somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জামাতে ইসলাম: ধর্ম, মিথ্যাচার, রাজনীতি

১৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জামাত ইসলামের এক সংসদ সদস্য বলেছিলো তার পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। অথচ তার জন্ম ১৯৮১ সালে।

কী নির্বিকারভাবে ধর্মীয় লেবাস পরে, ধর্মভিত্তিক দলের সংসদ সদস্য হয়ে অবলীলায় নির্জলা মিথ্যা বললেন। অথচ মিথ্যা বলা চরম অন্যায়। ধর্মের চোখে কবিরা গুনাহ।

আজ সকালে ফেসবুকে ঢুকে দেখতেছি, ঐ এমপির বাবা নাকি এখনো বেঁচে আছে। এই সংবাদ দেখে তো হতভম্ভ হওয়ার জোগাড়। এ তো দেখি প্যাথলজিক্যাল লায়ার।

.

জামাত ইসলাম তো কথায় কথায় ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন বুলি আওড়ান। নিজেদেরকে ধর্মের বাস্তব প্রতিরূপ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

জামাতের দায়িত্বশীলেরা কি জাতির সামনে বলা এই মিথ্যুকের বলা মিথ্যার বিচার করবেন?

নাকি নিজের দলের লোক বলেছে বলে, মিথ্যা এখানে জায়েজ আছে!!

.

এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগউঠেছে জামাত ইসলামের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান এর বিরুদ্ধে।

জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।

১১ জুন ২০২৬ রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।

পুলিশের বক্তব্য, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই তরুণী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই তিনি নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

আত্মগোপনে যাওয়ার পর জিসান তাঁর চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজের জিডি করান।

নিখোঁজের অনুসন্ধান চলাকালে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এখানে দেখা যাচ্ছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। বিয়ে যেন না করা লাগে এজন্য সে নিজেই আত্মগোপনের নাটক করেছে।

অথচ আমিরে জামাত বলেছিলো জিসানকে গুম করা হয়েছে।

জামাতে ইসলামীর এই যে মুহূর্মুহু নির্জলা মিথ্যাচার, এগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ হওয়ার পরও দলটির কোন হেলদোল নেই।

ইসলামকে পুঁজি করে ইসলামের বুলি আউড়ে তারা যে অবারিতভাবে অবাঞ্চিত মিথ্যার কারবার করে যাচ্ছে, এটা তো ধর্মকেই ছোট করা!

জিসানের এই কাজকে হালাল করার জন্য শিবিরের আরেক নেতা বললো, সাহাবাদের মধ্যেও নাকি এ ধরণের কাজ কাম হয়েছে। তারা কারো বউ পছন্দ হলে বলতো যে, তোমার বউ আমার পছন্দ হয়েছে।

.

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির এই হলো সবচেয়ে বড় সমস্যা।

সাধারণ সেকুলারভিত্তিক রাজনৈতিক দল যে অন্যায় করবে, সেই একই অন্যায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল করলে ধর্মের দোহাই দিয়ে সে অন্যায়কে তারা বৈধতা দিতে চায়। সাধারণ মানুষ যখন ধর্মের দোহাই শোনে তখন তারা দমে যায়।

এভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে তারা অন্যায় ও মিথ্যাচার করে যেতে থাকে। ধরা পড়লেই ধর্মীয় ফতোয়া টেনে তা বৈধতার ব্যবস্থা করে।

তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে তার বিপরীত রাজনৈতিক দলকেও নাজেহাল করে।

রাজনৈতিক সব ঘটনাকে তারা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে, কিন্তু ধর্মের ব্যাখ্যা তারা তাদের সুবিধা মতোই দেয়।

ধর্মকে কাজে লাগিয়ে এই জামাতের নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করার এই যে প্রক্রিয়া এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া দরকার। কারণ সাধারণ মানুষ ধর্মের কথা শুনলেই গলে যায়।

.

এখানে তো শুধু জিসান আর সংসদ সদস্যের উদাহরণ দিলাম। এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে জামাতের। যেহেতু জামাতের বিষোদগার করা আমার লেখার উদ্দেশ্য না, তাই বিভিন্ন উদাহরণ টেনে তা প্রমাণ করতে চাচ্ছি না।

উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষকে এটা বোঝানো, ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া অন্যায়।

আমার আপত্তি কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে না; আপত্তি হলো ধর্মকে রাজনৈতিক বৈধতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে। ধর্মীয় পরিচয় কোনো ব্যক্তি বা দলের মিথ্যা, অন্যায় কিংবা অসততাকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে তুলে দিতে পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×