জ্বীনের বাদশা বলে কথা। তার হুকুম অমান্য করে সাধ্য কার। কু-আছর পড়বে সন্তান ও পরিবারের ওপর। ওলট-পালট করে দিবে সংসার। স্মৃতিভ্রষ্ট করে বানিয়ে দিবে পাগল। এক থাপ্পড়ে কেড়ে নিতে পারে প্রাণ। এই বদ্ধমূল উদ্ভট বিশ্বাসে ভীত সাইদুল মোবাইল ফোনে জ্বীনের বাদশার হুকুম পেয়ে তা তামিল করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। স্বর্ণালংকার, গোলার ধান, আবাদী জমি ও বীজতলার ধান চারা বিক্রি করে দ্রুত ৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করে জ্বীনের বাদশার দূতের হাতে তুলে দেন। তবে সদয় বাদশা সাইদুলের কাকুতি-মিনতিতে ১২ হাজার টাকা কম নিয়েছেন। এই কথা মানব জাতির কারো কাছে প্রকাশ করলে বংশকে নির্বংশ করে দিবে বলে বাদশার হুমকিতে এ বিষয় সাইদুল অন্য কাউকে বলেননি। এলাকার কারো কারো প্রশ্নের উত্তরে কুয়েত যাবার জন্য সম্পত্তি বিক্রি করছের বলে জানান।হবিগঞ্জ জেলার, বানিয়াচঙ্গ উপজেলায়, গরীব হোসেন মহল্লায়, সাইদুলের বাড়ি। বয়স ৪২ বছর। ২ সন্তানের জনক। পেশায় কৃষক। সাদা-সিদে সরল প্রকৃতির লোক। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে অপরিচিত নাম্বার থেকে তার মোবাইল ফোন নাম্বারে ফোন আসে। পরিচয় জানতে চাইলে জ্বীনের বাদশা ফরহাদ বলে পরিচয় দেয় এবং জঙ্গল ঘেরা ‘পুতা’ বাড়িতে তাদের ৭শ’ বছরের আস্তানা বিনষ্ট করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় তার হাবেলীর ২১ হাজার জ্বীন রুষ্ট হয়ে ওঠেছে। এখন যে কোন সময় সাইদুলের সন্তানসহ তার বংশকে নির্বংশ করে দিবে বলে শাসায়। সরল সাইদুল এ থেকে বাঁচার উপায় জানতে চাইলে জ্বীনের বাদশা উপায় বলে দেয়। ‘নিয়মিত নামাজ পড়বে, মিথ্যা বলবে না, কারো আমানত খেয়ানত করবে না এবং আমার হাবেলিতে শিরনী করার জন্য ৩ লাখ টাকা ৩ সপ্তাহের মধ্যে ৩ কিস্তিতে প্রদান করবে। আর এ কথা মানব জাতির কারো কাছে প্রকাশ করলে নির্বংশ হয়ে যাবে। জ্বীনেরা সব সময় তোর পাশে থাকবে’। এসব কথা বিশ্বাস করে সাইদুল ২ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৭ কেদার জমির সাকুল্য ইজারা দিয়ে এবং বীজতলার ধানচারা ও গোলার ১শ’ মণ ধান বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা জোগাড় করে জ্বীনের বাদশার হুকুমমতে ঢাকার জয়দেবপুরের চান্দূরার সোহাগ পল্লীর নির্জন স্থানে বাদশার দূতের কাছে ৩ কিস্তিতে ১৪, ২১ ও ২৮ ডিসেম্বর টাকা প্রদান করেন। অনেক অনুনয়-বিনয় করে ১২ হাজার টাকা কম দেন। সাইদুল জানায়, আমার পরিবারের ঘটে যাওয়া পূর্বের ঘটনা বলায় এবং তার আধ্যাত্বিক কথাবার্তায় আস্থাশীল হয়ে উঠি। তার হুকুমে সর্বস্ব বিক্রি করে তামিল করি। এই জ্বীনের বাদশা পরিচয়দানকারী প্রতারক প্রায়সময়ই ০১৭৪৬৪৯৬৪৭৭ নাম্বার থেকে ফোন করতো। গত ৬ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টে বগুড়ায় প্রতারক জ্বীনের বাদশাসহ ৩ জন র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে জেনে বুঝতে পারি আমি প্রতারিত হয়েছি। সর্বস্ব খুইয়ে এখন কেবল মাথা থাপড়াচ্ছি। সাইদুলের ধারণা বগুড়ায় ধৃত ব্যক্তিরা তার ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। সে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাহায্য চায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


