
আঞ্চলিক লোক-প্রশাসন কেন্দ্র চট্টগ্রামে এক সপ্তাহব্যাপী ট্রেনিং ছিল। এখানে যতবার আসি ততবারই মুগ্ধ হই। নতুন নতুন কিছু চোখে ধরা পড়ে। সুন্দর অনেক কিছু জানা যায় শেখা যায়। চট্টগ্রাম লোক প্রশাসন কেন্দ্রে এবার এদিকে ঢুকতেই দেয়ালে সহায়িকা দেওয়াল বা সহযোগিতার দেয়াল নামে একটি নতুন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। সেখানে বক্স এরমধ্য একপাশে লিখা আছে আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান অপর পাশে লেখা আছে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যান।
প্রথম দিন দেখলাম শুধু একজোড়া জুতা। দ্বিতীয় দিন দেখলাম এলোমেলো দু-একটা কাপড়চোপড় পরে আছেন। তৃতীয় দিন আমি নিজেই একটা প্যাকেটে আমার বাবুর কিছু জামাকাপড় ওর নিজের ব্যবহৃত টি-শার্ট রেখে এলাম। আমরা অনেকেই গরীব-দুঃখীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু সুন্দর ব্যবস্থাপনা সিস্টেম না থাকায় অনেকের পক্ষে তা করা হয়ে উঠে না। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি_করণা মহামারীর সময় আমার মেয়ের কিছু জামাকাপড় ছোট বাচ্চাদের যারা অসহায় দেওয়ার জন্য আমি ছোট্ট ব্যাগে করে অফিসে যাওয়ার সময় নিয়ে গেলাম এবং খুঁজলাম কাউকে দেয়া যায় কিনা কিন্তু এরকম কাউকে চোখে পরলো না যদিও রাস্তাঘাটে প্রচুর ভিক্ষুক ছিল কিন্তু ছোট জামা কাপড় নেওয়ার মতো কাউকে পেলাম না। এভাবে তিনদিন অফিসে নিয়ে গেলাম আর আনলাম অবশেষে একদিন ভিক্ষুক মহিলাকে বললাম যে উনার পরিচিত বা ওনার নিজের এরকম ছোট বাচ্চা আছে কিনা যে জামা কাপড় গুলো পড়তে পারে সে না বলল। তারপর একদিন কাঙ্ক্ষিত মানুষটি পেলাম ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে দোকানের সামনে ভিক্ষা করছেতাকে ব্যক্তি দিলাম উনি খুশি হলেন।
যদি এরকম একটি সহযোগিতা দেওয়াল কিংবা সহায়িকা দেওয়াল আমার আশেপাশে থাকতো এভাবে আমাকে ঘুরতে হতো না খুব সহজেই আমি ওখানে ওটা রেখে হাসতে পারতাম এবং যার প্রয়োজন সে নিয়ে যেতে পারবে।

জামা কাপড় গুলো সুন্দর করে ভাজ করে একটা ব্যাগের ভেতর রেখে দেয়ালে একপাশে বক্সে রাখলে যিনি দিবেন তার জন্য দিতে সুবিধা হিসেবে নিবেন তিনিও লজ্জা করবেন না এটি কি নিচ্ছেন অন্যরা তাকিয়ে আছে কিনা। এভাবে সুন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠুক আমাদের সমাজের দেশের প্রতিটি শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গ্রামেও।
চাইলেই মানুষকে সহযোগিতা করা সম্ভব। কয়েকজন ব্লগার মিলে বা ব্যক্তিগতভাবে একজনি যার যার এলাকায় এরকম একটি সহযোগিতা দেয়াল বক্স চালু করতে পারেন যাতে করে এই আসন্ন শীতের গরিব দুঃখী অসহায় মানুষ জামা কাপড়ের অভাবে বা শীতের পোশাকের অভাবে কষ্ট না পায়। সারা বছরই চালু থাকবে এরকম একটি প্রচেষ্টা।
ব্যাপারটা নতুন কিছু নয়। বেশ অল্প পরিসরে চালু আছে বিভিন্ন শহরে কিংবা জায়গায় একটা প্রসারিত হোক আমার আপনার হাত ধরে। এরকম মানবিক ও নতুন নতুন আইডিয়া যুক্ত হোক আমাদের দেশে সমাজে এলাকায় জনহিতকর কাজ। অবশ্যই ধন্যবাদ যিনি এটি প্রথম চালু করেছেন এবং যারা এর সাথে জড়িয়ে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০২১ সকাল ৮:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




