
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম। আজ বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পলেখক তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়ের ১২১তম জন্মবার্ষিকী। প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্ত্ত। তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী এবং ২টি ভ্রমণ কাহিনী। মানবচরিত্রের নানা জটিলতা ও নিগূঢ় রহস্য তাঁর উপন্যাসে জীবন্তভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
(বহিঃসংযোগ: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনী)
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও অনলাইন ভার্সনের লিঙ্ক এখানে দেওয়া হলো:
১। চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২)
চৈতালী ঘুরণি দারিদরযের কষাঘাতে জরজরিত মানুষদের নিয়ে লেখা উপনযাস। দেশ-ভাগের গরম হাওয়া বইতে শুরু করেছে যখন ভারতবরষের হাটে-ঘাটে-মাঠে, সে সময়কার আঁচ, মানুষের অবিরাম দুরদশা আর আসলে দেশে সবাধীনতা এলো কী এলোনা, এর সরাসরি কোন পরভাব ও গুরুতব যে দেশের অতি সাধারণ, হতদরিদর মানুষগুলোর জীবনে তেমন নেই-চৈতালী ঘূরণি হয়তো সে গলপও।
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: চৈতালী ঘূর্ণি
২। রাইকমল, ১৯৩৪
একটি প্রেমের উপন্যাস যা কমল আর রঞ্জন নামের দুজনের ভালবাসার কাহিনী নিয়ে রচিত। মেয়ে মানুষের মন বুঝার ক্ষমতা অনেক কঠিন কাজ। এমন কঠিন বিষয় নিয়ে তারাশঙ্কর রচিত রাইকমল উপন্যাসটি অসাধারণ লেগেছে।
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: রাইকমল
৩। ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯),
ধাত্রী দেবতা একটি জমিদার পরিবারের গল্প| জমিদারি প্রথার শেষ পর্যায়ে পরিবারের এক ছেলের জীবনকাল নিয়েই এই উপন্যাস|
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: ধাত্রীদেবতা
৪। কালিন্দী (১৯৪০),
এক নদীর চর জেগে ওঠাকে কেন্দ্র করে দুই জমিদার,প্রজা,সাওতাল,মহাজনের এক অনবদ্য রচনা।
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: কালিন্দী
৫। গণদেবতা (১৯৪৩),
৯৪২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত মহাকাব্যিক পটভূমির এই উপন্যাসের বিষয়বন্তু বিভাগোত্তর ভারতবর্ষের সমাজ ব্যবস্থা এবং স্বাধীনতা আন্দোলন ও শিল্পায়নের পরিপ্রেক্ষিত গ্রামীণ সমাজের বিবর্তন। বিংশ শতাব্দীর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাংলা উপন্যাসের একটি বলে বিবেচিত এই উপন্যাসটি বহুভাষায় অনূদিত হয়েছে।[২] ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে এই উপন্যাসটিকে ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।[৩] ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে তরুণ মজুমদার এই উপন্যাসের কাহিনী উপজীব্য করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।[৪] উল্লেখ্য যে, ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত পঞ্চগ্রাম উপন্যাসটিকে পরবর্তীকালে গণদেবতা'র অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: গণদেবতা
৬। পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪),
পঞ্চগ্রাম উপন্যাসে দ্বারক চৌধুরীর ট্রাজিক পরিণতিতে কিংবা হিরু পালের শ্রীহরি ঘোষরূপে অবিশ্বাস্য গোত্রান্তরে তারাশঙ্কর এ সত্যই প্রকাশ করেছেন। সংগৃহীত অগাধ বিত্ত এবং সে সূত্রে অর্জিত অমিত প্রতাপই বর্ণগত শ্রেণীভেদের মূলে আঘাত হানতে হিরু পালকে প্ররোচিত করেছে। তারাশঙ্কর বোঝাতে চেয়েছেন অবক্ষয়- উন্মুখ সমাজে যে নবপ্রেরণা ক্রমশঃ সঞ্চারিত হচ্ছে, তার নিয়ামক অর্থ বা বিত্ত।
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: পঞ্চগ্রাম
৭। কবি (১৯৪৪),
নিচু বংশে জন্মানো নিতাইচরণ গ্রামের সবাইকে চমকে দিয়ে কবি হয়ে ওঠে। সে কবিয়ালদের দোহার হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু গ্রামের পালাগানের আসরে এক প্রতিষ্ঠিত কবিয়ালের অনুপুস্থিতিতে তার সামনে সুযোগ খুলে যায় নিজের কবিয়াল পরিচয় গ্রামবাসীকে জানিয়ে দেয়ার। অভিজ্ঞ কবিয়াল মহাদেবের কাছে সেই দফায় হেরে গেলেও তার উদ্দেশ্য সফল হয়। বাবুরা রীতিমত অবাক- 'ডোমের ছেলে পোয়েট!' নিতাইচরণের পারিবারিক পেশা ছিল ডাকাতি; কিন্তু সে হল অন্যরকম। এমনকি মায়ের অনুরোধ বা মামার শাসনের পরেও সে পড়াশুনো ছেড়ে ডাকাতির দলে নাম লেখায়নি। ঘরবাড়ি ছেড়ে স্টেশনে গিয়ে থাকে। এখানেই তার সাথে বন্ধুত্ব হয় স্টেশনের মুটে রাজার সাথে। নিতাইয়ের ওপর রাজা'র ভক্তি ও বিশ্বাস ছিল অগাধ। নিতাইকে সে ডাকত 'ওস্তাদ' বলে। এদিকে রাজারই এক আত্মীয়কে ঠাকুরঝি বলে ডাকত সে। বিবাহিত ঠাকুরঝি রোজ এসে দুধ বিক্রি করে যেত। মেয়েটার গায়ের রং কাল ছিল বলে গ্রামের লোকজন তো বটেই, রাজা-ও নানা কথা শোনাত। কিন্তু এই মেয়েটার জন্যই নিতাই এর মাথায় একটা পদ তৈরি হয়- 'কাল যদি মন্দ তবে চুল পাকিলে কান্দ কেনে?' জীবনের সব জায়গায় অপমান পাওয়া ঠাকুরঝি এই পদ শুনে আন্দোলিত হয়। আর নিতাই এর মনে, অসম্ভব জেনেও, ঠাকুরঝির জন্য গভীর প্রেম জন্মায়। একপর্যায়ে বিষয়টা জানাজানি হলে নিতাই গ্রামছেড়ে চলে যায়।
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: কবি
৮। হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭),
হাঁসুলী বাঁকের উপকথা হল তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় লিখিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। বাঁশবাদি গ্রামে কাহার জাতির লোকেরা বাস করত। কাহারেরা দুটি পাড়ায় বিভক্ত ছিল। বেহারা পাড়া এবং আটপৌরে পাড়া। বেহারা পাড়ার লোকেরা পালকি বহন করত। আর আটপৌরেরা চাষ বাসের কাজে নিযুক্ত ছিল। বেহারা পাড়ার প্রধান ছিল বনোযারী এবং আটপৌরে পাড়ার প্রধান ছিল পরম। দুই পাড়ার মধ্যে মাঝে মাঝেই সংঘর্ষ হত। তবুও উভয়েই কিন্তু দেবতা কত্তাবাবাকে মানত। কত্তা বাবার ছিলেন হাঁসুলী বাঁকের পশ্চিম দিকের শিমুল গাছে। পরবর্তী কালে চন্দনপুরে রেলের কারখানা হবার সুবাদে গ্রামের ছেলে করালী হল প্রথম কারখানার শ্রমিক। করালী ধীরে ধীরে কাহার পড়ার পুরানো বিশ্বাসে ভাঙন আনতে থাকে, সে প্রথমে কত্তা বাবার বাহন সাপটিকে পুড়িয়ে মারে, তাঁর পর বেলতলা ও শ্যাওড়া গাছের বন পরিষ্কার করে। ধীরে ধীরে কাহার দের পুরানো বিশ্বাস ও সংস্কারের পরিবর্তন সাধিত হল।
অনলাইনে পড়ুন / ডাউনলোড: হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
৯। আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩)
আরোগ্য - নিকেতন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসের জন্য, তিনি ১৯৫৫ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার ও ১৯৫৬ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পুরস্কারে ভূষিত হন। আরোগ্য নিকেতন অর্থাৎ চিকিৎসালয়। হাসপাতাল নয় দাতব্য চিকিৎসালয়ও নয় – দেবীপুর গ্রামের তিন পুরুষ চিকিৎসা-ব্যবসায়ী মশায়দের চিকিৎসালয়। মশায়দের বাড়ির এই কাহিনী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত এক অসামান্য উপন্যাস। তারাশঙ্করের আরোগ্য নিকেতন এক মহান সৃষিট । জীবন-মৃত্যুর প্রতি বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, নবীন-প্রবীণের এক অঘোষিত লড়াই-সমন্বিত উপন্যাসের ব্যাপ্তি পাঠককে এক বিষাদ-মধুর প্রশান্তির জগতে নিয়ে যায়। ভাষার সরলতা গ্রামের পরিবেশের সাথে অসাধারণ সুন্দর ভাবে মিলেমিশে যায়। বাংলা কথা -সাহিত্যে তারাশঙ্করের নাম সোনার আখরে লেখা থাকবে।
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: আরোগ্য নিকেতন
১০। চাঁপাডাঙার বৌ (১৯৫৪)
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: চাঁপাডাঙার বৌ
১১। বিচারক (১৯৫৭)
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: বিচারক
১২। মহাশ্বেতা, ১৯৬০
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: মহাশ্বেতা
১৩। গুরুদক্ষিণা (১৯৬৬)
পিডিপি ভার্সন / ডাউনলোড: গুরুদক্ষিণা

তারাশঙ্করের উপন্যাস, গল্প ও নাটক নিয়ে চল্লিশটিরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ও তারাশঙ্করের জলসাঘর এবং অভিযান উপন্যাসের সফল চিত্ররূপ দিয়েছেন। লেখকের যেসব উপন্যাস/গল্প চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়েছে সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছুর ভিডিও লিঙ্ক এখানে দেওয়া হলো:
জলসাঘর (১৯৫৮) [সত্যজিৎ রায়]
মুভি: জলসাঘর
অভিযান (১৯৬২) [সত্যজিৎ রায়]
মুভি: অভিযান
অগ্রদানী (১৯৮৩) [পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়]
মুভি: অগ্রদানী
আগুন (১৯৬২) [অসিত সেন]
মুভি: আগুন
আরোগ্য নিকেতন [বিজয় বসু], জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত
মুভি: আরোগ্য নিকেতন
উত্তরায়ণ ( ১৯৬৩) [অগ্রদূত]
মুভি: উত্তরায়ণ
কবি (১৯৪৯) [দেবকী বসু]
মুভি: কবি
গণদেবতা (১৯৭৯) [তরুণ মজুমদার]
মুভি: গণদেবতা
চাঁপাডাঙার বউ (১৯৫৪) [নির্মল দে]
মুভি: চাঁপাডাঙার বউ
দুই পুরুষ (১৯৪৫) [সুবোধ মিত্র] এবং দুই পুরুষ (১৯৭২) সুশীল মুখোপাধ্যায়]
মুভি: দুই পুরুষ
না (১৯৫৪) [শ্রীতারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায]
মুভি: না
ফরিয়াদ [বিজয় বসু, ১৯৭১]
মুভি: ফরিয়াদ
বিচারক (১৯৫৯) [প্রভাত মুখোপাধ্যায়]
মুভি: বিচারক
বিপাশা (১৯৬২) [অগ্রদূত]
মুভি: বিপাশা
মঞ্জরী অপেরা (১৯৭০) [অগ্রদূত]
মুভি: মঞ্জরী অপেরা
রাইকমল (১৯৫৫) [সুবোধ মিত্র]
মুভি: রাইকমল
শুকসারী (১৯৬৯) [হারানো সুর গল্প অবলম্বনে সুশীল মজুমদার পরিচালিত]
মুভি: শুকসারী
সপ্তপদী (১৯৬১) [অজয় কর]
মুভি: সপ্তপদী
হার মানা হার (১৯৭২) [মহাশ্বেতা উপন্যাস অবলম্বনে, সলিল সেন পরিচালিত]
মুভি: হার মানা হার
হাঁসুলীবাঁকের উপকথা (১৯৬২) [তপন সিংহ]
মুভি: হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
------------------------------------------
সূত্র: বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, সাহিত্য পত্রিকা,
ডাউনলোড সূত্র: https://bn.bdebooks.com/
ভিডিও সূত্র: https://www.youtube.com/
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




