somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রব্বানী রবি
হুমায়ূন আহমেদের বই যখন পড়ি, তখন আমার লেখার ইচ্ছাটা জেগে উঠে। আপাতত ছোট গল্প দিয়ে না হয় শুরু করলাম..

ছবির স্মৃতি

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রেললাইনে গিয়ে দেখি বন্ধু রবি মন খারাপ করে বসে আছে। মনে হচ্ছে কি যেনো হারিয়ে ফেলেছে জীবন থেকে।
আমি পাশে গিয়ে বললাম, একটা সিগারেট দে। অন্য কোনদিন হলে, জোর করে নিতে হতো। আজ না চাইতেই দিয়ে দিলো !
বুঝলাম তার আজ মনটা খারাপ হয়ে আছে।
আমি সবসময় ভনিতা করেই কথা শুরু করতাম এটা ওটা নিয়ে। আজ সরাসরি বললাম, কিরে কি হলো? পার্টনার এর সাথে ঝগড়া হইছে?
সে বললো, আচ্ছা, তোর চিন্তা গুলা এমন কেন? পার্টনার ছাড়া মানুষের মন খারাপ হয় না !
আমি কি বলবো, খুঁজে পেলাম না কথা। তাই চুপ মেরে গেলাম
সে কিছুক্ষণ পর বললো, আমার লাইফের স্মৃতির পট হারিয়ে গেলো আজ । রিলের ক্যামেরার সব তুলা ছবি, হারিয়ে গেলো আজ, ভুলের কারণে,, যেখানে ছিলো হাজার হাজার দুষ্টমির ছবি, বাংলার আঁনাচে কানাচে ঘুরাঘুরির ছবি
কথাগুলার বলার পর, তার চোখ ছলছল করে উঠলো, জলে ভেজায়।
সে আবার বললেই লাগলো, মা আজ ভুলে ঘর ঝাড়ার সময়, ছবির এলভাম ফেলে দিছে.. আমি বললাম, সেখানে মনে হয় আমার ও কিছু ছবি আছে ! যেগুলা আমাকে ওয়াস করে দেওয়ার কথা?
সে বললো, হে, কিন্তুু, এখন তো সব শেষ হয়ে গেছে..
এটা শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেলো !
তারপর বন্ধুর থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম।
মন খারাপ নিয়ে টিউশনে গেলাম। ফেরার পথে, লাইফের সবচেয়ে চমৎকার ঘটনাটি ঘটলো..
আমি আমার বন্ধুর এলাকার সামনে দিয়ে যাচ্ছি, তখন একটা টোকাই মন দিয়ে, কিছু একটা দেখছে,, যেটা দেখছে সেটা হচ্ছে একটা ছবির এলবাম,, সে দেখছে আর কাঁদছে
আমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম, আর ভাবলাম এতে কাঁদার কি আছে !
আমি বিষ্ময় নিয়ে সেখান থেকে চলে এলাম।
পরদিন বিকালে, আমি আর বন্ধু রবি, রেললাইনে আড্ডা দিচ্ছি, এমন সময় সেই টোকাই ছেলেটি, সেখান দিয়ে যাচ্ছে..
মজা করার জন্য, তাকে ডাকলাম
এই পিচ্ছি এদিকে আয়
আমারে ডাহেন কেন? তোর নাম কি?
জমির
কই যাস? কাহজ কুঁড়াইতাম
এখানে একটু বোস, তোর সাথে কথা বলি
কেন? আমার কাম আছে, যাই
তোরে দশ টাকা দিবো, বস টাকার কথা শুনে সে বসলো
আমি জিজ্ঞাস করলাম, তুই কালকে ইদ্রিশ পাড়ায়, কাগজ না কুঁড়াই ছবি দেখছিলি কেনো?
আম্নে দেখছেন?
হে সেজন্য ই তো জিজ্ঞেস করলাম
আসলে, আমার মা -বাপ নাই। মইরা গেছে। কাগজ কুঁড়াইতাম যাই, ময়লার ভিতরে ছবি গুলান পাই, তহন, ছবিগুলাত, মা বাপের লগে একখান ছবি দেহি
হেইডা দেহি, আমার মা বাপের কথা মনে পড়ে গেলো। আর ছবিগুলান ও আমি রাহি দিছি, আমার ব্যাগের ভিতরে
আমি বললাম, দেখা না আমাদের
তখন, সো পোটলা খুলে ছবি গুলো বের করলো এবং প্রথম ছবিটা দেখেই রবির মুখ উজ্জল হয়ে উঠলো। আর চিৎকার করতে লাগলো, পাইছি, পাইছি.. আমি বললাম, কি?
হারিয়ে যাওয়া সব ছবি
কোথায়?
এগুলা সব
আমি রবির কথার আগামাথা কিছুই বুঝলাম, সে টোকাই টা ও..
তারপর রবি বুঝিয়ে দিলো, এটা হচ্ছে আমার মা -বাবার ছবি, আর পিচ্ছিটা আমি। এ ছবিটা প্রায় ১৫ বছর আগে তুলা..
পরে ছবিসব গুলা দেখে, নিশ্চিত হলাম এটা রবির হারিয়ে যাওয়া ছবির এলবাম, কারণ, রবির সাথে বান্দরবনে তোলা আমার ও একটা ছবি ছিলো.. টোকাই ছেলেটার আনন্দ আরো বেশি, রবির উচ্ছাস দেখে..
পরে ছেলেটাকে খুশি করার জন্য, ১০০ টাকার একটা নোট দিলাম.. সে খুশি হয়ে সালাম দিয়ে চলে গেলো
পরে অবশ্য, পুরা ১০০ পাকাই কৌশলে বন্ধু থেকে উদ্ধার করি..
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:২৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×