somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বয়োঃ+সন্ধি

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিলাম একশ ত্রিশ নাম্বার সিরিয়ালে,সপ্তম শ্রেণীতে উঠে রোলনং হলো তিন আবার সপ্তম থেকে অষ্টম শ্রেণীতে উঠার সময় রোল নং হয় চার,আর এই সময়ই স্কুলের হোস্টেলে চলে আসি।পরে আমার রোল নম্বরেরও একটা ছোট রেভুলেশান ঘটলো এবং আরোও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ক্লাস এইটে সাধারণ গ্রেডে স্কলারশিপও পেয়ে যাই।সেসময়ে হোস্টেলে ছাত্রদের মাঝে 'হু,কিতা রে..!','ঐ,কে..?' কিংবা 'জোরে পড়রে..' এই কথাগুলো অনেকটাই শ্লোগানে পরিনত হয়ে গেছিলো,এই কথাগুলো ছিল আমাদের হোস্টেল পরিচালক বি.এস.সি স্যারের কমন কিছু ডায়ালগ।স্যার আমাদেরকে অংক,বিজ্ঞান আবার মাঝে মাঝে ইংরেজী ও পড়াতেন।ক্লাসের পড়া ক্লাসের হিসেবে আদায় করতেন,প্রাইভেটের পড়া প্রাইভেটে।স্যারের সবচেয়ে বড় গুন ছিলো এটা যে,আমি রুহুল আমীন (স্যারের নাম) যদি এই বিষয়টা বুঝি,তবে তোকেও বুঝতেই হবে।আমার এখনো মনে পড়ে স্যার প্রেজেন্ট পারফেক্ট টেন্স বুঝাতে গিয়ে উদাহরন হিসেবে বলেছিলেনঃআমি এই মাত্র ভাত খেয়েছি,যার ফল এখনো বর্তমান এবং ক্রিয়াপদও নিষ্পন্ন যেমন-তারপর হাতটা নাকের কাছে নিয়ে বলতেন,দেখ এখনো গন্ধ পাওয়া যায়।আরেকবার অংক করাতে গিয়ে শিখিয়েছিলেন 'সাগরে লবণ আছে,কবরে ভয় আছে,টেমসে লাশ ভাসে' অর্থাৎ সাইন থিটা = লম্ব/অতিভুজ,কট থিটা = ভূমি/অতিভুজ,টেন থিটা = লম্ব/ভূমি।এইসব টার্মগুলো অনেকদিন ধরে মনে গেঁথে ছিলো,এখনো আছে।বলছিলাম আমার রোলনম্বর রেভুলেশানের কথা,অষ্টম শ্রেণীতে উঠার পড় হোস্টেলে চলে আসি।এখানে এসে বি.এস.সি স্যারের ভয়ংকর রুপটা দেখে আঁতকে উঠি।স্যার রুটিন মাপিক সকাল-সন্ধ্যা হোস্টেলের সব-কয়টারেই পিটুনির উপর রাখতেন কারনে-অকারনে।এসময়ে অনেকটা স্যারের চাপাচাপিতে আর রোজ রোজ গালাগাল কাম পিটুনির ভয়ে আস্তে আস্তে পড়া-শুনা শুরু করলাম।নিয়ম করে সপ্তাহে একবার (শুক্রবার দিন) করে সব বিষয় যতোটুকু পড়ানো হতো,রিভিশন দিতাম।বিকেল বেলা সবাই যখন খেলতে নামতো,আমি তখনও উপপাদ্য মুখস্ত করতাম।মনে মনে ভাবতাম,নবম আর দশম শ্রেণীতে উঠার পর আমি মজা করবো,কারন স্যার বলেছেন অষ্টম শ্রেণীতে পড়া-শুনা করলে তার উপরের ক্লাস গুলোতে আর কষ্ট করা লাগে না।এভাবে,নিয়মমাপিক পড়া-শুনায় নবম শ্রেণীতে রোলনং দুই নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বাংলার ম্যাডাম লক্ষ্মী রানী একদিন ক্লাসে বলেছিলেনঃ আমাদের স্কুলের রেকর্ড বলছে নবম শ্রেণীতে উঠেই আমাদের কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীরা আবেগে নরম হতে শুরু করে।এই সময়টাতে তোমরা আবেগের কাছে বড় অসহায়,একটু সাবধানে চলবে।কেবল মাত্র এই বয়োঃসন্ধি কাল সফল ভাবে (অযথা সময় নষ্ট না করে) পেরুতে পারলেই,তোমরা শেষ হাসি হাঁসতে পারবে,বিজয়ের পদচিহ্ন এঁকে যেতে পারবে,না হয় ছিটকে যাবে বহুদূরে! বলে রাখি বাংলা আমার মারাত্মক প্রথম প্রিয় একটা বিষয় ছিলো,ইংরেজি সে তালিকায় দুই নম্বরে ছিল।বাংলা ব্যাকরণ খুব পছন্দ করতাম,মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরেও নাকি ব্যাকরন পড়তাম (সমাস ও কারক-বিভক্তি),সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠলেই দুই নাম্বার হলের (আমার হোস্টেল রুম) সবাই জিজ্ঞেস করতো,কিরে রাতে এমন করলি কেন?অসীম স্যার (যাকে নিরামিষ ভোজী দয়াল নামে আমরা নিজেরা নিজেরা আড়ালে সম্বোধন করতাম) ছিলো আমাদের বাংলা,ইংরেজী দুই বিষয়েরই শিক্ষক।গঠনগত নিয়ম ধরে ধরে ইংরেজী গ্রামার,বাংলা ব্যাকরণ পড়াতেন আর শিট দিতেন,আমরা দেখে দেখে খাতায় তুলে নিয়ে সেই শিট আবার স্যারকে ফেরৎ দিতাম।তো একবার অসীম স্যার এক কথায় প্রকাশ পড়াচ্ছিলেন।অগত্যা সবজীকে(ভালো নাম মাহফুজুর রহমান,প্রতিদিন সকালে যার নাস্তা হিসেবে প্রায় তেলে-ভাজা বিরিয়ানি ধরনের খাবার আসতো তার বাড়ী থেকে।ঐ খাবারটা আমার ভীষণ পছন্দের ছিলো।মাঝে মাঝে খাবার অদল-বদল করতাম,কিংবা ওকে না বলেও খেয়ে ফেলতাম।) জিজ্ঞেস করে বসলেন,এই বল তোঃ প্রিয় কথা বলে যে নারী-এর এক কথায় প্রকাশ কি হবে?সবজী বললো,স্যার বধা।স্যার বললেন,গতকাল পড়ালাম আর আজই ভুলে গেলি রে বধা।বধারে..এটা বধা না শুধু,প্রিয়ং বধা।একটু জানিয়ে রাখি,ওকে আমরা এই নামটা ধরেই (বধা) বেশির ভাগ সময় ডাকতাম,আজও ডাকি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৪২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×