
বাংলার মুক্তি সংগ্রামের সূদীর্ঘ পথ পরিক্রমায় লক্ষ লক্ষ বীর শহীদানের পবিত্র রক্ত, লাখ মা-বোনের ইজ্জত-আব্রু আর শত শত জনপদ, ঐতিহ্য, সভ্যতার বিনাশের পর যখন আমরা এসেছি স্বাধীনতার স্বাদ লাভের আশায় তখনও সে আশার গূড়েবালি। এবার আমাদের স্বাধীনতা,সার্বভৌমত্ব, ইজ্জত, আব্রু, বেঁচেবর্তে থাকা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রতিবাদের ভাষার স্বাধীনতা সর্বোপরি সব ধরণের অধীকার আজ লুণ্ঠিত, ধর্ষিত, নিগৃহীত, নির্যাতিত! তাও আবার কার কাছে? স্বাধীনতার ধারক-বাহক এবং মালিক! আওয়ামীলিগের হাতে। মনে হয়, আওয়ামীলীগ তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ভুলে গেছে! ভুলে গেছে মহান স্বাধীনতার সেই সব প্রবাদ প্রতিম বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, দেশপ্রেমিক, মানবপ্রেমিক রাজনীতিবিদ আর মহান বীর সেনানীদের মহান আত্মত্যাগ আর অবদানের কথা! তাদের মানসিকতা ছিল সহনশীলতা আর ভালবাসায় পুর্ণ। কোন সংকীর্ণতার অক্টোপাসের আটবাহুর থাবায় আবদ্ধ ছিলোনা। তাদের নখরাঘাতে ছিন্ন হতোনা বিরোধীদের গাত্র, গাত্রবসন। কিন্তু, আজ কী দেখছি? বিষাক্ত ভাইপার! রক্তলোলুপ হায়েনা! মানবতার দুশমন হালাকু খান! হিট্লার! মুসোলিনি! সি আই এ, কু-ক্লাক্স-ক্লান, মোসাদ্, কেজিবির বড় বড় রাক্ষস-খোক্ষস এদের সবার হিংস্রতাকে অতিক্রম করে একটা আলাদা ধরণের আসন প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। যার বিষাক্ত ছোবল থেকে ধীরে ধীরে কারোরই মুক্তি নাই।
বঙ্গবন্ধু একটি নাম একটি ইতিহাস একটি দেশ একটি বৈশ্বিক পরিচয় একটি গৌরব একটি অহংকার!

আমরা এমন একজন মহান দেশপ্রেমিক সাচ্চা ভালোমানুষ পরম মানবতাবাদী নিরহঙ্কার নেতার পরম ভালোবাসায় আশির্বাদপুষ্ট বাংলাদেশী হয়েও তাঁর মতোন ভালবাসা, মানবতা প্রদর্শন, ধৈর্য, সহনশীলতায় পূর্ণ হৃদয়, ছাড় দেয়ার মানসিকতা, দেশপ্রেম, আদর্শ কোন কিছুই লাভ করতে পারিনি। তাহলে কী ধরে নেবো শুধু মহান নেতার গড়া দলের লোক বলে আমাদের জন্য সাত খুন মাপ? আমরা যাই করিনা কেন এতে নেই কোন পাপ? হাজারো কূকর্ম করে বেড়ালেও আমি নিষ্পাপ? বাপরে বাপ!!
বঙ্গবন্ধু কোন একটা দলের একার অধীকারে থাকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ১৯৬৯ এর নির্বাচনে এত্তগুলো আসন লাভ করার পিছনে চোখ দিলেই বুঝা যাবে তিনি সব শ্রেণির সবার মনের মণিকোঠায় আসন করে নিয়েছিলেন বলেই এরকম জনমত লাভ করেছিলেন। ভিন্নমত আর ভিন্নপথ সব যুগে সব অবস্থায় সব সময়ই ছিলো। বিরুদ্ধ মতের লোক থাকবেই। সবাই এক মত এক পথ নিয়ে চলবে এটা আশা করা যায় না। বঙ্গবন্ধু ঠিক সেখানটাতেই শ্রেষ্ঠ সবার উপরে। তিনি সেই যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছিলেন। কিন্তু আপনি আওয়ামীলীগ তা করতে পারেননাই। এটা আপনার ব্যার্থতা নয় এটাতে অর্জনগত সমস্যা রয়েছে। চেষ্ঠা করলে সুপথে ফিরে আসতে পারবেন। ভয়ের কোন কারণ নেই। সুপথে আসুন। সহ্য করুন। ভালবাসুন। ছেড়ে দেয়ার মানসিকতা অর্জন করুন। নিজের ভুল নিজে ধরার চেষ্ঠা করুন। নিজে নির্ভুল! এই ধারনার এই সংকীর্ণতা থেকে বেড়িয়ে আসুন। ভালো থাকুন। ভালো থাকতে দিন। শুধু শুধু বংগবন্ধুর দোহাই দিবেন কিন্তু সেই মহান নেতার আদর্শের ছিটেঁফোঁটাও আপনার আমার ভিতর থাকবেনা তা কী হয়?
নোটঃ আমার বক্তব্য আপনার সাথে মিলবে আমি তা মনে করিনা। আমার বক্তব্যের আওতামুক্ত রয়েছেন খাঁটি দেশপ্রেমিক, ভালমানুষ আওয়ামী নেতা-কর্মী-সমর্থক। যারা উত্তম মনণশীলতায় পরিপক্ষ তারা নহেন আমার প্রতিপক্ষ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১৬ দুপুর ২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



