
বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছে তুরস্কের কিছু সিরিয়াল বিশেষ করে ইতিহাস আশ্রিত সিরিয়ালগলো। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-
সুলতান সুলেমান
দিরিলিস আর্তগ্রুল
কুরলুস উসমান
উয়ানিস বুয়ুক সেলজুকলু
বারবারোসা
্এই টিভি সিরিয়ালগুলো দক্ষিণ এশিয়া, আরব দেশসমূহ, মুসলিম দেশ সহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বলকান, পূর্ব ইউরোপ থেকে ল্যাটিন আমেরিকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে আরব দেশগুলোসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে তুরস্ক তাদের সিরিয়াল বিক্রি করে যাচ্ছে। এছাড়াও অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতেও তুর্কি সিরিয়ালগুলোর জনপ্রিয়তা প্রচুর। কিন্তু কেন এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এসব সিরিয়াল।
প্রথমত, ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল গুলোয় মাত্রাতিরিক্ত পরকীয়া, ব্যভিচার, ঝগড়া ইত্যাদি দেখে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দর্শকরা। এ থেকে এক ধরনের মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে বাংলায় ডাবিং করা সুলতান সুলেমান বা দিরিলিস আর্তগ্রুল।
দ্বিতীয়ত, তুর্কি সিরিয়ালগুলো তৈরি করা হয়েছে বিশ্বমানের সব প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এতে করে সিরিয়ালগুলো সাউন্ড ,ইফেক্টসহ সব কিছুই হয়েছে আকর্ষণীয়।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সিরিয়ালগুলোর ভাষার ব্যবহার অন্তত সুনিপুন এবং মাধুর্যপূর্ণ । এতে করে যে কোনো দর্শক বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে ।
ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে ১২০৪ সালে এই উপমহাদেশে ইসলামের ঝাণ্ডা ওড়ায় তুর্কি বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি। অত্যাচারী লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে তুর্কিরা বাংলায় আসন গাড়ে। বাংলা ও উপমহাদেশের অন্যান্য স্থানে দ্রুত সাম্যবাদী ইসলাম জনপ্রিয় হয়ে উঠে। সেসময় থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে তুর্কিদের সাথে সম্পর্ক।
নির্মাণশৈলী-বিশ্লেষকরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক এসব সিরিয়ালের নির্মাণশৈলী অনেক অনুষ্ঠানের চেয়ে বেশ এগিয়ে। অন্যদিকে এসব সিরিয়ালের বিষয়বস্তু এবং সংলাপের মধ্যে ইসলামী ভাবধারা এবং মুসলমান শাসকদের ইতিহাসের কিছু বিষয় আছে তাই দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছেই।
বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিতসব ধরনের দর্শক এসব সিরিয়াল দেখলেও বিশেষ করে মুসলিমদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত ও সামাজিকভাবে ইসলাম প্রিয় হওয়ায় তুর্কি সিরিয়ালের প্রতি আগ্রহ এ দেশে আরো বেশি।
বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া জানিয়েছিলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক দর্শক এসব সিরিয়ালের বিষয়বস্তুর সঙ্গে নিজেদের মনের এক ধরনের সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। ফলে সিরিয়ালগুলো দর্শকদের একটি অংশের কাছে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে তো মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে আর বাংলাদেশেরও অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক নৈকট্য তারা বোধ করে। সেটা থেকে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়। তবে দর্শকপ্রিয়তা এভাবে বাড়তে থাকলে একসময় এটি দেশের জন্য নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এসব টিভি সিরিয়ালে সেখানকার ইতিহাস প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে এটা দীর্ঘ মেয়াদী বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।’
ঢাকার একজন দর্শক তাহমিনা খান অমি মনে করেন , সবথেকে বড় বিষয় হচ্ছে এসব নাটক ফ্যামিলির সাথে বসে দেখার মতো। এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম সমাজের ইতিহাস সম্পর্কে অনেকটা ধারনা পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া প্রাইভেট ইউনিভার্সটির ছাত্র মোঃ শাহরিয়ার মনে করেন , এসব সিরিয়াল দেখে মুসলিমদের ইতিহাস সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে । এবং আমাদের দেশ মুসলিম প্রধান হওয়ায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শুধু কি তাই প্রতিটি সিরিয়ালে অভিনয় করা পাত্র, পাত্রী, নায়ক, নায়িকাসহ ছোটখাটো রোল প্লে করা সবাই সাবলীল অভিনয় করেন, যেমন বাচনভঙ্গি তেমনি ডায়লগ। আছে সাসপেন্স, ড্রামা, ক্লাইমেক্স, ঘটনার ঘনঘটা, আবহ, ইতিহাস, ঐতিয্য, পোশাক সবই নজর কাড়ে তাইতো সবচেয়ে বড় কথা নেই কোন অশ্লিলতা। আমি সবগুলো সিরিয়ালই দেখছি। এক কথায় দারুন।
তথ্যসূত্র ঃ এনএনবিডি কম থেকে নেওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




