somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরী...

০৫ ই জুন, ২০১৮ রাত ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরী...
মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা বাবা-মার ভীষন আদরের পরী...জন্মের সময় ভীষন সুন্দর হয় বলে বাবা-মা পরী নাম টা রাখে...না চাইতেই যেন সব আবাদার পূরন হয়ে যেত পরীর...মাঝেমাঝে পরীর মা ভীষন ভয় পায়...ভাবে মেয়ের এই সৌন্দর্য কখনো না তার বিপদের কারন হয়ে দাঁড়ায়...পরী আয়না দেখতে খুব ভালবাসতো...বড় হবার সাথে সাথে এলাকার ছেলে থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ বিভিন্ন হ্মেত্রে বভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হত...ছেলেরা অনেক উত্তপ্ত করত...তাই বাবা যেন পরীর সবসময়ের পথ চলার সঙ্গী ছিল...হঠাৎ পরীর বাবা দুর্ঘটনায় মারা যান...পরীর বাবা মারা যাবার পর বেশ পরীর মা বেশ অসহায় হয়ে পড়ে...পরী বুঝতে পারেনা সে কি করবে...কিভাবে মা কে সুস্থ করবে...এমন সময় পরীর চাচা পরীর একটা বিয়ের সম্বন্ধ আনে...ছেলেটির বাবা এলাকার বেশ প্রভাবশালী...কিন্তু সে কিছুতেই রাজি হয়না...কারন পরী জানত ছেলেটি ভাল না...অনেক মেয়ের সাথে সে বিশ্বাসঘাতকতা করে...অন্যের হ্মতি করে...বাবার হ্মমতার অপব্যবহার করে...বাবা প্রভাবশালী হওয়ায় রনি বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি...একদিন পরী যখন কলেজে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ রনি পরীর সামনে এসে তার মুখে এসিড নিহ্মকরে...আর বলে তোর সৌন্দর্যের অহংকার শেষ করে দিলাম...বলে চলে যায়...পরী যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকে...চিৎকার করে কাঁদতে লাগে...মুহূর্তে পরীর আর্তনাদে যেন পুরো শহর ভারি হয়ে আসে...মুহূর্তে সে যেন সব কিছু অন্ধকার দেখে...যেন সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে...মৃত্যু যন্ত্রনাটা যেন সে অনুভব করা শুরু করে দেয়...তারপর এলাকার কিছু লোক পরীকে হাসপাতালে নিয়ে যায়...ধীরে ধীরে পরী সুস্থ হয়ে যায়...কিন্তু যখনই পরী আয়নার সামনে দাঁড়াতো তখনই সে যেন তার মুখের দাগ দেখে সব কিছুকে অর্থহীন মনে করত...মানসিকভাবে অসুস্থভালবাসতো..চলতোঐ ঘটনার পর থকে সবসময় মুখ ঢেকে চলতো...এভাবে কিছুদিন যাবার পর পরী একটা চাকরি লতো...বেশ ভালোই চলতে থাকে সব...একদিন তার সহকর্মী সিফাত জানায় সে তাকে বিয়ে করতে চায়...পরী খুব অবাক হয়ে তার কাছে জানতে চায় যে সে তাকে না দেখেই কিকরে তাকে বিয়ে করতে চায়...সিফাত বলে সে পরীর ব্যবহার আর মানসিকতা দেখে ভালবেসে ফেলেছে...তখন পরী সিফাতকে সব ঘটনা খুলে বলে এবং তার মুখ ও দেখায়...সিফাত খুব অবাক হয়...সে বলে আমার কোন সমস্যা নেই...আমি তোমার মুখ না দেখেই ভালবাসেছি তাই তুমি চাইলে আমি আমার বাড়িতে কথা বলবো...সিফাতের পরিবারের মানুষগুলোও অনেক ভালো ছিল...ছেলের ইচ্ছেটাকে তারা সম্মান করেছিল...সিফাত যখন পরীকে জানায় যে তার বাসার সবাই রাজি তখন পরী খুব অবাক হয়...ভাবে এখন ও কি এমন মানুষ আছে যারা কিনা আমার মত মেয়েকে ঘরের বউ বানাতে চায়...পরীর মা ও খুব খুশি হয়...ভাবে যাক মেয়েটা জীবনে অন্তত একজনকে পাশে পেল যে সারাজীবন তার পাশে থাকবে...সিফাত ধুমধাম করে বিয়ে করতে চাইতো কিন্তু পরী বলতো সে চায়না কারো কাছে সিফাত ছোট হয়ে থাকুক...তখন সিফাত বলে এখানে তো তোমর কোন দোষ নেই...আমি সবাইকে দেখাতে চাই যে বাহ্যিক সৌন্দর্যই সব না...কিছু নিচু মনের মানুষের জন্য মেয়েদের জীবনসঙ্গী ছাড়া হয়তো সারাটা জীবন পাড় করতে হয়...পরী তখন আর না করতে পারে না...খুশিতে সে কেঁদে ফেলে...তারপর তাদের ধুমধাম করে বিয়ে হয়...
অত:পর ২ বছর পর........
আজ পরী আর সিফাতের ঘর নতুন একটা ছোট্ট পরীর জন্ম হয়েছে....
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×