somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মামুন রেজওয়ান
আরব্য উপন্যাসের সেই মরুচারী যে সত্যান্বেষণে জীবন উৎসর্গ করে। সেই উপন্যাসের চরিত্র নিজের ভিতরে লালন পালন ও প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এই পথচলা।

"একজন ওপারের বাসিন্দা"

০৫ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটা নভেম্বর ১, ২০১৭ সনে আমার ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করেছিলাম। মানে খুব বেশীদিন আগের নয়। তখন থেকেই আলী বানাতকে আমি ফলো করতাম তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে ইউটিউবে। আজ আর আলী বানাত নেই কিন্তু তার শিক্ষা, তার উপলব্ধি সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।
.
(মৃত্যুর দুইদিন আগে তার করা ভিডিও দেখে কাঁদলাম নিরবে।)
.
This is Ali Banat's story
.
কে এই আলী? আমরা কি তাকে চিনি? চলুন চিনে নেই। আলী বানাত অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে জন্মগ্রহণ করেন বিপুল আভিজাত্য আর ঐতিহ্যমন্ডিত একটি পরিবারে। জীবনটাকে উপভোগ করতে করতে যৌবনে পদার্পণ করেন। এবং বিশাল বিজনেসম্যান হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন খুব অল্প বয়সে। দুই দুইটা হিউজ বিজনেস দাঁড় করান একক প্রচেষ্টায়। চলেন দেখে আসি তার লাইফ স্টাইলের কিছু নমুনা। 
।
তিনি ফেরারি স্পাইডাল গাড়ি ব্যবহার করেন যার মুল্য $600000।
তার প্রিয় ব্র‍্যান্ড Louis Vuitton. তার স্পোর্টস সু এর মুল্য ৯৫০০০ টাকা। যে ব্রেসলেটগুলো ব্যবহার করেন সেগুলোর মুল্য ৪৫-৫৫ লাখ। এবং নরমাল যে স্পঞ্জ স্যান্ডেল ব্যবহার করেন তার মুল্য ৫০০০০ টাকা। মনে হতেই পারে এই লোকটির জীবনে কিসের অভাব থাকতে পারে?
।
এভাবেই লাক্সারিয়াস লাইফ লিড করতেন আলী বানাত। কিন্তু হঠাৎ ২০১৫ সালে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং এটা ক্যান্সারের ৪র্থ স্টেজ। তার বাঁচার মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত মাস। 
অর্থাৎ এখন মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া তার আর কোন কাজ নেই। যখন তার রোগ ধরা পড়ার পর চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে তখন Mufti Muhamed Hoblos তার সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে যখন মুফতি জিজ্ঞাস করেন," ক্যান্সার সনাক্ত হওয়ার চার মাস পর আপনার এখনকার অনুভুতি কেমন?"। আলী বানাত উত্তর দেন "আলহামদুলিল্লাহ খুব ভাল আছি।" এবং সাথে সাথে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এরকম একটা রোগ দেওয়ার কারণে। বলেন,"এই ক্যান্সারের সংবাদ পাওয়ার পরই আসলে আমি জীবনের অর্থ বুঝতে পেরেছি, স্রষ্টাকে চিনেছি। এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রহর গুনছি। কখন আসবে সেই মুহূর্ত এটা নিয়ে আমি অস্থির হয়ে আছি। " আলী আরও বলেন " ক্যান্সার ধরা পড়ার কয়েকমাস পরে একদিন একটা স্বপ্ন দেখলাম। আমার পাশে আমার পরিবার দাঁড়িয়ে আছে আর আমি উপরে উঠে যাচ্ছি। পরম প্রশান্তিতে মনে হল এইতো আল্লাহর সাক্ষাৎ পেলাম বুঝি! কিন্তু ঘুম ভেঙে গেলে দেখি আমি নিজের বিছানাতেই আছি। তখন খুব আফসোস হল ইস! আল্লাহ আমাকে নিলেন না ভেবে। "
।
মুফতি বের হয়ে আসার সময় আলীকে জিজ্ঞাস করলেন, " এই দামী গাড়ি, দামী পোশাক এগুলো এখন আপনার কাছে কেমন লাগে?"
আলী উত্তর দিলেন "আমার প্রিয় এই ফেরারি গাড়ির চেয়ে যদি আমি আফ্রিকান একটি শিশুর মুখে নতুন জুতা পাওয়ার আনন্দ দেখতে পাই সেটাই আমার কাছে অধিক মুল্যবান মনে হবে।" 
তিনি তার অর্থ সম্পদ, লাক্সারিয়াস লাইফ একে একে সাদকাহ করতে থাকেন এবং একজন মানুষ মৃত্যুর সময় যেমন কবরে কর্ম এবং সাদকাহ ছাড়া কিছু নিয়ে যেতে পারে না ঠিক সেরকমভাবে নিজেকে আল্লাহর পথে সঁপে দেন। তার প্রতিষ্ঠা করা MATW project (Muslim around the world) চ্যারিটি সংগঠন হিসাবে আফ্রিকান অভাবী জনগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করছে। 
।
বিঃদ্রঃ- সুখটা আপেক্ষিক। আসলেই আপেক্ষিক। তবে স্রষ্টার কৃতজ্ঞতায় নিজেকে নিমজ্জিত করার মাধ্যমে যে সুখ পাওয়া যায় তা একেবারেই বাস্তবিক। ১০০% বাস্তবিক।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৫
১৩টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×