somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রিয় কথা প্রিয় প্রসঙ্গ .....................০২

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক.

কতিায় শব্দচয়ন সম্পর্কে কবিগুরু বলেন:

”কোনো কবিরই তাঁর প্রকাশমাধ্যমটি গোঁড়া সম্ভ্রান্ততার ধ্বজাধারী কোনো দোকান থেকে ধার করা উচিৎ নয়। তাঁ শুধু নিজস্ব বীজ থাকলে হবে না, নিজের জমিও তাকে তৈরী করতে হবে। প্রত্যেক কবির নিজস্ব বৈশিষ্টমন্ডিত স্বতন্ত্র প্রকাশ ভাষা থাকে। তবে তার অর্থ্ এই নয় যে সম্পূর্ণ্ ভাষাটি তার নিজের তৈরী; বরং ভাষটিকে তাঁর নিজস্ব ঢংয়ে ব্যবহার এবং নিজস্ব জীবনের ছোঁয়া দিয়ে একে তার নিজস্ব সৃষ্টির স্বতন্ত্র বাহনে পরিণত করে।

কবিতা মানুষের সকল জনগোষ্ঠির হৃদয়েই থাকে। আর তাদের এই হৃদয়ের আবেগগুলোকে যথাসম্ভব সুষম ভাষা প্রদান করাটা তাদের প্রয়োজন। এজন্য তাদের একটি মাধ্যম থাকতেই হবে, সচল এবং সুনম্য যা বারবার তাদের সম্পূর্ণ্ নিজেদের হয়ে উঠতে পারে, যুগ যুগ ধরে।

বড় সব ভাষাই বদলেছে এবং বদলাচ্ছে। পরিবর্তন এর চেতনাকে যেসব ভাষা বাধা দিয়েছে সেগুলোর ধ্বংস নিশ্চিত ছিল এবং তারা চিন্ত-দর্শ্ ন ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে কোনো বড় ফসল ফলাবে না। যখন আঙ্গিক স্থির হয়ে পড়ে তখন চেতনা হয় মেনে নেয় তার কারাগারকে অথবা বিদ্রোহ করে।”

(তথ্যসূত্রঃ রাধাকৃষ্ণাণ সম্পাদিত Contemporary Indian Philosophy বইয়ের অন্তর্ভুক্ত কবিগুরুর লেখা The Religion of Artist নামক প্রবন্ধ থেকে অনূদিত)

দুই.

মৈত্রেয়ী দেবীর ’মংপুতে রবীন্দ্রনাথ ‘ শীর্ষক গ্রন্থের কল্যা্ণে রবীন্দ্রনাথের মংপু অবস্থান রবীন্দ্র ভক্তদের কাছে অজানা নয়। রবীন্দ্রনাথের একটি প্রিয় জায়গা ছিল মংপু । দার্জিলিং থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে দার্জিলিং হিল কাউন্সিলের একচি মহকুমা শহর মংপু যা নিসর্গের মায়াবি স্পর্শে দার্জিলিং জেলা থেকেও বেশি প্রাণময় ছিল।

মংপুতে রবীন্দ্রনাথ অনেক ছবি আঁকেন। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম্, নিজেই বলতেন, দেশের লোকের জন্য নয়। বিদেশের জন্য। কেননা তিনি বিশ্বাস করতেন তাঁর চিত্রকর্মের নান্দনিকতা একমাত্র পাশ্চাত্যের নন্দনতাত্ত্বিকদের কাছে মর্য্াদা পাবে। তিনি বলতেন, ”ছবি দেখা সকলের কাজ নয়। একটা নিয়মিত অভ্যাস আর Instinctive দৃষ্টি থাকা চাই। সেই জন্যেই আমি এখানে ছবি প্রকাশ করতে চাইনে। প্যারিসে ওরা আমার ছবি দেখেছিল দেখবার মত করে। আমার ছবি এদশের জন্য নয়।”

মংপুতে একবার মৈত্রেয়ী দেবীর মাসি সুব্রতা দেবীর ছবিও এঁকে ফেলেন। এই ছবি আঁকতে গিয়ে পরিণত বয়সেও কবির সরস মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য, ”ভাগ্যিস শেষ জীবনে এই দেবী আমায় ধরা দিলেন। জীবনে একটা নতুন পর্ব্ রচনা হল। নতুন রকম করে জগৎটাকে দেখলুম আর্টিস্টের চোখ দিয়ে।”

(তথ্যসূত্রঃ রবীন্দ্রনাথের মংপু, ফারুক আলমগীর, মাসিক উত্তরাধিকার, মাঘ ১৪২০)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:০৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×