ইসলামী আন্দোলনের পথ কখনোই মসৃন ছিল না । নানা চড়াই উত্রাই বাঁধা বিপত্তির মধ্য দিয়েই ইসলাম তার আপন গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীময় । ইসলামবিরোধীরা যতই চেষ্টা করেছে ইসলামকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য ততই ইসলামের সুমহান আলো দ্বিগুন বেগে উত্সারিত হয়েছে । ইসলামী আন্দোলনের বন্ধুর পথতো কন্টকাকীর্ন হয়েছিল সেই প্রথম দিন থেকে যেদিন আল্লাহর রাসুল সা. ইসলাম প্রচার শুরু করেছেন । আল্লাহ প্রথম শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন সুমাইয়া রা. কে তার স্বামী এবং সন্তানের সামনে লজ্জাস্থানে নির্মমভাবে আঘাত করে শহীদ করে কাফিররা ভেবেছিল তার সন্তান ভয়ে ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে ! এরাই তারা যারা হামযা রা. কে উহুদের প্রান্তরে শহীদ করে বিদ্বেষবশতঃ তার কলিজা চিবিয়েছিল ইসলামের প্রতি তাদের এতই ঈর্ষা ! তবে এতে ইসলামকে দমানো যায়নি যায়নি সুমাইয়ার সন্তানকে ইসলাম থেকে দূরে রাখতে । হযরত খাব্বাব রা. এর একটি একটি করে অংগ কেটে তারপর শূলে চড়ানো হয়েছে তাতেই কি থেমে গেছে ইসলামী আন্দোলনে খাব্বাব সরে গেছে এপথ থেকে ? ইসলামী আন্দোলনের জন্য কোন অপরাধ ছাড়াই শাসক চক্রের হাতে শহীদ হয়েছেন হাসান আল বান্না ইখওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা , তারপর মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাফসীর ফি জিলালিল কোরআনের রচিয়তা সাইয়্যেদে কুতুব , আওদাহ সহ নাম না জানা অসংখ্য ইখওয়ান অসহ্য নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন গাজালীসহ হাজার হাজার ইখওয়ান কর্মী । ইতিহাস স্বাক্ষী নির্যাতনকারী জামাল আবদেল নাসের ধ্বংস হয়ে গেছে কিন্তু ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত ইখওয়ান আজ ঠিকই মিশরকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে । তুরস্ক থেকে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠানোর জন্য অনেকবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনকে আন্দোলনের নেতা আরবাকানের রাজনৈতিক জীবন নিষিদ্ধ করেছে নাস্তিকরা কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে সেই ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আজ ক্ষমতায় আর নাস্তিক সেনাপ্রধান আজ জেলখানার অন্ধকারে জীবনের চাওয়া পাওয়ার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত ওরা ভেবেসিল আরবাকানের মত ইসলামী ব্যক্তিত্বকে সরাতে পারলেই বুঝি আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু এরদোগান এসে প্রমাণ করলেন ইসলামী আন্দোলন কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল নয় । ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সরানোর জন্য নাস্তিকেরা ধর্মাদ্রোহীরা সেই প্রাচীনকাল থেকে সবসময় তিনটি পর্যায় অবলম্বন করে থাকেঃ
প্রথম ধাপঃ তাদেরকে চারিত্রিকভাবে কলংকিত করার চেষ্টা করে যাতে সাধারন মানুষ তাদের ঘৃনা করে ।
দ্বিতীয় ধাপঃ এতে যদি তারা ব্যর্থ হয় তবে তাদেরকে জেলজুলুম অত্যাচার করে এই পথ থেকে সরানোর চেষ্টা করে ।
তৃতীয় ধাপঃ তারপরও যদি ব্যর্থ হয় তবে তাদেরকে দুনিয়া থেকে সরানোর চেষ্টা করে ।
আলহামদুলিল্লাহ আমাদের দেশে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা তৃতীয় ধাপের চক্রান্তের স্বীকার তার অর্থ তারা প্রথম দুটি ধাপে সফলভাবে উত্তীর্ন হয়েছে । আশার কথা তৃতীয় ধাপটি এমন যেখানে তাদের সাফল্য বা ব্যর্থ্তা উভয়ই আল্লাহর নিকট খুবই পছন্দনীয় ।
প্রথম ধাপের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে তখনই যখন এদেশের মানুষ বিশ্বাস করেছে যারা ৭১ এর পূর্বে যারা আল্লাহর ভয়ে কখনোই ধর্ষন করেনি ৭১ এর পরেও সেই আল্লাহকে ভয় করে কখনোই ধর্ষন করেনি তারা হঠাত্ যুদ্ধের সময় ধর্ষন করতে পারে না । অভিযোগ যে মিথ্যা এধারনা তখনোই বদ্ধমূল হয়েছে যখন তারা দেখেছে যারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারাই ধর্ষনের সেন্চুরীকারী যাদের কাছে ধর্ষন কোন অপরাধ নয় তখন জনগন বুঝতে পারে তারা নিজেরা কলংকিত পন্কিল চরিত্র অধিকারী তাই অন্যের পবিত্রতাকে নষ্ট করার জন্য চেষ্টা করতেছে তখন তারা ব্যর্থ হয় ।
দ্বিতীয় ধাপেও তারা ব্যর্থ হয় যখন জেল জুলুম রিমান্ডের নামে অকথ্য নির্যাতনেও তাদের এপথ থেকে সরাতে ব্যর্থ হয় ! তারা সরাবে কি করে ? সূরা সফফের আল্লাহর ঘোষনা অনুযায়ীতো তারা নিজেদের ধন সম্পদ আর জীবনের বিনিময়ে আল্লাহর কাছ থেক জান্নাত কিনে নিয়েছে ! এ ব্যবসার তেজারতের সন্ধানতো আল্লাহ নিজে তাদের দিয়েছেন আর তার চেয়ে প্রতিশ্রুতির উত্তম রক্ষক আর কে হতে পারে ? আর জেলজুলুমকে তো তারা রাসুলের সুন্নাত মনে করে । রাসুলকেও কাফীররা শাবে আবু তালিবে বন্দী করে রেখেছিল খাবার কিনতে দেয়নি কাজ করতে দেয়নি রাসুল সা. গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারন করেছিল সে তুলনায় আজকের যুগের নির্যাতন তো কিছুই নয় । তাই নাস্তিক কাফিরেরা এ ধাপেও ব্যর্থ হয় ।
বর্তমানে তাদের তৃতীয় ধাপের চক্রান্ত চলতেছে এর ফলাফল সম্বন্ধে আল্লাহই ভালো জানেন হয়তো তাদেরকে শাহাদাতের মর্যাদা দিতে পারেন অথবা আবার ফিরিয়ে দিয়ে তাঁর দ্বীনের খেদমতে লাগাতে পারেন ।
আজ দেখি চারিদিকে নাস্তিকেরা উল্লাস করতেছে । একজন আত্মস্বীকৃত নাস্তিককে দেখুন যে বলেছিল আমি মুসলিমও না হিন্দুও না
Click This Link
তবে নাস্তিকদের উল্লাস করার কিছু নেই ইতিহাস স্বাক্ষী ইসলামী আন্দোলন সাময়িক বিপর্যয়ে পড়ে কিন্তু কখনোই চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়না । আর এ আন্দোলন নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির উপর নির্ভর করে না । গোলাম আযম সাঈদী নিজামী মুজাহিদ হয়তো আজ নেতৃত্ব দিয়েছেন কিন্তু একথা অনস্বীকার্য যে তারাতো চিরদিনের জন্য নয় তারা যে কন্টকাকীর্ণ পথে ইসলামী আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছেন সেই পথেই রাসুলের আদর্শের অনুসারীরা হয়তো জামায়াতে ইসলামী নামে অথবা অন্য কোন নামে এগিয়ে যাবে । এগিয়ে যাবে যুগশ্রেষ্ঠ নকীবেরা ইসলামের সুমহান বাণী বুকে নিয়ে সেদিন নাস্তিকদের আর মুনাফিকদের পরিণতি কি হবে আল্লাহই সম্যক অবগত ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


