
কবিতায় আসক্তি, ক্লান্ত দুপুরের ঘুঘুর ডাক ,ভোরের স্নিগ্ধতা ,সবুজ ঘাসের আলতো আদর , স্বপ্ন সরলতায় ভরা কিশোরীর চোখ অথবা ফাগুনের কৃষ্ণচূড়ায় এক ধরনের মাদকতা। মাদকতা থেকে যায় প্রিয়ফুলের সৌরভে অথবা প্রিয় সুগন্ধিতে! অসম্ভব সুন্দর একটা গানের সুর আমাদের যতখানি আবেশিত করে, কয়েক লাইনে কী বোর্ডের সুতোয় বোনা গল্পের হাতছানি ও পুরুপুরি একটা দিন কে অনন্য মাত্রায় নিতে পারে। এ সব ই হচ্ছে সুন্দরের প্রতি, নান্দনিকতার সাথে আমাদের সখ্যতা, আমাদের ভালোবাসা। যে ভালোবাসা’ র অনুরণন আমাদের ছুঁয়ে দেয় যোজন যোজন দূরের সব সব মাহাজাগতিক দূরত্ব ভেদে। এবং সব কিছু ছাপিয়ে আমাদের মন আর মন জাগতিক আশ্রয় সেই ভালোবাসার ঘ্রাণে, আমরা আসক্ত ভালোবাসার সৌরভে।
আমি হচ্ছি একজন সাধারণ মানের পড়ুয়া একদম ট্রুলি ডিপ্লি ম্যাডলি। যতক্ষণ না মাথায় শব্দের ঝিঁঝিঁ তীক্ষ্ণ শোরগোল তোলে, ততক্ষণ তা পাতায় আসে না, চৈতালি মাতাল হাওয়া আর খরতাপ মিলেমিশে একাকার হবার মত আমার লেখক সত্ত্বা আর পাঠক সত্ত্বার, আজন্ম সখ্যতা। তবে পড়ুয়া আমি প্রতিদিনের অভ্যাসে। তাই গুনেগুনে অনেকদিন পার হয়ে যাবার পর ও প্রিয় কিছু ব্লগারের অনবদ্য সৃষ্টি এই বই মেলায় এবং আগের মেলায় সংগ্রহ করার পর ও সে অভিজ্ঞতা পাতায় উঠে আসে নি।
২০১৭ সালে আমার এক লেখায় সাম্মানিত একজন ব্লগার মন্তব্য করেছিলেন।


আমার নিজের ও অনেকের লেখায় এমন সব মন্তব্য রয়ে গেছে। তবে অনুপ্রেরণা র উৎস যাই থাক, সেই উৎস মুখ থেকে উৎসারিত শব্দের ঝর্ণাধারায় কিন্তু মন শীতল করা কিছু ভিন্ন স্বাদের গল্প।
ব্লগার( মলাসইলমুইনা )খন্দকার নাইমুল ইসলাম, আমাদের সামনে নিঃসন্দেহে দারুণ ভাবে নিজেকে অন্য এক মাত্রায় প্রকাশ করেছেন। আকাশ গঙ্গার তারাদের মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে রেখেছিলেন মনজুড়ে মন চুরির গল্প। সব গল্পেই দিনশেষে হয় প্রজাপতি মন, তপসে তাপস মন অথবা নীলফুল জোছনায় আহত মন। ব্লগে হয়তবা আমাদের লেখায় খুব বিশেষ ব্লগারদের চোরকাঁটা মন্তব্যে নিরুৎসাহিত হয়ে আমাদের কে কেবল সিরিয়াস মাস্টার লুক ই দেখিয়েছেন। একদুই মিলে বারোটি গল্প’ র বৈচিত্র্য প্রকাশিত বই, জলের আয়নায় আঁকা জলছবির মতোই মুগ্ধ পাঠ আমার। আমি কিন্তু অন্ধ পাঠক নই, আমার লেখায় কেবল মুগ্ধতা টুকুই থাক।
বই এর সবচেয়ে শেষ গল্প, ভালোবাসার ঘ্রাণ! লেখার শুরু যদি মনে করতে পারেন, তাহলে নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে ফেলেছেন, আমার মত গল্প মি-টাইপ লেখার মত গল্প। যা কিনা একেবারে শেষ চৈত্রে আউলা বাতাসে মন জুড়ানোর মতোই। জলছবি’ র বিন্যাস আমাদের ব্লগ কে ঘিরে, পাশাপাশি উঠে এসেছে সময়ের চিত্র, সময়ের কাছে পরিস্থিতির কাছে আমাদের অসহায়ত্বের কথা।
আকাশ গঙ্গার তারায় উঠে আসা মিঠেল প্রেমের অনুভব বহুক্ষণ আবেশিত করে রাখে মন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে আসা জুটিদের প্রায় সবার মনের এমন কিছু অপার্থিব আলোয় স্নানের কল্পনা জমা থাকে। ক্যাম্পাসের এমন পাশাপাশি বয়ে চলে প্রেমের গল্পের মাঝে এ গল্প ই কেন লিখে রাখার মত গল্প হয়ে উঠল!!! সেটুকু আপনাদের বই পড়েই জানতে হবে।
প্রত্যেকটা মানুষ' ই নিজের কাজের পেছনে চমৎকার সব যুক্তি খুঁজে আনেন, ভালো থাকা নিজেকে ভাল রাখার জন্য’ ই সেটুকু প্রয়োজন। আবার কিছু অলীক বিশ্বাস বেঁচে থাকা টুকু আনন্দময় নিজের কাছে অর্থবহ করে, আশা শব্দে যাকে আমরা অভিহিত করি। জ্যোতিষী আমার পড়া অন্যতম ভালোলাগার একটি লেখা।
আকাশ গঙ্গার তারা বইটার গল্প, সময় পরিবেশ সবকিছুই আমার খুব কাছের। ব্লগ, বিশ্ববিদ্যালয়, ৯/১১ , ইন্টারনেট, মেইল। প্রিয়বারাসু তে সেই সে সেদিনের মত করে চিঠি। চিঠির পরতেপরতে উঠে আসা একজন একাকী দূর পরবাসী’ র বলতে না চাওয়া, জমে থাকা নীল কষ্ট সবকিছুই আমাকে আমার সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করে।
উহু আমি এখানে বই এর রিভিউ লিখিনি, তুলে এনেছি আমার ভালোলাগা!
সংগ্রহ করতেই পারেন, একজন প্রিয়মুখ ব্লগারের, বেশ আলদা ধাঁচের অবশ্যই সৃজনশীল লেখকের বই হিসেবে। এবং নিঃসন্দেহে সুখপাঠ্য।
ছবিঃ মনিরা সুলতানা।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০২১ দুপুর ১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




