
যার উদ্দেশ্য এ লেখাটা তার সম্পর্কে দুটো কথা না বললেই নয়। বায়েজিদ ভাই। স্কুলে আমার চার বছরের সিনিয়র ছিলেন। বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্টের দিনে "নৈতিক গুণাবলী আর সদাচারণ"র পুরষ্কারটা যে তিন বছর আমাদের স্কুলে ছিলেন, প্রতিবারই আমি উনার হাতে উঠতে দেখেছি। এখন স্কুলে "নৈতিকতা আর সদাচারণ"এর ওপর আর পুরষ্কার দেয়া হয় কিনা জানি না; কিন্তু এই গুণদ্বয়ের কথা এলেই আদর্শ বলতে আমি উনাকেই বুঝতাম। এরপর একই ক্যাম্পাস শেয়ার করার প্রায় বছর চারেক সময়ে উনি ছিলেন বন্ধু, বড় ভাই, আমার দুঃখের পথে পরামর্শ আলো। ছিলেন... গত ১২ ই জুন করোনা আক্রান্ত হয়ে জীবনের অমোঘ সত্য মৃত্যুকে জিতিয়ে চলে গেলেন চিরতরে।
এ লেখা 'বায়েজিদ ভাই' স্মরণে...
সে ছিল.. আপনার বড় ভাই
আজকের এই "আমি"
যার কাছে ঋণী,
বহুলাংশে অনেকটাই।
গাঁয়ের 'গেঁয়ো মাটি' চিনিয়েছে সব 'শহুরে পরিপাটি'
মল চত্বরে দাঁড়ায়ে বলেছি ফোনে__
"ভাই! কোনদিকে নীলক্ষেতের রাস্তাটি?"
হাতে ধরে ধরে করেছ আমারে আমি
শত বছরের গল্পে, ভাই__ গত দিন কয় গেছে জমী
মাঝ রাত্রির এই নিশ্চুপ বৃষ্টিতে তুমি চুপিচুপি এসো নামি
আধমরা এই শহুরে আত্মারে মোরা জাগাবোনে দু'জনি।
স্বপ্ন ভঙ্গের উত্তাল ক্ষণ__
পুনঃ ভর্তির ভারে ভর্তা ছিল মন।
ক্যাম্পাসের সড়ক দ্বীপ
নিয়ন বাতির শেষ রাতি জীভ,
টিএসসি-ডাকসুর ডাল-চা__
শ্রম খেকাে মেহনতি মানুষের কড়চা
মগজে গরজে গড়ে দিলে যখন...
চুপচাপ চোখে টলটলে ঝাপসাটে; ভাবনায় এখন।
নিশ্চুপ সাক্ষী সে দিক খোঁজা গল্পে
এ শহুরে-দেশি বিশ্বাস... সব একটু আধটু অল্পে।
দূরে কোথাও বাজ পড়ল হঠাৎ__
ফজর ধ্বনিত হল মোয়াজ্জিনে
বৃষ্টিকে হারিয়ে পেট্রিকর উঠেছে ভাসি__
ফেরদৌস ছেড়ে এসো তুমি এই দিন-রাত্রির কাল-ক্ষণে।
ফ্যাশন-স্বপ্ন-জীবনবোধ-ইলেকট্রিক পণ্যে
সবখানেই শিখিয়েছিলে__ভাবতে, হতে; যা সর্বাগ্রে-গণ্যে।
আজকে আমার যত যে কথার থুবড়ি,
ছড়-ছড়িয়ে পড়ে যা__সক্কলে আঁকড়ি
সব কাতারে কাতার অবদান, আপনারি।
ওই তারায় তারায় বিচরণ কালে কোন এক ফাঁকে,
ভরাবেন কপালে মোর নিকট আশীষ, আশীর্বাদে
মোর যত ঋণ সবি এই বলে মুখ হোক
মম কাজে যেন হয় সবে আপনারি হাসি চোখ।।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১২:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



