
বৈশাখ মানেই মেলা, কাঠ পুতুলের মেলা,মণ্ডামিঠাই, আর মুড়ি-মুড়কির মেলা।চিনির ছাচের হাতি-ঘোড়া, মাটির হাড়ি-কড়াই,টাট্টু ঘোড়ার মেলা।বাতাসা,জিলাপী,নাড়ু সন্দেশ,খই-খাগরার মেলা।নাগরদোলা, হাতপাখা,বাঁশের বাঁশি, সঙ -যাত্রার মেলা। মেলা আর মেলা হরেক রকম জিনিসের মেলা।
এমনটাই দেখে দেখে বড় হয়েছি,গা গতরে ফুলে-ফেপে বড়ো হয়েছি খানিকটা। বৈশাখ মানেই মেলা,আর মেলা মানেই নানী বাড়িতে দীর্ঘ ছুটি।নানার সাথে, মামাদের সাথে প্রতিদিন মেলায় যাওয়া।পুতুল কেনা,টমটম গাড়ি কেনা,সার্কাস দেখা,যাত্রা দেখা,হুন্ডা খেলা,কার খেলা, সাপ খেলা দেখা।মণ্ডামিঠাই, মুড়ি-মুড়কি,রসগোল্লা,জিলাপী-বাতাসা সের দরে কিনে মাটির হাড়িতে সন্ধ্যার আগে গা-গতরে বিনে পয়সার পাউডার লাগিয়ে বাড়ি ফেরা।

আজ সব পাল্টিয়েছে।সের দরের জায়গা যেমন কেজির হিসাব দখল করেছে,ঠিক তেমনি মাটির হাড়ির জায়গাতে রঙ্গিন নঁকশার কাগজের প্যাকেট স্থান করে নিয়েছে অনায়াসে।
এ স্থান দখলে অবশ্য তাকে কোন যুদ্ধে জড়াতে হয়নি।আপনা আপনিই মানুষ তার রুচিবোধ পাল্টিয়েছে। মাটির বাঘ-ভাল্লুক, পুতুলের জায়গা একচেটিয়া দখল করে এখন প্লাস্টিকের বাহারি সব খেলনার জয়জয়কার।ছেলেপুলে কেনেও দেদারছে এসব খেলনা।মাটির বাঘ-ভাল্লুকে তাদের কোন মোহ নেই।মোহ এখন মিলেমিশে একাকার পিস্তল-গুলিতে।যাত্রা-সার্কাসেও আগ্রহ নেই বিন্দুমাত্র।সহজেই অনুমান করা যায় আমার গা-গতরে বয়সের ছাপ যেমন দিনদিন বেড়েই চলেছে,ঠিক তেমনি সংস্কৃতির রঙ ও বদলেছে অনেকটা। সংস্কৃতির নিয়মই এমন।কারন সংস্কৃতির কোন নির্দিষ্ট অঞ্চল নেই,রাজ্য নেই,দেশ নেই।সে কোন দেশের সীমারেখায় আবদ্ধ থাকতে নারাজ।
সংস্কৃতি পালটায়, পরতে পরতে পালটায়।যুগের সাথে, সময়ের সাথে, অঞ্চলের সাথে সে নিজেকে খুব সহজেই খাপ খাইয়ে নেয় অত্যান্ত সুন্দরভাবে। সংস্কৃতির ধারাটাই এমন।আর এই পরিবর্তনের আবর্তে সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়ে কিছু অপ-সংস্কৃতির উপাত্ত।ঠিক সিধেল চোরের মতো।সিন্দুকের কাঠামো যদি শক্ত না হয়,মজবুত না হয় তবে সহজেই সিধেল চোর সিন্দুক ভেঙ্গে নিজের কর্ম সম্পাদন করে চলে যায়।সংস্কৃতি ও তেমন।এর কাঠামো যদি শক্ত না হয় তবে অতি সহজেই অপ কিছু ঢুকে পরে।
কোনভাবেই সংস্কৃতির বিকশিত, আবর্তিত,পরিবর্তিত হবার বিপক্ষে আমার অবস্থান নয়।আমার অবস্থান শুধু যা কিছুর সম্মুখভাগে অপ কিছু যুক্ত করে সহজেই সমালোচনার বেড়াজালে আবদ্ধ করা যার তার বিপক্ষে।
আমিও চাই সংস্কৃতি বিকশিত হোক,পরিবর্তিত হোক,আবর্তিত হোক, পরিচিত করুক আমার আমিকে বিশ্ব দরবারে।বহন করুক,বিনিময় করুক, তুলে ধরুক আমার নিজস্বতাকে,আমার আপন স্বত্তা কে,আমার আমিত্বকে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





