somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাইকর
অনেক বড় মাপের একজন মানুষ হতে চাই। কারণ- ভালোবাসার মানুষটির নাম ছোট্ট কোন মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে বলতে চাইনা, ভালবাসার মানুষটির নাম বড় কোনো মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে বলতে চাই।আই লাভ ইউ (মা)

এখনো অনেক ভালোবাসি তোমাকে অপ্সরা(অনুগল্প)

২৮ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি আর অপ্সরা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসি। অপ্সরাকে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়েছিলাম। আমি আবার অহেতুক মানুষের প্রেমে পড়ি।সেদিন আমি রাস্তার এক পাশে ছোট একটা কুঁড়েঘরে বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলাম ঠিক তখনই অপ্সরার আগমন। বৃষ্টি ভেজা অপ্সরা কে দেখে আমার মনে হচ্ছিলো যেন - আকাশ থেকে মেঘহীন বৃষ্টি ঝরছে। অপ্সরার চুল থেকে চুয়ে-চুয়ে পানি পড়ছে,বৃষ্টির ফোঁটা ফোটা পানি তার কপাল ছুয়ে ঠোঁটের উপরে এসে পড়ছে। আমি অপলক তাকিয়ে দেখছি। আমার তখন ইচ্ছে করছিলো -বৃষ্টি ভেজা তার ঠোঁটগুলোর ছোয়া পেতে।
অপ্সরার গায়ে মাখা ছিল সাদা রঙের একটা কাপড়। বৃষ্টির ছোঁয়ায় তার গায়ে পড়া সাদা পোশাক তার শরীরের ভাজের সাথে মিশে গিয়েছিলো। আমি তার বৃষ্টির মধ্যে ছুটে চলা দেখছি। প্রকৃতির একটা টান আছে তাই অপ্সরা আমার কাছে ধরা দিতে সেদিন আমার পাশে এসেই উঠলো। প্রথমে আমার চোখে চোখ রেখেছিলো পড়ে লজ্জায় চোখ সরিয়ে নেয়। বাঙালি নারীদের আবার একটু লজ্জা বেশী।আমি আগে থেকেই ভিতু টাইপের তাই কিছু বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। কিন্তু মনের অগোচরে কখন যে তার সাথে কথা বলা শুরু করে দিলাম বুঝতেই পাড়লাম না।

বাহিরে টিপ-টিপ বৃষ্টি ঝরছে আমি আর অপ্সরা ছোট একটা কুঁড়েঘরের মধ্যে অবস্থান করছি। আমি তার চোখের কোণে জমা পানি আমার বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে দিলাম। সে আমার ছোঁয়া পেয়ে শিউরে উঠলো। আমরা দুজন দুজনার চোখের দিগে অপলক তাকিয়ে রইলাম। মনে হচ্ছিলো আমরা দুজন দুজনাকে হাজার শতাব্দীর আগ থেকে চিনি।
'হ্যা' একদিন এই বৃষ্টি ভেজা দিনেই আমার আর ওর প্রথম মিলন হয় এই কুঁড়েঘরে।আমরা দুজন এক ছিলাম। অপ্সরা আমার কাছে সবসময় একটা আবদার করতো। আমি যেন তাকে প্রথম দেখার মতো করে দেখি প্রতিদিন। প্রতিদিন প্রথম দেখার মতোই ভালোবাসি।তাই প্রত্যেকটা দিন আমি অপ্সরা কে এভাবে প্রথম দেখার মতো দেখি। আমাদের অন্যকোন সময় দেখা না হলেও বৃষ্টির সময় দেখাটা দুজনের জন্য ফরয ছিলো। দুজনেই বৃষ্টি ভালবাসতাম।তাই প্রতিবার বৃষ্টির সময় বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তার এই কুঁড়েঘরে উঠতাম। এভাবে অনেক বৃষ্টি পার করেছি আমি আর অপ্সরা।

একদিন এই বৃষ্টি ভেজা রাতে আমার আর অপ্সরার মিলন হয়। প্রকৃতির নিয়মে অপ্সরার পেটে আমার সন্তানের আগমন। এটা নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম না। এভাবে ৪ মাস চলে গেল। ভিতরে থাকা সেই ছোট মানুষটি বড় হতে লাগলো। তারপরেও,আমি আর অপ্সরা প্রতিদিন খুচরো টাকার বাদাম কিনে নিয়ে এসে এই কুঁড়েঘরে বসে খেতাম আর আমাদের নতুন অতিথি কে নিয়ে হাজার স্বপ্ন সাজাতাম। অপ্সরা কে তারপরেও প্রথম দেখার মতোই প্রতিদিন ভালোবাসতাম। এটা তার আদেশ বা বলতে পাড়ি ছোট খাটো একটা অধিকার। তাই আমি প্রতিদিন তাকে প্রথম দেখার মতো করেই দেখতাম।

অপ্সরার বাসা থেকে বুঝতে পারলো যে - অপ্সরা আত্মসত্তা। অপ্সরাকে অনেক অত্যাচার করা হয়। তাকে তার বাবা বিষ খেয়ে মরে যেতে বলেছিলো। এসব কোন কিছুই অপ্সরা আমাকে কখনো বলেনি। সে হাজার কষ্ট নিয়েই এভাবে আমার প্রথম দিনের প্রেমে পড়া দেখার জন্য আসতো। আমি প্রতিদিন প্রথম দেখার মতো করেই প্রেমে পড়তাম তার।
একদিন অনেক ঝড়ো বাতাস সাথে বৃষ্টি। অপ্সরা বৃষ্টিতে ভিজে-ভিজে আসছে।প্রথম দেখার চাইতেও আজকে তার প্রেমে বেশি করে পড়তে মন চাইছে।হয়ত ভিতরে থাকা ছোট্ট মানুষ্টির জন্য অপ্সরাকে আরো বেশী ভাল লাগছে। আমি আমার মনের সকল রস দিয়ে দেখছি তাকে। তার ছুটে আসা আমার ভাল লাগছে। আমি অপেক্ষায় ছিলাম অপ্সরা কখন এসে আমার হাত ধরবে। অপ্সরা হয়ত সেদিন খুব খুশি ছিলো তাই আনমনা হয়ে রাস্তা পাড় হচ্ছিলো আমাকে তাড়াতাড়ি করে ছোঁয়ার আশায়। রাস্তা পার হতেই হঠাৎ করে একটা গাড়ী পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। অপ্সরা মাটিতে লুটে পড়ে। আমি তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমার প্রথম সন্তান আর তার মা এভাবে শেষ হয়ে যাবে। অপ্সরা আর আমার প্রথম সন্তানের জন্য অনেক মায়া লাগছিলো তখন। আর কিছুদিন অপেক্ষা করলেই তো এই পৃথিবীর আলো দেখতে পারতো ছোট্ট মানুষটি।

তাই যখন বৃষ্টি হয় আমি এই কুঁড়েঘরে এসে দাঁড়ায়। আমার অপ্সরাকে প্রথম দেখার মতো করে দেখতে। এখনো সেই আশায় অপ্সরা আমার কাছে আসে। অপ্সরাকে আগের চাইতে বেশী ভাল লাগে।আমি বার-বার বৃষ্টির সময় এই কুঁড়েঘরে দাঁড়িয়ে তার প্রেমে পড়ি। অপ্সরাও আমার ছোঁয়া পাবার আশায় প্রত্যেকবার বৃষ্টিতে ভিজে আসে । আজকে অপ্সরাকে জিজ্ঞাস করবো - আমার সন্তান কেমন আছে? সে কি আমার মতোই হয়েছে??

অপ্সরা মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এভাবেই প্রত্যেকটা বৃষ্টিতে তোমার প্রেমে পড়বো আমি।ঠিক প্রথম দেখার মতো করে। আমিও আসছি........

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৫৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×