আজ আমার মাম্মির ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৭ সালের ৪ঠা নভেম্বরও মঙ্গলবার ছিল। আর আজ তো পবিত্র আশুরা। মাম্মির জন্য প্রতি বছরই এই দিনে রোজা রাখি। কিন্তু এ বছর আশুরা'র রোজা রাখতে হল। আল্লাহ'র কাছে দোয়া করি যেন আমার রোজার সওয়াব মাম্মিকে দেওয়া হয়।
আমার মাম্মি খুবই সাধারণ মানুষ ছিলেন। গরিব-দুঃখীদের প্রতি তার মমতার শেষ ছিল না। খুব ছোট ছিলাম তখন,তারপরও মনে আছে মাম্মি আশেপাশের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। প্রতি শুক্রবার মিলাদের আয়োজন করতেন।
এতো ভাল মানুষের গায়েই বাসা বাধঁলো লিভার ক্যান্সার নামক সেই সময় এর দুরারোগ্য ব্যাধি। অনেক চিকিৎসাও করা হল। কিন্তু সেগুলো সবই ছিলো মনকে বোঝ দেওয়া।
মাম্মি যখন মারা যাচ্ছিলেন তখন বড় আপু আর মেঝো আপু ছিল স্কুলে (তারা তখন যথাক্রমে ক্লাস ৮ এবং ক্লাস ৪ এ পড়তো)। ছোট ভাইটার বয়স তখন মাত্র দেড় বছর আর সে তখন ঘুমাচ্ছিল। ভাই-বোনদের মধ্যে তাই মাম্মি'র মৃত্যুর সময় শুধু আমিই ছিলাম,৪ বছর এর এক বাচ্চা মেয়ে। যে বারবার তার নানু'র কাছে জানতে চাচ্ছিলো মাম্মি এমন করছে কেন। এই জানতে চাওয়ার মাঝেই মমতাময়ী মা শেষবার এর মত তার টুকটুকির হাত ধরে বলল,বাবুকে দেখিস রে টুকটুকি।
৪বছর বয়সী মেয়ের হাতে দেড় বছর বয়সী ছেলের দায়িত্ব দিয়ে গেলেন। আজও সে দায়িত্ব পালন করছি। জানি না মাম্মি সেতা জানে কিনা।
আমার মাম্মি বড় নিঃসঙ্গ অবস্থা্য় মারা গেছেন। আমি ছাড়া অন্য মেয়ে আর একমাত্র আদরের ছেলে কেওই ছিল না তার পাশে তার শেষ সময়ে। বাবাও ছিল না। বাবা তখন ছিলেন কুয়েতে। কত কষ্টই ছিল তার মনে।
আল্লাহ'র কাছে তাই সেই ছো্টবেলা থেকে এখন পর্যন্ত আমরা সব ভাই-বোন একটাই দোয়া করি "মাম্মি যেন সবসময় ভাল থাকেন। জান্নাতবাসী হন। শ্রেষ্ঠ সব মানুষদের আসনের পাশে যেন আসীন হন।"
তোমার টুকটুকি তোমাকে অনেক ভালবাসে মাম্মি। অনেক ছো্টবেলায় ছেড়ে গেছো তুমি। তারপরও কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে তোমার কোনো স্মৃতিই আমি ভুলে যাইনি। অনেক মিস করি মাম্মি তোমাকে।
ভালো থেকো মাম্মি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



