somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আনুশকা যেভাবে মারা গেছে তার একটা কাল্পনিক মডেল

১২ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনুশকা যেভাবে মারা গেছে তার একটা কাল্পনিক মডেল

মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রী আনুশকার মৃত্যু কিভাবে হতে পারে তা নিয়ে আমার নিজস্ব ধারণা শেয়ার করছি। এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ। বাস্তব ঘটনা ভিন্নও হতে পারে।

চার বন্ধু পরিকল্পনা করেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে দিহানের বাসায় ডেকেছে। কারণ, দিহানের সাথে মেয়েটির পরিচয় ও সম্পর্ক মাত্র মাস তিনেকের। এতো অল্প সময়ের পরিচয়ে কোন মেয়েই একপ্রকার অপরিচিত একটা ছেলের সাথে শারীরিক মেলামেশা করার কথা নয়।

মেয়েটিকে দিহান কিছু একটা লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকেছে। তার কিছুক্ষন পরই অন্য তিনজন এসেছে। এতগুলো ছেলেকে এক সাথে ঘরে ঢুকতে দেখে আনুশকা ভয় পেয়ে যায়। সে দ্রুত ওই বাসা ছেড়ে পালতে চায়। কিন্তু চারজন মিলে তাকে ঘিরে ধরে, কোথাও যেতে দেয় না।

তারপর, ওকে ছেড়ে দেয়া হবে আশা দিয়ে নেশাজাতীয় কিছু জোর করে তাকে পান করানো হয়। তারপর শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনের শুরুটা হয় স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু, সম্মুখভাগে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তারা বিকৃত যৌনাচারে মেতে উঠে একসময়।

মেয়েটি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে এলে তারা চারজন মিলে কিভাবে এ ভয়াবহ অপরাধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তার বুদ্ধি আটে। তারা প্রেমের সম্পর্কের জেরে দিহান একাই শারীরিক সম্পর্ক করেছে বলে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাছাড়া, স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্কে মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে দিহান অন্য তিনজনকে ডেকেছে বলেও বক্তব্য দেবে দিহান। তারমানে, প্রেমের সম্পর্কের বোঝাপড়ার বাইরে এখানে কিছু ঘটেনি এমন একটা আবহ তৈরী হবে পুরো ঘটনায়। যা ঘটেছে, তা স্বাভাবিক যৌনতার দুর্ঘটনামাত্র।

পরিকল্পনামতো, গ্ৰুপ ধর্ষণ বা, আদৌ ধর্ষণের মতো কিছু ঘটেনি এমনভাবে কাহিনীকে প্রবাহিত করতে শারীরিক সম্পর্কের দায় দিহান একাই কাঁধে নেয়। এ সুযোগে তার তিন বন্ধু তাৎক্ষণিক বেঁচে গেলেও দিহানের নিজেরও ধীরে ধীরে বাঁচার পথ প্রশস্থ হয়। অন্যথায়, চারজনই একসাথে ফেঁসে যায়।

এতো কম বয়সী কয়েক ছেলে এভাবে সূক্ষ্ণ পরিকল্পনা করে নিজেদের বাঁচাতে চেষ্টা করা স্বাভাবিক নয়। গল্পের এই প্লটটা সম্ভবত: দিহানের মায়েরই শিখিয়ে দেয়া। কারণ, তিনি বলে বেড়াচ্ছেন দিহানের সাথে মেয়েটির স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্ক দোষের কিছু নয়। একজন মা হিসেবে আগ বাড়িয়ে এমন মন্তব্য কোন বাঙালি মায়ের মুখে বেশ রহস্যময় শোনায়।

দিহানের বাবা খুব প্রভাবশালী ছিলেন বলে তাঁর সাথে পুলিশের শীর্ষমহলে বোঝাপড়া থাকাই স্বাভাবিক। নইলে পুলিশ এত দ্রুত ওই তিনজনকে ছেড়ে দেবে কেন? বাংলাদেশের পুলিশ কাউকে তো এতো সহজে ছাড়ে না। অদৃশ্য কোন মহলের ইশারায় কিশোরী মেয়েটিকে এডাল্ট, আর দৃশ্যতঃ বিশ-একুশ বছরের সুঠাম যুবক দিহানকে বয়স কমিয়ে শিশু বানানোর অপচেষ্টাও চেষ্টাও গভীর তাৎপর্য বহন করে।

দিহানের অন্য তিন বন্ধুর বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে, কোটিপতির উচ্ছন্নে যাওয়া ছেলেদের বন্ধুর পরিবারগুলো কেমন হয় তা কমবেশি সবাই অনুমান করতে পারেন। এই তিনজন বিদেশ পালানোর আগে তাঁদের দ্রুত গ্রেফতার, এবং একই সাথে দিহানের মাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে আশা করা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪৯
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাপিত জীবন কড়চাঃ শীতের পীঠে, হারানো ঐতিহ্য নাকি আরব্য রজনী?

লিখেছেন জাদিদ, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২১


গ্রামের একটা অদ্ভুত মজার ব্যাপার হচ্ছে ভোর পাঁচটা ছয়টার পর কিছুতেই আর ঘুমানো যায় না। যে ঘুম হয়ত এলার্ম ঘড়িও ভাঙাতে পারবে না, মোরগের ডাক ঠিকই সেই ঘুম ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন জাফর ইকবাল স্যার, শেষ পর্যন্ত আপনার বস্তা-পচা আবেগের কাছে বৈজ্ঞানিক যুক্তির পরাজয় হলও !!!!

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:২৩



অভিনন্দন জাফর ইকবাল স্যার, শেষ পর্যন্ত আপনার বস্তা-পচা আবেগের কাছে বৈজ্ঞানিক যুক্তির পরাজয় হলও। আপনার প্রস্তাবিত ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলাতেই বাংলাদেশ সরকার ২১৩ কোটি টাকা খরচ করে মানমন্দির স্থাপনের সিদ্ধান্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুটো নৌকা এবং রঙ মিস্ত্রী

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:১১



একজন রঙ মিস্ত্রীকে বলা হলো- নৌকাটি ভালো করে রঙ করে দেয়ার জন্য।
রং মিস্ত্রী নৌকা রং করতে গিয়ে দেখেন- নৌকার তলায় ছোট একটা ফুটো। রং মিস্ত্রি ভালো করে নৌকাটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনলাইন ক্লাস পরিচালনার কলা কৌশল

লিখেছেন শায়মা, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০৬



"অনলাইন ক্লাস" ২০২০ এ এসে এই নতুন রকম ক্লাসের নামটি শুনতে কারো বাকী নেই। বেশ কিছু বছর ধরেই কাজ করছি বাচ্চাদের সাথে। যদিও পেশায় আমি লেখাপড়ার টিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিয়াঃ একজন বাইচ্যান্স জেনারেল নামা

লিখেছেন যাযাবর চিল, ১৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৮:১৯

এক-
...আমি আর দাউদ কামরায় বসে রইলাম। রাষ্ট্রপতি টেলিফোনে তথ্যমন্ত্রীকে চাইলেন। সংযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান এ্যাবাউট মিঃ মূসা' উত্তরে কী জানলেন আমি জানিনা, তবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×