকারের ভুমিকা যদিও আছে তবুও আমাদের পরিবার থেকে আজিরা বিদেশি/অপ-সংস্কৃতির!!! কাট-কপি-পেস্ট না মেরে শিখড়ের সন্ধান কার উচিত।
>>আমরা সবাই আমাদের ভাষাকে শ্রদ্ধা করতে শিখি আর নিজের মায়ের মুখের শেখা ভাষা ইচ্ছামত প্রান খুলে, গলা ছেড়ে সব জায়গায় ব্যবহার করতে চাই। তুমি চান্দু যতবড় মাল্টিন্যাশনাল কুম্পানি হও না ক্যারে আমি বাংলায় তোমাগে লগে কথা কমু। এটা আমার অধিকার আমি আমার ভাষাকে ভালবাসতে চাই, আমি আমার দেশকে ভালবাসতে চাই, আপনারা আমাকে সুযোগ করে দিন। হাজার বছরের ইতিহাসের শিখড় ডে ভাষাতে তা নষ্ট হতে দিয়েন না কেউ। সবাই আমরা সচেতন হই।।।।
জয় বাংলা.......জয় বাংলাদেশ…….
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



