somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোটগল্পঃ "নাল-নীল বাত্তি"

৩০ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোখে কাজল আর কপালে কালো বড় টিপ... শাড়ির সাথে বেশ মানিয়েছে রাণীকে।ইদানিং মেকাপের চল আসায় হালকা মেকাপের আচটাও দিয়েছে সে।রীতিমত কামনাময়ী যাকে বলে।তাকে মানিয়েছেও চমৎকার।
এখন চুল বাধার কাজটা শেষ হলেই পুরোপুরি তৈরী ।চুল বাধতে গিয়ে হঠাৎ করে তার মেয়েবেলার কথা মনে পড়ে গেল।এই চুল না বাধার কারণে তার মায়ের কাছ থেকে কতশত বকঝকা শুনতে হয়েছে।মাইয়াদের চুল খোলা রাখতে অয় না ভুতপেতে আছর করে।এ কথাটা মায়ের মুখ থেকে চিবিয়ে চিবিয়ে বলাটা প্রায়ই শুনতে হতো তার ।মা যদি এখন জানতো তাকে সত্যি সত্যিই ভুতপেতে আছড় করে প্রতিরাতে।সেটা মানুষরূপী ভূতপেত ।
পপিরাণীর শৈশব টা অন্য সবার মতোই ছিল দূরন্তপনা চূরান্তের।হইহুল্লর নদী সাঁতরানো থেকে শুরু করে পরের গাছের আম চুরি পুকুরে মাছ চুরি সব সবকিছু।চাঞ্চল্যতা বেহায়াপনা রীতিমত অনিষ্ট করে রাখতো গ্রামের সবাইকে। কিন্তু সবকিছু উল্টেপাল্টে দিয়েছে তার যৌবনকাল।
মা বাবার ভনিবানা হওয়ার পর পপিরানী বড় হয়েছে তার মায়ের কাছে।তার মা অন্যের বাড়ি কাজ করে যা পেতো তা দিয়ে কোরকম সংসার চালাত।ওর উপর নির্ভর করে পপিরাণী ও তার মায়ের পোষাক আশাক খাওয়া দাওয়া চলতো।পপিরাণীর সবেমাত্র যৌবনে পা দিয়েছে বয়সও তেমন না ১৪ বা ১৫।আর ঐ সময়টাই ঘটে বিপত্তি।তার অন্ধেরষষ্ঠী মা ইন্তেকাল করেন।পপিরাণী বেকায়দায় পড়ে যায়।তাকে দেখার মতো কেউ নাই।তার নানী যে পর্যন্ত বেচে ছিল মাঝে মাঝে তাদের দেখতো তার মামারা নাকও ঘেষতো না ।
পপিরাণী যেন অথৈই জলে পড়লো।দেখার তো কেউ নেইই খেতেও পারছে না ঠিকমতো।একবেলা খেতে পারে তো আরেকবেলা না।তার মা যে বাড়িতে কাজ করতো সে বাড়িতে গেলে বাড়িআলা ভ্রু কাপিয়ে কু দৃষ্টিতে তাকায় ।পপিরাণীর কাছে বাড়িআলার ভাবভঙ্গি ভালো ঠেকে না।পেটের দায়ে ঐ বাড়িতে যেতে তা না হলে ঐ বাড়ির দিকে পথভুল করেও যেত না।
তার দূর সম্পর্কের মামা আচমকা একদিন এসে পপিরাণীকে বলে
ঢাহা যাবি নাকিরে পপি ঐহানে খাইতে পারবি ভালো পরতে পারবি নালনীল বাত্তি দেখবি যাবিনী
পপিরাণীর গায়ের এরকম অসহনীয় জীবন আর ভাললাগেনা।অসহ্যের চূরন্ত পর্যায়ে মনে হয়েছে গ্রামের পরিবেশ।
পপি তার দূরসম্পর্কের মামার সাথে হুট করে একদিন ঢাকা চলে আসে।সে এখন ভালো খেতে পরতে নালনীল বাত্তি দেখতে পারে তবে অন্যভাবে অন্যচোখে।তার কাজ এখন রাতের বেলা।শহরে নালনীল বাত্তি জালানোর পর তার কাজ শুরু হয়।
এতক্ষণ সময় নিয়ে সে সাজছে ভালো খদ্দের খুজতে।সুন্দর করে কামনময়ী ভাবে না সাজলে খদ্দের কাছে ঘেষতেও চায় না ভালো বকশিশও পাওয়া যায় না।গতকাল সে একটা নতুন পারফিউমও কিনে।বেশ ঝাঁঝালো।গায়ে মাখলে শরীর মন এমনিতেই চাঙ্গা হয়ে যায়।সে লালনীল বাতির মধ্য দিয়ে হাটছে ওভার ব্রীজ আর ফুটপাত দিয়ে।এইমাত্র তার সামনে একটা প্রাডো গাড়ি ব্রেক কষতে দেখা গেল।সে অবলিলায় গাড়িতে উঠে গেল।তার শূন্যস্থান পূরণ করে তার মতো আরেক পপির আগমন ঘটলো।
এই পপির মতো দারিদ্রের কষাঘাতে অসহায় অনাথরা অনেকেই এভাবে এই ঘৃণ্য জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়।প্রথমে পেটের দায়ে পরে বিভিন্ন বেড়াজালে পরে পরিশেষে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।এর জন্য মূলত সমাজ কিংবা রাষ্ট্র ব্যবস্থাই দায়ী।সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের বিৎঘুটে ব্যবস্থা দিন দিন অসহনীয় নাল-নীল বাত্তির ন্যায় বিবেকহীন আলো জালিয়ে অন্ধকার ডাকতে চেষ্টা করছে।

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:২৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×