যে কোন সাহিত্যে দেশকালের রীতিনীতির প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এর সাথে যুক্ত হয় লেখকের নিজস্ব মতাদর্শ, আজন্মলালিত বিশ্বাস।
রামায়ণও তার ব্যতিক্রম নয়।
বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে জনপ্রিয় রামায়ণ হল কৃত্তিবাসী রামায়ণ। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে এর সমাদর।
এইজন্য বনবাসে ঋষিপত্নিরা সীতাকে শাঁখা পলা দিয়ে আপ্যায়ণ করেন। কারণ শাঁখা পলা বাঙালি বিবাহিতা মহিলারা পরেন।
কবিমানসে সেই রীতিরই ছাপ পড়েছে।
অন্যান্য ভাষায় রচিত রামায়ণে তাই এই ঘটনার উল্লেখ নেই।
কবি কৃত্তিবাস ভক্ত মানুষ। তার রচিত সাহিত্যেও তাই ভক্তিরসের প্রাবল্য লক্ষিত হয়।
তিনি লঙ্কার রাক্ষসকূলকেও রামচন্দ্রের ভক্তরূপে দেখিয়েছেন। তারা মনে করে সীতা হলেন ভগবতী।
তাকে নিজেদের কাছে রাখতে পারলে রাজ্য সমৃদ্ধি লাভ করবে। রাবণের সীতা হরণের মূল উদ্দেশ্যও তাই।
আবার রাবণ এটাও জানেন যে রামচন্দ্র হলেন স্বয়ং নারায়ণ। তার হাতে মৃত্যু হলে অনন্ত স্বর্গ লাভ হবে।
তাই সারা দেহে রাম নাম লিখে তিনি যুদ্ধে যান।
তাকে দেখে রাম বিলাপ করে বলেন, এমন ভক্তকে হত্যা করলে জগতে আর কেউ রামনাম উচ্চারণ করবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



