somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার পারুল ভাবনা

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার পারুল ভাবনা
-----------------------------------------------
রুপকথার গল্পতে দাদি-নানিদের মুখে সেই ছোটবেলা হতে সাত ভাই চম্পা আর পারুলের গল্প শুনে শুনে পারুল নামটার সাথে পরিচয় ছিলো ছোট থেকেই।বিশেষ করে বিখ্যাত গান "সাত ভাই চম্পা জাগরে জাগরে, ঘুম ঘুম ঘুমেতে ঘুমেরই ঘোরে, একটি পারুল বোন আমি তোমাদের, ডেকে ডেকে সাড়া"।
যা হোক সেটাতো গেলো গান আর রুপকথার পারুল।কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে আমার জন্মস্থান মানে সোনাতলাতেই যে পারুলের অস্তিত্ব আছে ২০০৮ সালের আগ পর্যন্ত সেটা ছিলো আমার কাছে সম্পূর্ন অজানা।পারুল কে নিয়ে হয়েছে গবেষণা, আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক, ইত্যাদি ইত্যাদি, সবই মুখে মুখে শোনা।স্বাভাবিকভাবে পারুলের এতো গল্প শুনে মনে একধরনের আগ্রহ জন্মাতেই পারে।পারুল ঠিকই, কিন্তু রুপকথার পারুলের সাথে রয়েছে এর বিস্তর ফারাক।কেননা রুপকথার পারুল একটি চরিত্র আর সরকারি নাজির আখতার কলেজের পারুল একটি ছায়া সুনিবিড় বিশাল বৃক্ষ।কিন্তু এতো ফারাক থাকলে কি হবে! বৃক্ষ পারুলও স্থানীয় লোকালয়ে রুপকথার পারুলের মতোই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।যখন ২০০৮ সালে এই কলেজে আমি শিক্ষা গ্রহনের উদেশ্য পদার্পন করি তখন থেকেই এই পারুলের সাথে একটি বলতে গেলে আত্নার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।যদিও অনেক গবেষক এই গাছটি কে সরাসরি পারুল বলতে নারাজ।তাদের মতে এটি পারুল প্রজাতির একটি বিরল গাছ, যা উপমহাদেশে বিরল।কিন্তু গবেষকদের মত যাই হোক স্থানীয়রা এটি পারুল নামেই ডাকতে পছন্দ করে।
সে যাই হোক ঐ যে বলছিলাম পারুলের সাথে আমার পরিচয়ের গল্প সেখানেই ফিরে আসি।কলেজের লাইব্রেরিয়ান সম্পর্কে আমার চাচা মো: মহসীন মিয়া ওনার কাছ থেকেই প্রথম পারুলের কথা জানতে পারি।কেন মানুষ পারুল কে নিয়ে এতো আগ্রহী ইত্যাদি।তিনি আমাকে বললেন যে, এই পারুল গাছ দেখার জন্য অনেক গবেষক এসেছিলেন এখানে।অনেক তথ্য নিয়ে গেছে।সেই সাথে কলেজ থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন পারুলের একটা কপিও আমাকে ধরিয়ে দিলেন।তার কাছ থেকে একপ্রকার যেচেই পারুল সম্পর্কে অনেক কথাই শুনলাম।তার কথা শোনার পর পারুল সম্পর্কে আমার অনুসন্ধিৎসা জেগে উঠলো।আসলেই এটি কি গাছ বা কেমন গাছ আমাকে জানতে হবে।লাইব্রেরী থেকে সোজা চলে গেলাম পারুল গাছের নিচে।খুব ভালো করে চারপাশ দেখতে লাগলাম, মনে হলো আমি পারুল নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছি(আজাইরা চিন্তা করলে যা হয় আর কি)।
প্রতিদিন পারুল গাছের চত্তরে জমে ওঠে শিক্ষার্থীদের জম্পেস আড্ডাবাজি।সকাল থেকে দুপুর আবার বিকালে স্থানীয়দের খোশ গল্প তো আছেই।হয়তো এভাবেই গল্প চলতে থকবে অনন্তকাল। পারুলের ফুল গুলো সাদাটে, পাতা হালকা চেপ্টার মতো সবুজ আভা, পাতার ফাকে ফাকে সরু সরু লম্বা বীজ ঝুলে আছে সর্বত্র। কিন্তু পারুল সম্পর্কে তথ্যগত দিক দিয়ে বিস্তর জানার কোন মাধ্যম তখন সেখানে ছিলো না।এখন অবশ্য তথ্য সম্বলিত একটা প্যানা সেখানে আগত সকলের জানার আগ্রহকে পরিপূর্ণ করতে সহায়তা করছে।যা কিনা বছর খানিক আগেও ছিলো না।
সে যাই হো শুনেছিলাম পারুলের বীজ, ডাল কোন কিছু থেকেই কোন নতুন অঙ্গকুর জন্মায় না।খেয়ালও করেছি গাছের নিচে এতো সরু সরু বীজগুলো পড়ে আছে অথচ আশে পাশে একটিও নতুন অঙ্কুর নেই।
ঐ যে বললাম অগত্যতা পারুল গবেষক হওয়ার ইচ্ছা থেকেই একদিন গাছ থেকে একটা ডাল ভেঙ্গে বাড়িতে নিয়ে আসলাম, এই ভেবে যে, দেখি না এর থেকে আমি চারা তৈরি করতে পারি কিনা(পাগলের ঘি খাওয়ার শখের মতো আর কি)।ডালটি বাড়িতে নিয়ে আমার দাদুকে দেখালাম।অবশ্য তিনি আগে থেকেই পারুল গাছ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।তাই আর আমাকে নতুন করে বেশি কিছু বলতে হয়নি।তাকে বললাম আমি এর ডাল দিয়ে চারা বানাবো।তিনি বললেন জিবনেও সম্ভব না।এতো বড় বড় গবেষক কিছুই বের করতে পারলো না আর তুই করবি এর চারা।কথাটা তিনি আমাকে একটু টিপ্পনি কেটেই বললেন।কিন্তু ঐ যে বললাম আমি পারুল গবেষক হতে চাই।তাই তার কথা আর কর্ণপাত না করে আমার ডাল থেকে চারা কলম তৈরির যতো পদ্ধতি আছে সেগুলো সম্পর্কে বই পড়ে জানার চেষ্টা করতে থাকলাম।কেননা আমার মনে জেদ আমাকে পারুল গবেষক হতেই হবে।কয়েকটি চারা কলম তৈরির বই পড়া সমাপ্ত করে ডাল টা দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে কলম চারা করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ন করলাম।এভাবে দিন যায় আর আমার অপেক্ষার প্রহর বাড়তে থাকে।প্রতিদিন কলেজ শেষে বাড়িতে এসেই আগে পারুলের কলম পর্যবেক্ষণ করি যে, অঙ্কুর জন্মালো কিনা।এভাবে প্রায় মাস খানিক পর আমার দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান। দেখলাম ডালে ছোট ছোট কুড়ি বের হচ্ছে।দৌড়ে দাদুকে গিয়ে বললাম দেখেন ডালে অঙ্কুর বের হয়েছে।কিন্তু দাদু কিছু মন্তব্য করলেন না।কিন্তু তাতে কি আমার খুশি দেখে কে।এভাবে কুড়ির পাতা বড় হলো কিন্তু চিন্তার বিষয় হচ্ছে ডালে কোন শিকড় নেই।আর বের হওয়ার কোন লক্ষন ও দেখা যাচ্ছে না।কি করবো বুঝতে পারছিলাম না।পাতা বেশ অনেক বের হলো কিন্তু শিকড় নেই। আস্তে আস্তে পাতাগুলো শুকিয়ে যেতে থাকে। সাথে সাথে আমার গবেষণার ও সমাপ্তি।সেই থেকে পারুল গবেষণায় আমার ক্ষান্ত।
তবে কলেজ জিবনের সৃতিতে পারুল একটি অংশ হয়েই আছে ও থাকবে।কেননা পারুল গাছের নিচে সেই জম্পেস আড্ডার কথা কি ভোলা যায়।
সময়ের আবর্তে হয়তো আমরা পারুল চত্তরের আড্ডা থেকে হারিয়ে গেছি কিন্তু আমাদের অনুজ প্রতিম হাজারো শিক্ষার্থীর আনাগোনায় আর আড্ডা বাজিতে অম্লান হয়ে থাকুক আমাদের চিরচেনা পারুল চত্তর।আর স্ব-মহিমায় উচু শিরে দাড়িয়ে থেকে পারুল যুগিয়ে যাক তার সম্পর্কে জানার অনুসন্ধিৎসা কে।?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৯:৩৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×