somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃ মঈনুদ্দিন
সত্য আর মিথ্যাকে এক করি না। যারা অসত্য দিয়ে সত্যকে ঢাকতে চায়; তাদের সঙ্গ ধরি না। নতুন যে কোন কিছু শিখতে ভালো লাগে। কেউ কিছু শিখতে চাইলে সম্ভব সাধ্যমতো চেষ্ঠা করি। প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক জ্ঞানে দক্ষতা অর্জন করতে চাই।

আমরা এমন দেশ চাইনি!!

১৭ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দীর্ঘ নয়টি মাস রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনীময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা ভোগ করবে দেশের কয় কোটি আম-জনতা? স্বাধীনতা অর্জনে বর্ষপূর্তির ৪৫তম বছরে এসে এ প্রশ্ন বারে বারে দ্বারে-দ্বারে ঠুকরে মরছে! এ দেশ কখনো ছিলো হার্মাদ-হালাকু, কখনো মুগলদের, কখনো বৃটিশ-বেনিয়া, কখনো পাকিস্থানী হায়েনাদের হাতে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক দুঃখ ও বেদনাময় বিয়োগান্তক ঘটনার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বপরিবারে শহীদ হওয়ার পর থেকে কখনো ষড়যন্ত্রকারী হঠকারী খুনি শাসক, কখনো মেজর জিয়া, এরশাদশাহীর শাসন,কখনো বিএনপি, কখনো আওয়ামীলীগ আবার ঘুরে ফিরে বিএনপি-আওয়ামীলীগ এই চক্রেই দেশ মহাকালের ঘূর্ণাবর্তে পড়ে লাঠিমের মতো বন্‌বন্‌ করে ঘুরছেই তো ঘুরছে।
কেননা,
আজো এই দেশ রয়ে গেছে কোন না কোন দলের মতের আদর্শের কাছে বন্দি!!

অথচ, এ দেশের আদর্শ হবে একটি। চেতনা হবে একটি। দেশের নাম ও হবে একটি। দেশের জনগণও হবে এক জাতীয়তার পরিচয়ে।

কিন্তু,
জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে যখন বিএনপি দেশের ক্ষমতায় গেল বা যায়, মসনদে বসার পর (যতবারই ক্ষমতায় বিএনপি বসেছে) আওয়ামীলীগের আক্রমণ বাণী ছিল- এদেশ পাকিস্থান হয়ে যাবে আর জামাত ও অন্যান্য সমমনা ইসলামিক দলগুলো নিয়ে বিএনপির সঙ্গে থাকায় দেশ আফগানিস্থান ও আরো অনেক দেশ হয়ে গিয়েছিল, গেছে এবং ভবিষ্যতেও হয়ে যাবে বলে শংকা রয়েছে।
!!!! কিন্তু, বাংলাদেশ হয়নি!!!
তারপর,
ক্ষমতার পালাবদলে, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে বিএনপি ও অন্যান্য সবাই বলা বলি করছে দেশটা "ইন্ডিয়া" হয়ে যাবে??
!!! কিন্তু, বাংলাদেশ হয়নাই!!!
অত্যন্ত দুঃখ আর মহা পরিতাপের বিষয় হলো-
এই দেশ কখনো আওয়ামীলীগের আর কখনো বিএনপির?

!! আবার শংকা জাগে কখনো না এটা আফগানিস্থান, ইরাক, ফিলিস্তিন না হয়ে যায়!!??

ভৌগোলিক দিক বিবেচনা করলে এ দেশ পাকিস্থান, আফগানিস্থান বা আরবের কোন দেশ হবার কোন সুযোগই নাই। শুধু মাত্র নিশ্চিন্তে ইন্ডিয়া হয়ে যাওয়া ছাড়া!!!?????
হয়ে যাবে কী? ইন্ডিয়া?



কিন্তু, আমরাতো বাংলাদেশ চাই।
তাই তো চেয়েছিলাম সহস্র বছর ধরে।।
আমরা আওয়ামীলীগের ইন্ডিয়া বা রাশিয়া না বা বিএনপি-জামাতের পাকিস্থান চাইনা।
আমরা চাই বাংলাদেশ। সোনার বাংলাদেশ।
তাহলে,
এ বিরোধ কী নিষ্পত্তি হবার নয়?
শুধুই সংঘাত, সন্দেহ আর কন্সপিরেসির মাঝেই অতিবাহিত হবে আমাদের নাগরিক জীবন!!!?? বোধদয় কী হবেনা জাতিয় নেতৃবৃন্দগণের?? হাতে-হাত দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গড়া হবেনা আমাদের প্রিয় বাংলাদশকে??


আহ!!
ভূ-খন্ড, সংবিধান সবইতো পেয়েছি। শুধু পাইনি স্বাধীনতা। পাইনি স্বাধীনতার আসল স্বাদ; খুনা-খুনি, হিংসা-বিদ্বেষ, সংকীর্ণ দলাদলি আর ক্ষমতাসীনদের দলন-নিপিড়ণ ছাড়া।

ইল্যাক্ট্রোনিক্স আর প্রিন্ট মিডিয়া সর্বত্রই শুধু একই রিপোর্টঃ গুম-খুন-ছিনতাই-হাইজ্যাক-রাহাজানী-লুটপাট-দখলদারিত্ব-ধর্ষন-বোমাবাজী-সন্ত্রাসী-ভাংচূড়-অগ্নি সংযোগ-ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সব আইটেমই রয়েছে।
আরো রয়েছে জেল-জুলুম, অত্যাচার-অবিচার। রয়েছে আরো নানা রকমের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।

নেই কারো উপর কারো বিশ্বাস-আস্থা। নেই রাজনৈতিক শুদ্ধাচার। নেই সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ। অথচ এসবই তো থাকার কথা ছিলো আমাদের প্রিয় স্বদেশে।


শান্তি আর স্বাধীনতার ভোগী শুধু ক্ষমতায় যারা থাকে তারা এবং অনুসারীরা। আর সবার জন্য বরাদ্দ অশান্তি, হয়রানী আর টেনশন।
দেশের জনগণ বলতে বুঝায় ক্ষমতাসীন সরকার আর তাদের দলের লোকেরা। যেন এটা কোন দেশ নয় একটা দল বা সংগঠন??

তাছাড়া,
আর সবখানেই বল প্রয়োগ নীতি। ক্ষমতার নির্লজ্জ প্রদর্শণি। চাটুকারীতা আর চাটুকারদের হুক্কাহুয়া ধ্বনি!! মিথ্যার ফুলঝুরি!! সন্দেহের বিষবাষ্পে অন্ধ আজ সবাই। খুলছেনা কারো অন্তর্দৃষ্টি। সৃষ্টি হচ্ছেনা পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা আর ভালবাসার শুভদৃষ্টির!!

তাহলে, শেষ পরিণতি? জানিনা! তবে, জানতে চাই। বলতে চাই। আসুন, সবাই ভালবাসার মেলবন্ধনে আবদ্ধ হই। একে অন্যকে ভালবাসি। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করি। বহুকষ্টে, ত্যাগ আর তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বাদ-সুফল সবাই ভোগ করি।।
***গণতন্ত্র আর স্বাধীনতা বা দেশ পরিচালনার মূলসূর কী টি এইচ গ্রীণ এর এই কথায় নেই?

"বল নয় সম্মতিই রাষ্ট্রের মুল ভিত্তি।"

বিঃদ্রঃ ছবি কার্টিসি ইন্টারনেট।
পূনশ্চঃ প্রবন্ধের মূল অংশের লেখার সাথে মিলিয়ে দেয়া প্রথম টাইটেল চেঞ্জ করে বর্তমান টাইটেলেই রেখেছি। এ বিভ্রাটের জন্যে ক্ষমা চাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ১১:০৭
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×