somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২রা আগষ্ট সফল হোক।

০২ রা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২ আগস্ট আমার এবং আরো অনেকের জীবনের এক স্মরণীয় দিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই ‘৯০-উত্তর ছাত্রআন্দোলনের ইতিহাসে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জাবি’র ছাত্রসমাজ এই দিনে ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছিল ছাত্রলীগের ‘কিলার গ্রুপ’ ও ‘রেপিস্ট গ্রুপ’-এর সন্ত্রাসীদের। জাবি ক্যাম্পাস হয়েছিল সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত। সে যেন এক নতুন, অন্য রকম ক্যাম্পাস!
এটা ১৯৯৯ সালের কথা। জাবি ক্যাম্পাসে এই সময়টাতে ছাত্রলীগের ‘কিলার গ্রুপ’ ও ‘রেপিস্ট গ্রুপ’ পালাক্রমে দখলদারিত্ব চালাচ্ছে। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের পর ‘রেপিস্ট গ্রুপ’ ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত হয়। এরপর কায়েম হয় ‘কিলার গ্রুপ-এর সন্ত্রাসীদের দখলদারিত্ব।এক পর্যায়ে ‘রেপিস্ট গ্রুপ’ ক্যাম্পাস দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে। ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই (সম্ভবত) চিহ্নিত ধর্ষকদের নেতৃত্বে ‘রেপিস্ট গ্রুপ’ কামালউদ্দিন হল দখল করে নেয়। ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের জন্য ছাত্রলীগের দুই সন্ত্রাসীবাহিনীর যুদ্ধ তথা দখল, পাল্টা দখলের খেলায় শিক্ষার্থীরা বিপন্ন হয়ে পড়ে।
দিনের পর দিন চলতে থাকা দখলদারিত্ব জাবি’র লড়াকু ছাত্রসমাজ মেনে নেয় নি। ১৯৯৮-এর ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের চেতনার মশাল তখনো দাউ দাউ করে জ্বলছে। সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ২ আগস্ট ট্রান্সপোর্ট থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর (অধিকাংশই ছাত্রী) এক ঐতিহাসিক মিছিল বের হয়। রেজিস্ট্রার বিল্ডিং ঘুরে মিছিলটি এগিয়ে যায়। কবির স্মরণী পার হয়ে জঙ্গী এই মিছিলটি এগিয়ে যায় কামালউদ্দিন হলের দিকে। হলের গেটে এবং ছাদে সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছে মিছিলের দিকে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায় লড়াকু ছাত্রসমাজ। সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিছিলটি ঢুকে পড়ে হলের মধ্যে। ঘণ্টাখানেক ধরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলে। তাড়া খেয়ে হলের পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় ধর্ষক-সন্ত্রাসীরা। একে একে অন্য ছাত্র হলগুলোতে এই দুঃসাহসী মিছিলটি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। লড়াকু ছাত্রসমাজের তেজের কাছে পরাজিত হয় সন্ত্রাসীদের মিথ্যা আস্ফালন। রচিত হয় অনন্য এক ইতিহাস। প্রতিষ্ঠিত হয় সন্ত্রাস-দখলদারিত্বমুক্ত জাবি ক্যাম্পাস, যা ছাত্র আন্দোলনে ইতিহাসে নতুন মাত্রা যুক্ত করে।
২ আগস্টের সেই লড়াকু মিছিল আজও আলোড়িত করে। সেই মিছিলের সামনে থাকার এবং সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করার পর অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ আমার হয়েছিল। সেদিনের লড়াইকে স্মরণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ প্রতিবছর ২ আগস্ট ‘খুনী-ধর্ষক প্রতিরোধ দিবস’ পালন করে। সেদিনের লড়াইয়ের সব যোদ্ধাকে বিপ্লবী অভিবাদন। বিপ্লবী অভিবাদন জানাই তাদেরকেও, যারা আজও সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×