ধর্মের ধ্বজাধারীদের ভন্ডামির মুখোশ খুলে দিতে বিদ্যাসাগর একবার এক ধর্মগুরুর গল্প বলেছিলেন।
গল্প রূপে বর্ণনা করলেও এটা যে তার সুদীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অভিজ্ঞতা তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
এবার 'গল্পে' আসা যাক।
এক বিধবা মহিলা একজন ধর্মগুরুর আশ্রমে নিয়মিত প্রবচন শুনতে আসতেন। মহারাজের প্রবচনে মোহিত হয়ে তিনি প্রথমে আশ্রমের এবং তার কিছুদিন পর থেকেই সেই গুরুজির 'সেবা' করতে শুরু করেন।
একদিন আশ্রমে গুরুদেব শিষ্যদের বলছিলেন, "স্ত্রী জাতিকে সর্বদা কায়মনোবাক্যে স্বামী সেবা করতে হবে।
ভুল করেও পরপুরুষে উপগত হলে মৃত্যুর পর যমদূতেরা কাঁটাযুক্ত লোহার স্তম্ভ দেখিয়ে তাদের বলবে যেভাবে পরপুরুষ কে আলিঙ্গন করেছিলে সেভাবেই স্তম্ভকে আলিঙ্গন কর।"
সেদিন রাতে মহিলা কিছুতেই গুরুজির কাছে আসছেনা দেখে তিনি কারণ জানতে চান।
মহিলা বলেন, "ভুল করে এই পাপ করেছি গুরুদেব।"
তখন মহারাজ আশ্বস্ত করেন, "দূর পাগলি ! এখন আর ঐ স্তম্ভে কাঁটা নেই। যুগ যুগ ধরে নারীদের গায়ের ঘর্ষণে তা মসৃণ হয়ে গেছে।"
এভাবে ভুলিয়ে তাকে অঙ্কশায়িনী করেন।
সময় এগিয়েছে। আমরা নাকি মডার্ণ হয়েছি।
অথচ, আজ গুরুজিদের এই ভন্ডামী তুলে ধরলে বিদ্যাসাগরকে 'দেশদ্রোহী' বলে পাকিস্তানে পাঠান হত।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০১৬ রাত ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



