somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন পুলিশ এলো - চার

২৬ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ধ্যায় বেরিয়েছিলাম চা খেতে, বাসা থেকে বড় জোর ১০০ গজ দূরে। কাছাকাছি যেতেই মনে হল বেশ একটা শোরগোল চলছে ওদিকে। অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে রাস্তায়। পুলিশ দেখা গেল। নাহ্ , ঘটনা নিশ্চয়ই বড় কিছু। কাছে গিয়ে দেখি রিভলভার হাতে এক সাদাপোশাকের পুলিশকে ঘিরে আছে অনেক মানুষ। তার আশেপাশে আরো দুএকজন পুলিশ দেখা গেল। ইউনিফর্ম পরা। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম রিভলভার হাতে পুলিশটি তার অন্য হাতে কলার চেপে ধরে আছে যে ছেলেটিকে সে আমার প্রতিবেশী, শরিফ। পলিটেকনিকে পড়ে। অত্যন্ত বিনয়ী এবং নিরীহ স্বভাবের ছেলে। তাকে ছাড়িয়ে নেবার জন্যই এত মানুষ হৈচৈ করছে। আর ইন্সপেক্টর রিভলভার উঁচিয়ে জনতাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে সরে যাবার জন্য। আমি বেশ অবাক হলাম, কী এমন ঘটনা যে শরিফকে পুলিশ প্রায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে ! শুনলাম ওদের ফার্মেসিতে নাকি হাতাহাতি, ভাংচুর হয়েছে। বিপ্লব নামের এক ছেলে মোবাইলে ১০ টাকা রিচার্জ করতে গেলে শরিফের রড়ভাই ২টাকা বাড়তি দাবি করায় তর্ক-বিতর্কের সূত্রপাত। এককথা দুকথায় হুমকি-ধমকি, পরে জামা ধরে টানাটানি, অবশেষে হাতাহাতি-ঘুষাঘুষি । বিপ্লব নামের ছেলেটা সম্পর্কে ভাল কিছু জানা যায় না। বিএনপির মিটিং-মিছিলে নেতাদের আশেপাশে থাকে আর দল করে বলে গলা ফাটিয়ে তা জানান দেয়। বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড় অবস্থা আর কি ! তো সেই ছেলের পক্ষে দোকানে ভাংচুর চালানো খুবই স্বাভাবিক এবং শরিফের বড় ভাইয়ের গায়ে কিলঘুষি চালিয়ে দেয়াও তেমন কোন ব্যাপার না। আমি চট্ করে ফার্মেসিটা একবার দেখে এলাম। যা শুনেছি ঠিকই। ওষুধের দোকানটায় ধ্বংসের চিহ্ন, শরিফের বড় ভাই রফিকের গায়ে আঘাতের। কিন্তু বিপ্লব তো কোথাও নেই ! আর ঘটনা ঘটালো বিপ্লব-রফিক, কিন্তু পুলিশ শরিফকে নিয়ে যাচ্ছে কেন ? সেখানে এসে হাজির হল এলাকার আরো দুচারজন মুরুব্বি। পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করলো, আসলে কী ঘটেছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। শরিফকে নিয়ে তারা রওনা হল থানায়। সমবেত এলাকাবাসীর কাকুতি-মিন তি,প্রতিরোধ কাজে এলো না। আমি নেহাত বিবেকের তাড়নায় পিছন পিছন থানায় গেলাম। সাথে এলাকার আরো দুএকজন, শরিফের ভাই, বাবাও গেল। থানায় গিয়ে আমি তো অবাক, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা রতন বসে আছে দারোগার সামনে। প্রথমে ভেবেছিলাম কোন কাজে হয়তো এসেছে। কিন্তু একটু পরেই টের পেলাম তার উপস্থিতিও একই কারণে। রতন আমার স্কুলজীবনের কিছুসময়ের সহপাঠি। জানতে চাইলাম সে বিপ্লবকে কতদিন চেনে, আর যে ছেলেটিকে ধরে আনা হল, তাকে চেনে কিনা ? জবাবে সে জানালো, বিপ্লব তার দলের কর্মী, মিছিলে থাকে। তার বাসায় এসে কেঁদেকেটে নালিশ করেছে যে, তাকে মারধর করা হয়েছে, তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে কিছু ছেলে। তার গায়ে মারের চিহ্নও সে দেখিয়েছে। রতন যেন এর একটা উচিৎ জবাব দেয়। রতন তাই থানায় এসে ওসিকে বলেছে এক্ষুণি ব্যবস্থা নিতে। ব্যস্ এতেই এতসব ঘটনা ঘটে গেল। শাসক দলের নেতা বলে কথা ! কিন্তু শরিফকে বা তাদের পরিবারকে রতন চেনে না এমনকি বিপ্লবের বাসাটা কোথায় তাও সে জানে না। আমি হতভম্বের মত রতনের কথা শুনলাম। তাকে বোঝালাম যে ছেলেটাকে ধরে আনা হয়েছে তার এবং তার পরিবার সম্পর্কে ভুল ধারণা তাকে দেয়া হয়েছে । তাছাড়া ঘটনাটিতে বিপ্লবের দায়ই বেশি। কিছুক্ষণ বোঝানোর পর রতন আমার কথা বিশ্বাস করলো মনে হয়, ওসিকে এর আপোষরফার দায়িত্ব দিয়ে সে চলে গেল। এরপর শুরু হল পুলিশের খেলা।

শরিফের বৃদ্ধ বাবা, তার বড় ভাই আর আমি পুলিশের সাথে টাকা-পয়সার বোঝাপড়ায় নামলাম। শরিফের বাবা ধার্মিক মানুষ, নিরপরাধ ছেলের জন্য পুলিশকে টাকা দেয়া তার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক মনে হল। তিনি বেঁকে বসলেন। অনেকক্ষণ পার হল তাকে পথে আনতে। পুলিশকে সবাই মিলে এটুকু বোঝাতে পারলাম যে, আপোষ রফায় অভিযোগকারীরও স্বাক্ষর থাকতে হবে। এবার খোঁজ পড়লো বিপ্লবের। ওদিকে বিপ্লব রতনের কাছে ধর্ণা দিলো আবার। কাজ হল না। রতন তাকে বললো থানায় গিয়ে মীমাংসা করতে। পুলিশের খাঁচায় এবার দুই শিকার। রাত তিনটা পর্যন্ত চললো দর কষাকষি। আমি আর টিকতে না পেরে বাসায় ফিরে এলাম। পরের দিন শুনলাম শরিফকে সকালে থানা থেকে ছাড়া হয়েছে। কত টাকায় রফা হল জানতে চাইলে শরিফের বাবা এড়িয়ে গেলেন। শুধু বললেন, বিপ্লবকেও টাকা দিতে হয়েছে। আমি আর কথা বাড়ালাম না। সেই শরিফ এখন ভাল চাকুরি করছে। এখনো তার নম্র-ভদ্র ব্যবহারের সুনাম এলাকাতে আগের মতই। কিন্তু পুলিশ কেন জানি না, শরিফদেরকেই লক-আপে ভরে আর বিপ্লবদেরকে চোখেই দেখে না। দোর্দল্ডপ্রতাপশালী ওয়ার্ড নেতার এককথায় পুলিশ একটা পুরো পরিবারকে যে হয়রানির মধ্যে ফেলেছিল তার বিচার কে করবে? আর আপাদমস্তক একটা ভাল ছেলেকে যে সারাজীবনের জন্য মনের দিক থেকে পঙ্গু করে দিল তার নিরাময় কোথায় ?

(চলবে..)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×