সে অনেক দিন আগের কথা। আমাদের গ্রামে এক কিশোরী ছিল নাম তার গোলাপী। কিন্তু তাকে প্রায় কেউ এ নামে ডাকতো না। তার কথা ছিল অস্পষ্ট তাই তার গোলাপী নাম ঢাকা পড়ে যায় বোবী নামের আড়ালে। সবাই ডাকে বোবী নামে, মা-বাবা ছাড়া। তারা গরীব মানুষ, গোলাপীর বাবা শুটকি বেছে সংসার চালায়, মা মাঝে মাঝে অন্যের বাড়িতে কাজ করে। চার/পাচ জন ভাই বোন। প্রায়ই দিন একবেলা দুইবেলা না খেয়ে থাকতে হয়। গোলাপী একটু ব্যতীক্রম অন্য মেয়েদের তুলনায়। সে গাছে চড়তে পারে, সাতার জানে, সাইকেল চালাতে পারে, নৌকা বাইতে পারে। দেখতেও সুন্দরী।
কারো গাছ থেকে কিছু পাড়ার দরকার হলে বোবীই ভরসা। খেজুর গাছের খেজুর পাড়তে উঠে দুই পা গাছে কেচকি দিয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে শরীর নাচাচ্ছে । এদিকে ভয়ে নীচের মানুষের অবস্থা খারাপ, কখন আবার বোবী গাছ থেকে পড়ে যায়। কিন্তু না বোবী কখনো পড়ে না গাছ থেকে । অনেকে মনে করে বোবীর সাথে জ্বীন আছে।
হঠাত কখনো কখনো দেখা যায়, ছেলেদের শার্ট ও প্যান্ট পড়ে দিব্যি সাইকেল চালাচ্ছে, ছেলেরা তার সাথে পাল্লা দিয়ে পারেনা। মাঝে মাঝে খেত খামারে কাজ করে টাকা আয় করে।
বর্ষা কালে নৌকা নিয়ে একাই বিলে চলে যায়। রাশি রাশি শাপলা নিয়ে বাড়ি ফিরে। ছেলেদের সাথে মাঝে মাঝে ঝগড়া ও মারামারি করে জয়ী হয়। অন্যায় কখনো সে মেনে নেয় না।
কখনো ইচ্ছে হলে সে খুব সেজে-গুজে বের হয়। মডেল হয়ে সে ঘুরে বেড়ায়। অনেকের চোখ টা-টায়। দিন দিন যেন রূপের আগুন জ্বলে উঠছে ।
একদিন শোনা গেল বোবী মারা গেছে। সবার মনে প্রশ্ন কেমনে মারা গেল বোবী ?
জানা গেল রাতে বাড়ির বাহিরে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। গাঙের ধারে রাস্তার পাশে পড়েছিল বোবীর দেহ। তার নাকে-মুখে রক্তের ছাপ।
অনেকে বলাবলি করছে- জ্বীনেই ওরে মাইরা ফেলছে, এটাই জ্বীনেরই কাজ।
অনেকে মনে করে বোবী লালসার শিকার। কামনা পূরণ করে দূর্বৃত্তরা ওকে মেরে ফেলেছে।
আজও সঠিক সত্য জানা যায়নি বোবী কিভাবে মারা গিয়েছিল?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



