একটা চিন্তা বেশ কিছুদিন ধরেই মাথায় ঘুরছে। হালকাপাতলা ঘুরাঘুরির করার ইচ্ছা থাকার সুবাদে দেখেছি যে প্রতন্ত অঞ্চলের মানুষেরা কি বঞ্চিত! আমরা হয়ত দুই একদিন ঘুরতে যাই সেখানে কিন্তু তাদের সারাবছর থাকতে হয়। বাংলাদেশের বাসিন্দা হয়েও তারা অনেক স্বাভাবিক সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত। কেওক্রাডং যাবার পথেই পড়ে দার্জিলিং পাড়া । মোটামুটি বড় একটা পাড়া । কিন্তু সেখানে বাচ্চাদের পড়াশুনার জন্য ভালো কোন ব্যবস্থা নেই। ইউনিসেফের একটা স্কুল আছে নাকি কিন্তু সেখানে খুব একটা পড়াশুনা হয় না। কিংবা সিলেট শহর থেকে খুব কাছেই খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের চা বাগান। যেটাসিলেট শহর থেকে এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও সেখানে একটা ভালো স্কুল নেই। আচ্ছা এমন একটা সিস্টেম যদি দাঁড়া করা যায় যে ইউনিভার্সিটি লেভেলের ছাত্রছাত্রীদের কিছুদিনের জন্য ওখানে গিয়ে থাকার সুযোগ করে দেয়া হলো, সপ্তাহখানেক থেকে শুরু করে মাসখানেক। ওরা নিজের খরচে অই এলাকায় থাকবে, স্থানীয়রা শুধু ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দেবে । এবং ওরা গিয়ে লোকাল বাচ্চাদের পড়াবে। এতে কিছুদিনের জন্য অই এলাকায় থেকে লোকাল লাইফ এক্সপেরিয়েন্স করার সুযোগ হবে শিক্ষার্থীদের । আবার স্থানীয়দের ও কিছুটা উপকার হবে। বিভিন্ন কলেজ , ভারসিটি বা মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন পরীক্ষা বছরের বিভিন্ন সময়ে হয় । এবং পরীক্ষার শেষের সবাই কমবেশি ছুটি পায়। বিভিন্ন টুরে যায়। আগ্রহী সবাইকে যদি একটা সিস্টেম বা প্লাটফর্মের আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে কিন্তু একটা সামগ্রিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোকে সারা বছরই চালু রাখা যবে ,এবং ভার্সিটির ছেলেমেয়েদের ঘোরাঘুরির সুযোগ ও হবে। ব্যাপারটায় দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারে। ব্যাপারটার নাম দেয়া যেতে পারে ন্যাশনাল সার্ভিস বা এই টাইপ কিছু। যারা এতে অংশ নিল তারা তাদের সময় শেষে একটা সার্টিফিকেট পেল যেখানে উল্লেখ করা থাকবে যে সে কতদিন ফ্রি তে জাতিকে সেবা দিল বা এই ভলান্টারি ক্যমপেইনে অংশ নিল। ব্যাপারটাকে তুলনা করা যেতে পারে তাবলিগ জামাতের চিল্লার সাথে । আমি দেখেছি আমাদের অনেক ব্যাচমেট প্রফের পরের সময়টাতে ১ সপ্তাহ, ১৫ দিন , ১ মাস বা দুই মাসের চিল্লায় যায়। এই টাইপ করে যদি দেশের সব ভার্সিটি লেভেলের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে তারা বুঝতে পারবে যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরা কি কষ্ট করে জীবন যাপন করে। এ শিক্ষার্থীরাই কয়েকদিন পরে বিভিন্ন পেশায় যোগ দেবে । তখন তাদের এই কিছুদিনের অভিজ্ঞতা তাদের দেশের মানুষ, সাধারণ মানুষদের প্রতি আর বেশি দরদি ও করে তুলতে পারে।
আমার মাথায় অনেকদিন ধরে আইডীয়াটা ঘুরছিল। তাই শেয়ার করলাম। কেউ কি জানেন যে বাংলাদেশে এমন কোন সিস্টেম কি চালু আছে কিনা অথবা এমন কিছু চালু করতে হলে কি করা দরকার?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





