somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামানুষ

১৮ ই জুন, ২০২০ ভোর ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ইদানিং খুব মনে হয় এই করোনাকাল আসলে আমাদের বয়সকালের 'ডিফাইনিং মোমেন্ট' । স্পানিশ ফ্লু, প্রথম আর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ , হিরোশিমা-নাগাসাকি কিংবা বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম- আমার মনে হয় বিভিন্ন জেনারেশন তাদের জীবদ্দশায় কমপক্ষে একটা এমন 'ডিফাইনিং মোমেন্টের' সম্মুখীন হয়েছে। আমাদের যাদের মস্তিস্কের কুঠুরিতে অল্প কিছুটা হলেও মগজ অবশিষ্ট আছে , আমরা যারা কখনো একবার হলেও সেই মগজটা খাঁটিয়ে আশেপাশের সমাজ সভ্যতা পরখ করতে চেয়েছি তাদের অনেকেরই একবার হলেও মনে হয়েছে -এই সমাজ-সভ্যতা মেরামতের অযোগ্য । যদি না হুট করে কিছু এসে সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে যায়। এই করোনাকাল হল সেই লন্ডভন্ড করার মৌসুম। এমনটা আশা করাই বাতুলতা যে এই মহামারী যখন শেষ হবে তখন শুধু যারা ভাল তারাই টিকে থাকবে। এই বানের স্রোতে ভেসে যাবে এবং ইতমধ্যে যাচ্ছে সমাজের সব স্তরের মানুষ। এই মহামারী আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে আসলে সমাজের কোন কোন স্তরে পচন ধরেছে। এই মহামারীতে আমরা নিজেদের কোল্যাটেরাল ড্যামেজ বলে নির্দোষ সাজার আসলে কোন অবকাশই নেই । নজরুল বলেছেন ' দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা , শুধিতে হইবে ঋণ'। এখন সময়টা আমাদের ঋণ পরিশোধের। সমাজের হিস্যা হয়েও যখন আমরা চুপ ছিলাম আর কেউ আমাদের ভোট চুরি করেছে, কেউ রডের বদলে বাঁশের পিলার গড়েছে, হাসপাতালের বরাদ্দের টাকা মেরেছে , বিনা বিচারে মানুষ মেরেছে , বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের আদব কায়দা শেখানোর ছলে খুন করেছে , খাবারে ভেজাল দিয়েছে আর আমরা পা চাটতে চাটতে নিজেদের জিহবা সমতল করেছি কারণ এই পরিস্থিতিগুলোর একটাও তখন আমাদের সরাসরি আঘাত করেনি। এখন সেই চুপ থাকার মাশুল দিচ্ছি আমরা সবাই। কারো মা ,বাবা, দাদা, দাদী , স্ত্রী কিংবা সন্তান আজ মরে যাচ্ছে । একটুকু অক্সিজেন এর অভাবে পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে শেষ নিঃশ্বাস ফেলছে। আমাদের সিস্টেমের কোন কোন জায়গায় আসলে ঝামেলা সেটুকু বোঝার জন্য আপনার খুব কাছের একজনের এই মহামারিতে অসুস্থ হওয়াই যথেষ্ট।
আমি খুব বিনীতভাবে আপনাদের সবাইকে নিজ নিজ হাত দেখতে বলব। দেখবেন সেই হাত রক্তে টকটকে লাল হয়ে আছে । এতগুলো মানুষকে খুন করার রক্ত । এই মহামারীও যদি আপনাকে সেই রক্ত দেখার চোখ তৈরি করে দিতে না পারে তাহলে আপনার আসলে নিজেকে মানুষ ডাকা উচিত কিনা তা নিয়ে আবার ভাবুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২০ ভোর ৫:১৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুকেশ আম্বানি । বিশ্বের চতুর্থ ধনী

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১১:৪৩



ধীরুভাই আম্বানি , রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা যার কথা পড়ছিলাম ১৯৯৮ সালে ঢাকার একটি পত্রিকাতে । ১৯৭৪ সালে তার কোম্পানির ১০০ রুপির শেয়ার তখন ১৯৯৮ তে ৮০০০০ আশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

৯ আগস্ট ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসঃ চাই আদিবাসী হিসেবে তাদের স্বীকৃতি

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১২:৩৩


আজ ৯ই আগষ্ট'২০২০ ইং ২৬তম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। । এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের ঘোষণা হচ্ছে COVID-19 and indigenous peoples resilience. যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘কোভিড-১৯ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরণখাদ (প্রথম পর্ব)

লিখেছেন ঐশিকা বসু, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:২৩

সত্যস্বর পত্রিকার একটি প্রতিবেদন
২৩শে অক্টোবর, ২০০৮
অমরগিরিতে যুবতীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদন – অমরগিরিতে সাগরের উপকণ্ঠে এক যুবতীর ক্ষতবিক্ষত দেহকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিখা দাস নামে ঐ যুবতী স্থানীয় একটি ধাবায় কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলোহীন প্রদীপ একজন নয় এমন আরো বহু আছে বাংলাদেশে।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ২:৫৭

জেলে ভাল আছেন ওসি প্রদীপ বাবু। বাবুর মতোই ফুরফুরে মেজাজে দিন পার করছেন । তিনি জেলকর্মীদের সঙ্গে হাসিখুশি কথা বলছেন। তাদের কাছে শুধু একা থাকার সুবিধা চেয়েছেন। ওসি প্রদীপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাস্কো দা গামা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২১



যুগ যুগ ধরে নানা দেশের, নানা জাতির লোকেরা ভারতে এসেছে, ভারতকে শাসন করেছে, বসতি স্থাপন করে থেকেছে। বছরের পর বছর এদেশে থাকতে থাকতে তাদের রীতি-নীতি, আদব-কায়দা, শিল্প-সংস্কৃতি-ভাষা, খাওয়া-দাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×