somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তেজগাঁওয়ের দখল সম্রাট আরএনবি চীফ ইন্সপেক্টর জিহাদুল এখন বিমানবন্দর সার্কেলের রাজা মহারাজা!

০৭ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চীফ কমানডেন্ট ও কমানডেন্ট জহিরের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কমলাপুরে নিয়োজিত সিআই সহিদ এর যোগসাজশে কালো টাকার পাহাড় গড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে আরএনবি বিমানবন্দর সার্কেল চীফ ইন্সপেক্টর (সিআই) মোঃ জিহাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।


আরএনবি বিমানবন্দর সার্কেল সিআই জিহাদুল
সরেজমিনে ঢাকা বিমানবন্দর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও ও টঙ্গী রেল ষ্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তেজগাঁও রেল ষ্টেশনের পিছনে তার নামে বরাদ্ধকৃত কোয়ার্টার ও তার আশপাশের বিশাল ভুমি দখলে নিয়ে তিনি অবৈধ স্থাপনা তৈরী করেছেন। এসব স্থাপনায় বেসরকারী পরিবারকে ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
জানাগেছে, অন্তত বিশটিরও বেশী পরিবারকে ভাড়া দিয়ে তিনি প্রতিমাসে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এই ভাড়া ব্যবসা করে। এসব কালোটাকার অবৈধ বিত্তবৈভব নিয়ে এক বিলাসী জীবনযাপন করছে এই কর্মকর্তা। রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগেও তিনি প্রভাব তৈরী করেছেন, যার জন্যে তিনি গনমাধ্যম কর্মীদেরও পাত্তা দেননা কিংবা যোগাযোগের চেষ্টা করলে এড়িয়ে যান বিভিন্ন কৌশলে।
অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, রেলওয়ের এসব জায়গায় নির্মিত তার এসব বাড়ীতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসংযোগও অবৈধ। ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে এসবের সত্যতা পাওয়া গেছে। রেলওয়ের সম্পত্তি দখলে রেখে প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিল হাতিয়ে নিচ্ছে সিআই জিহাদুল।
ঢাকা বিমানবন্দর রেল ষ্টেশন সূত্র জানায়, সিআই জিহাদুল এর ঈশারায় তার একান্ত অনুগত ও বাধ্যগত সিপাহীরা টিকেট ক্রয় করে যাত্রীদের কাছে চড়াদামে বিক্রি করে রুটিন মাফিক টিকেট কালোবাজারী করছে, এবং তার রয়েছে টিকিট কালোবাজারির এক বিশাল চক্র। তার সিপাহীরা ট্রেন থেকে নেমে আসা যাত্রীদের টিকেট চেকিং এর নামে নগদ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অনুসন্ধানে জানাগেছে। টার্গেটকৃত যাত্রীরা টাকা না দিলে জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে একরকম বিবস্ত্র করে নাস্তানাবুদ করা হয়। এমন চিত্র অহরহ চোখে পড়ে। প্রতিবাদ করতে গেলে সিআই জিহাদুল এর লালিত বাহিনীর আক্রোশে পড়তে হয়।
গোপনসূত্রে জানাযায়, বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ী, হরেক মালের হকার, পকেটমার ও ছিনতাইকারীরা সিআই জিহাদুল এর সাথে গোপনে যোগাযোগ রেখেই এসব দুস্কৃতিকারীরা তাদের এই অপকর্ম চালিয়ে যায় নির্দিধায়। এসব অপরাধীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়ে ষ্টেশনে এসব অপকর্মের অঘোষিত লাইসেন্স দেয়া হয়। এসব খাত থেকে সিআই জিহাদুল এর পক্ষে টাকা সংগ্রহ করে তার আস্থাভাজন করিম। কুলি সর্দার আমান তার মাদক ব্যবসার পার্টনার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআই জিহাদুল এর কয়েকজন ঘনিষ্টজনের কাছ থেকে জানা যায়, বুকিং বহির্ভূত ট্রেনের বগিতে আসা মালামাল লোকসহ তার নির্দেশেই আটক করা হয়। দাবীকৃত টাকা নগদ কিংবা বিকাশে না দিলে কিংবা টাকা আসতে দেড়ি হলে অনেক সময় ঐসব মালামাল ষ্টেশন থেকে হাওয়া হয়ে যায়।
অপরদিকে, ঢাকা বিমানবন্দর রেল ষ্টেশনের মোট ৩টি পাবলিক টয়লেট থেকে মাসিক ১০ হাজার করে টয়লেট বাবদ মোট ৩০ হাজার টাকার ব্যবসা করেন সিআই জিহাদুল যা টয়লেটের রক্ষণাবেক্ষণকারীদের কাছ থেকে জানা যায়। টয়লেট ব্যবহারে রেলওয়ে কতৃপক্ষের ২ টাকা মূল্য নির্ধারিত থাকলেও জনপ্রতি ১০ টাকা করে ছিনিয়ে নেয় সিআই জিহাদুল এর টয়লেট বাহিনী।
এছাড়াও ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা এবং রেল ষ্টেশন এলাকার হাটবাজার ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, চা, ঝালমুড়ি, ফলমূল, সবজি ও মাছের প্রতিটি দোকানের জন্য গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে জামানত নেয় এই সিআই জিহাদুল। প্রতিদিন ভাড়া আদায় করে দোকান প্রতি ৩ থেকে ৪ শত টাকা। আবার খাবার হোটেলের অগ্রিম সেলামী বাড়িয়ে বর্তমানে ৫০ হাজার টাকা এবং দৈনিক ৮ শত টাকা ভাড়া ধার্য করেছে সিআই জিহাদুল। হাটবাজার থেকে টাকা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন মনির নামে এক লাইনম্যান। সিআই জিহাদুল এর ধার্যকৃত টাকা দিতে অস্বীকার কিংবা গড়িমসি করলে ধরে নিয়ে ইচছামত মারধর করে জরিমানা আদায় করে। কেউ কেউ বলেন, সিআই জিহাদুল নিজেকে গোপালগঞ্জের গোপালী বাঘ, কখনো শেখ সেলিমের আত্মীয় আবার কোন কোন সময় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছের লোক বলে সবাইকে শাসায়। ষ্টেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট ও টঙ্গীতে নিয়োজিত মোট ৫১ জন আরএনবি সদস্য সিআই জিহাদুল এর অধীনে কাজ করে। গড়ে প্রায় সকলেই তার নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হন। সিআই জিহাদুল সান্ধ্যকালীন ডিউটি দেয়া বাবদ প্রত্যেকের বেতন থেকে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে কেটে নেয় বলে গোপন অভিযোগ আছে যা ডিউটি বন্টন রোস্টারে উল্লেখ থাকে। এছাড়া অন্যায়ভাবে রুট কাটিং এর ফেরে দোষীদের নামে ডায়েরী করে ও জনপ্রতি জোড়পূর্বক ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পকেট বাণিজ্য আছে। কেউ আপত্তি কিংবা প্রতিবাদ করতে চাইলে চীফ কমানডেন্টের ভয় দেখিয়ে তাদের দমন করে অথবা কমানডেন্ট জহির এবং প্রয়োজনে চীফ কমানডেন্টকে বলে তাদের বদলী করে দেয়ার অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিআই জিহাদুলের রোষানলে পড়ে মোস্তফা মল্লিক, বেলায়েত ও ফজলুসহ আরও বেশ কয়েকজন এবং ইতিমধ্যেই অন্যায়ভাবে তাদের শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।
সিআই জিহাদুল তার অধিনস্তদের বলেন, “তোমরা টাকা না দিলে আমি চীফ কমানডেন্ট আর কমানডেন্ট জহিরের চাহিদা পূরণ করবো কিভাবে ? আমি তোমাদের উপর দয়া করলেও স্যারেরাতো আমার উপর রহম করেনা। আমিতো একলা খাইনা, আমার উপরে টেবিল বুঝে টাকা পাঠিয়ে দেই” ইত্যাদি। ইতিপূর্বে র‌্যাবের হাতে ৩০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী দাগী আবুলকে টঙ্গী থেকে তুলে এনে সিআই জিহাদুল তার ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব দেন। নায়েক রাসেল তার সকল কুকর্মের আরেক সহযোগী স্বাক্ষী। বিমানবন্দর রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশের পাবলিক টয়লেট সংলগ্ন রেলওয়ের জমির উপর গড়ে ওঠা সকল অবৈধ রকমারী দোকান, খাবার হোটেল ও গ্যারেজসমূহ থেকে প্রতিমাসে ১৮ হাজার টাকা আদায় করে দেয় ঐ নায়েক রাসেল যা পাবলিক টয়লেটের হিজড়া তাজু অকপটে স্বীকার করে।
বিভিন্ন চ্যানেল ও পত্রিকার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সিআই জিহাদুল এর দূর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখায়। তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়া সংবাদপত্রকে সিআই জিহাদুল টিস্যু বলে তিরস্কার করে থাকেন। তার শরীর বাইপাস সার্জারি করা, এবং রেলওয়ের বিধান মতে তার এই কর্মস্থলে কাজ করার কোন শারীরিক যোগ্যতা নেই। তিনি খালি চোখে এমনকি পাওয়ার চশমাতেও কাছে দূরে ভাল করে দেখতে সামর্থ নন। সিআই জিহাদুল কথায় কথায় গর্ব করে বলেন, “আমি সিআই সহিদ আর কমানডেন্ট জহির ও চীফ কমানডেন্ট স্যারের ছায়ায় আছি। আমাকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করে কোন লাভ নাই”।
এসকল অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা সাংবাদিক, আপনাদের কাজ সংবাদ প্রকাশ করা, করেন যত পারেন নিউজ করেন। তিনি আরো গর্ব করে বলেন, আমার এখানে সমকালের সহিদ ভাই, কালের কন্ঠের আপেল মাহমুদ সাথী, জনতার হাবিব ও মাই টিভির হাসান জাকিরসহ বিভিন্ন প্রচারবহুল গনমাধ্যমের সাংবাদিকরা আসেন”।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ২:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×