somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কামরাঙা রঙের মেঘ

০৯ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দিগন্ত রেখার ওপারে শিউলিফুলের বাসা।
পথে যেতে যেতে মনে হলো, চৈত্র এসো গেলো ;
ণিমা গত বছর বলে ছিল যেতে,
ওদের পুকুরধারে কামরাঙা গাছের ফাঁক দিয়ে রোদ আসে;
এ দেখে যদি দু’লাইন গান লিখতে পারি!

দুপুর হলো আকাশে দু’ একটা চড়ূই পাখি ছাড়া কিছু নেই;
জলপায়রা জলেই ডুবে আছে? যা গরম পড়ছে!
ভাবচ্ছি সন্ধের পর শচীনদার খুপড়ি দোকানে যাব; হপ্তা হয়ে গেল যাওয়া হয় না। ঐদিন তো বললো , বিক্রি কমে গেছে। কয়েকজন বুড়ো ছাড়া কেউ চা খেতে যায় না। ভাবা যায় দৈনিক ১২ টাকা বিক্রি ! তাও কিছু মুখস্ত মানুষের কাছ থেকে! শচীনদাকে বললাম , ১টাকা কাপ যা আর কতদিন? কিছু আনাজ-তরকারী উঠাও; তার এক কথা কে কিনবে এগুলো? পাড়া ,গায়ে তো সবার বাসাতে সবজি গাছ পুতে রাখে ।

রাত্রিরে আজ বৃস্টি হলে ভালো হতো আমার ঘরের জলপাইবনের দিকের জানালা খুলে দিতুম; রাত দুপুরে যদিও জীবন্ত ভূতের উপদ্রব !

সাংসারের খরচ বাঁচাতে শিলার বিয়ে দিল।পাঁচ বছরে তিনটি সন্তান পয়দা করে ওরস্বামী ,সন্তান সহ ওঁকে তাড়িয়ে দিল। খুব রাগ হলো পুরুষটার মন জয় করতে পারলি না? স্বল্পশিক্ষিত ,গরীব মেয়েদের তো শরীরটাই পুজি।


ছন্দার কথা মনে হলো! পাড়ার মেয়ে ।কেউ আর ওঁকে মনে রাখেনি। ওর বাবা মাও ভুলে গেছে ! সাংসারে অনেক ছেলে মেয়ে থাকলে যা হয়। ঐ দিন বনের ভেতর শালিকের ডিম কুড়াতে যেয়ে দেখলাম ওর কবরে কে জানি হাগু করে রেখেছে ! কবরেরও অস্তিত্ব নেই। আমি তখন ছোট ছিলাম , ছন্দা দেখতে ফিল্মি নায়িকাদের মত ছিল। কত জায়গা থেকে বুড়া-জোয়ান আসলো ওর বিয়ের jonno। একদিন ছন্দা উদাও! কয়েকদিন পর ওঁকে তেতুল গাছে ঝুলতে দেখা যায়। মনে আছে আমার ওর জানাজা ছাড়া কবর হয়েছিল! কেউ কেউ বলছিল এই মেয়ের এই হওয়া উচিত। তখন জানতাম না কি হয়েছিল তার সাথে। ওর মৃতু্তে চোখে জল এসেছিল , মসজিদের ইমামের উপর রাগ করে দু’হপ্তা জুমার নামায পড়তে যাইনি।


আমাদের পাড়াতে মুসলমানরাই বসবাস করতো । গ্রাম এর পুব পাশে হিন্দুরা থাকতো । মুসলমানরা ওদেরকে চাড়াল বলতো। কি কারনে বলতোজানিনা।
কোন জুম্মাবার মসজিদে নামাজ না পড়তে গেলে, বা মিতথা কথা বললে মা /বাবা বলতো চাড়াল হয়ে গেছিস! এত ছোটছিলাম যে ধর্ম কি জানতাম না, একবার স্কুলেরদীর্ঘ ছুটি শেষে সুনিলের সাথে দেখা ও মিঠাই ,খই,মিষ্টি কি সব খেতে দিল। সুনিলের সাথে দেখে পাড়ার ফারুক বললো তুই চাড়ালদের হাতে খাবার খাচ্ছিস?হিদু তুই!চাড়াল তুই! তোর বাপ কে বলে দিব।এরপর বাবা চাড়ালদের খাবার খেয়েছি বলে, কান ছিড়ে দিসিলো। এরপর অনেকদিন সুনিলের সাথে মেশা হয়নি।যদিও কলেজ লাইফে আমরা চরম বন্ধু ছিলাম।


বি:দ্: লেখাটি কিছু রিয়েল কিছু কল্পনা ।রিয়েলটাই বেশি। লেখাটি বন্ধু হারু/রুশাদকে উৎসর্গ করলাম। ঈদ তো এক সাথে কাটানো হচ্ছে না আপাদত এই অনুভুতির লেখাটিই নাও।










০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×