somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেতৃত্ব যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৩:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে । নতুন নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহে নামছেন সংগঠনটির পদবঞ্চিত নেতারা । বিএনপি অফিসের সামনে ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনাও ঘটেছে । নতুন কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত অনেকের বিরুদ্ধে হত্যামামলা, সংগঠনের মিছিলে গুলি , চাঁদাবাজি, বিবাহিত, ঠিকাদার , চাকরিজীবি , দলের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ এমন সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে । নেতৃত্ব যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে এই নেতারা কি করে মনোভাব পোষন করবেন ব্যক্তির চেয়ে দল বড় , দলের চেয়ে দেশ বড় । ছাত্র নেতৃত্বের এই কলঙ্ক যে শুধু ছাত্রদলেই তা নয় । সকল রাজনৈতিক দলের ছাত্রনেতা এই মনোভাব পোষন করেন এমন ছাত্রনেতার সংখ্যা খুব কমই দেখা যায় । যেটা দেখা যায় সেটি হচ্ছে , নিজের দল আঁকড়ে ধরে ক্ষমতায় টিকে থাকা । এর ফলে দল ও দলের নেতা কর্মীদের অন্যায় সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকার প্রবনাতা লক্ষ্য করা যায়। যা বুমেরাং হয়ে নেতৃত্বের উপর আঘাত হানে । নেতৃত্ব জনপ্রিয়তা হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়ে । দলীয় কর্মীদের স্বার্থপরতা এখানে প্রবল । রাজনৈতিক ক্ষমতাকে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের মোক্ষম অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে চায় । তাই তাদের দাবী অবাধ ও অতিমাত্রায় হয়ে দাঁড়ায় । এসব দাবী আদায়ের বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাত, অবিশ্বাস ও হানাহানি দেখা দেয় । দলের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিশৃংখলা আর সেই বিশৃংখলার প্রকাশ ঘটে আইন- শৃংখলা পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে । ফলে নেতৃত্ব অনেক ক্ষেত্রে অসহায় হয়ে পড়ে । এই বিতর্কিত নেতা কি কখনও ভাববেন- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ , যা কোন যৌথ কর্ম প্রচেষ্টাকে সংহত ও পরিকল্পিত উপায়ে সার্থক করতে প্রায়াসী হয় । ছাত্র নেতৃত্ব হলো সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকল ছাত্রদের সহযোগী হতে প্ররোচিত করার কাজ । ছাত্রদের সঠিকভাবে পরিচালিত করে জাতির ললাটে গৌরবের জয়টিকা পরাতে ছাত্রনেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব অত্যাবশ্যক । জনপ্রিয় নেতাই গণতন্ত্রের বাহন ।সন্মোহনী নেতৃত্বকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বলা হয় । এ ধরনের নেতা নানাবিধ পন্থায় অপরকে তার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে । এরূপ ছাত্রনেতার কাজ হল তার প্রতি ছাত্রদের আস্থা গড়ে তোলা এবং সেই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করা । সামাজিক গুণ,জন্মগত গুণ ও সাধনালব্ধ গুণ যোগ্যতার বিকাশ ঘটায় এবং নেতৃত্ব উন্নত ও বলিষ্ঠ হয় । অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, সহনশীলতা, আতœসংযম, কঠোর ও কোমলতা, দুরদৃষ্টি , সুবক্তা, উত্তম শ্রবণকারী , নিরপেক্ষতা , ন্যায়নীতি , দায়িত্ববোধ নেতৃত্বকে আকর্ষণীয় করে তুলে । আমাদের দেশে এমন ছাত্রনেতার সংখ্যা খুবই কম । ছাত্র নেতৃত্ব ছাত্রদের সুখ- দু:খ ও আশা -ভরসাকে এমনভাবে ব্যক্ত করেন যেন তিনি ছাদের বন্ধু, পথ প্রদর্শক ও রক্ষাকর্তা । ছাত্ররা তার কথা ধৈর্য ধরে শোনে এবং গ্রহণ করলে তাকে সমর্থন করে । তার পিছনে কাতারবন্দী হয় । এরূপে নেতৃত্ব যখন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে তখন তিনি ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেন । তাঁর কথাবার্তা শুনে মনে হয় যেন তিনিই ছাত্র এবং ছাত্রদের কথাই তার কথা । সন্মোহী বক্তৃতা দিয়ে নেতৃত্ব ছাত্রদের অবিভূত করে ফেলেন । ফলে তারা নেতাকে তাদের ভাগ্যের নিয়ন্তা ভাবতে থাকে । মনে করে যে, নেতা তাদের মনের কথা ও দাবী অনেক বেশী বুঝেন ও জানেন এবং সে দাবী আদায়ের মাধ্যমে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে দেবেন । এরূপ বিশ্বাস বোধ গড়ে তুলে নেতৃত্ব ছাত্র রায় অর্জন করেন । ছাত্রদের কোন সমস্যা ও সংকট মোচনে নেতৃত্ব যে কর্মসূচী দান করেন তাকে ছাত্র রায় বলে চালিয়ে দেন এবং কর্মসূচীকে গণছাত্ররায়ে পরিণত করার জন্য রাজনৈতিক হাতিয়ার প্রয়োগ করেন । সভা- সমিতি , শোভাযাত্রা , হরতাল , আন্দোলন , ঘেরাও ইত্যাদি হাতিয়ার প্রয়োগ করে এমন অবস্থা সৃষ্টি করে যে, রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচীগুলো ছাত্রদের দাবীতে পরিণত হয়ে যায় । এসব কর্মসূচী ও দাবীর প্রতি ধীরে ধীরে ছাত্রদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে আর দাবী জোরদার হয় । এরূপে নেতৃত্ব রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করে ছাত্ররায় সৃষ্টি করেন , নিজের প্রতি আস্থা গড়ে তোলেন এবং সমাজ ও সরকারকে ছাত্র রায় মানতে বাধ্য করেন । আমরা কত দুর্ভাগা ; আমাদের প্রত্যক্ষ করতে হয় ছাত্ররাই ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে । নেতাদের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যা প্রচলিত সমস্যাকে আরো প্রবল করে তুছৈ । প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টির অভাবের কারণে সমস্যার তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী হচ্ছে না বরং তা প্রকট আকার ধারণ করে দেশকে সংকটের মুখে নিক্ষেপ করছে । নেতৃত্বের দায়- দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার শেষ নেই । সজাগ ও সচেতন ভাবে কাজ না করলে নেতৃত্বের সফলতা অর্জন করা যায় না ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×