সময়টা জানু্য়ারী ২০০৯...
আর মাত্র ১মাস বাকি আমার এসএসসি পরীক্ষার।
গল্পের বই পড়ার ভূত সবসময়ই মাথায় থাকতো। পড়ার বইয়ের নিচে,এমনকী খাটের নিচে গিয়ে পড়তাম গল্পের বই। আমার এই বই পাগলামী ছিলো আমার বাবার চিন্তার অন্যতম কারণ। পরীক্ষার যেহেতু আর ১মাস বাকি ছিলো তাই বাবা একদিন আমাকে ডেকে বোঝালো যে গল্পের বই পড়ার অনেক সময় আমি পরীক্ষার পর পাব। এখন যেন মন দিয়ে পড়ি। কিন্তু ঐ যে "চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী"....
সেইদিনই বিকেল বেলা স্যার এর বাসায় এক্সট্রা পড়া আছে বলে বাসা থেকে বের হলাম। সোজা গেলাম পল্টন এর রোডসাইড পুরোনো বইয়ের দোকানগুলোতে।
যে যে বই কিনেছিলাম:
১)জোছনা ও জননীর গল্প-হুমায়ূন আহমেদ
২)দ্য দা ভিঞ্চি কোড-ড্যান ব্রাউন
৩)গল্প সমগ্র-হুমায়ূন আহমেদ
বইগুলো যথেষ্ঠ মোটা ছিলো,আর তাই বাসায় আসার সাথে সাথে বাবার কাছে ধরা পড়ে গেলাম এবং বইগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বাজেয়াপ্ত করা হলো। অনেক চেয়েও বইগুলো তখন বাবার কাছ থেকে নিতে পারিনি। তারপর পরীক্ষার ব্যস্ততায় একসময় ভুলেই গেলাম বইগুলোর কথা।
কিছুদিন আগে পূজা ও ঈদ উপলক্ষে ১২দিন ছুটি ছিলো। করার মতো কোনো কাজ না পেয়ে বাবার পুরোনো সুট্যকেস ঘাটাঘাটি করছিলাম আর তখনই দেখতে পেলাম সেই ২০০৯সালে কেনা বইগুলো। বাবা খুবই যত্ন করে রেখে দিয়েছে। কি যে খুশি লেগেছিলো!
হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে কিছু কিছু মানুষ সস্তা দরের লেখক বলে। আমি তাদেরকে বলব উনাকে নিয়ে কিছু বলার আগে make sure that you've read 'জোছনা ও জননীর গল্প', এতো অসাধারণ বই আমি খুব কমই পড়েছি।
এলোমেলো কথা শেষ করবো 'জোছনা ও জননীর গল্প' বইটির শেষ কয়েকটি লাইন দিয়ে...
" বাংলার মাটি পরম আদরে তার বীর সন্তানকে ধারণ করেছে। জোছনার রাতে সে তার বীর সন্তানদের কবরে অপূ্র্ব নকশা তৈরি করে। গভীর বেদনায় বলে, আহারে! আহারে!"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


