somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিরান
অন্ধকারের কাছ থেকে আলোকে ছিনিয়ে আনার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছি। জানিনা এ চেষ্টা কতদিন চালিয়ে যেতে পারবো। স্রষ্টার এই অপরূপ পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, শুধু মানুষ হওয়া প্রয়োজন।

ধ্রুব সত্য...

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৃত্যু খুব ভয়ংকর একটি শব্দ, সবাই
এড়িয়ে যেতে চাই এটিকে, কিন্তু
পারে কি? মানুষ সব সময় পৃথিবীর
যাবতীয় ঠুনকো কার্যকলাপেই
নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাই, কখনো
এটা মাথায় থাকেনা যে মরতে
হবে আমাদের একদিন, ছেড়ে যেতে
হবে সব আয়োজন, ছিন্ন হবে সবকিছুই
যখন আমরা শুধুই একটা লাশ হব। আমরা
মানুষগুলো কি অদ্ভুত! ক্ষুদ্র এ
জীবনটাকে কত নিয়মের শৃঙ্খলে
আবদ্ব করে রেখেছি! লেখাপড়ার
নিয়ম, তারপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত
করার নিয়ম, সংসার ধর্ম পালন করার
নিয়ম, মাঝে মধ্যে কিছু আবেগ
অনুভূতিকে শিহরন দেয়ার নিয়ম, কত
নিয়ম!! এই নিয়মের ভীড়ে সবচেয়ে
কঠিন নিয়মটি কত সহজেই আড়াল
থাকে... হুম, পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার
নিয়ম। হ্যা এটাই সবচেয়ে কঠিন
নিয়ম যা না চাইলেও পালন করা
লাগবে, বা পালন হয়ে যাবে একসময়।
মৃত্যুর পর আমাদের কি কেউ মনে
রাখে? আমার তো মনে হয় না। হয়তো
কয়েকদিন কান্নাকাটি, কয়েক মাস
স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানো, তারপর সব
আবার স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে
আমি কবরস্থানের পাশে গিয়ে
দাড়াই, ভাবি মাটির নিচে শুয়ে
থাকা মানুষগুলো এই পৃথিবীতে কত
উচ্ছ্বল ছিলো, কতটা হাসি কান্নায়
মুখরিত ছিলো তাদের জীবনটা,
কতগুলো অপূর্ণ স্বপ্ন রেখে গিয়েছে
তারা এই পৃথিবীর ভিতর, কতগুলো
অদ্ভুত নিয়ম পালন করেছে তারা
যার কোনো মুল্যই নেই এখন তাদের
কাছে। আচ্ছা যাদেরকে নিয়ে
নিয়মের আয়োজন ছিলো তারা কি
মনে রেখেছে মৃত মানুষ গুলোকে?
হয়তো বা....; আমি ভাবতে থাকি,
আমিও যখন এই কবরের ভিতর শুয়ে
থাকবো, আমার আত্মাটা যখন সেই
মহা পরাক্রমশালীর শাস্তি বা সুখ
ভোগ করবে তখনো তো এই পৃথিবীর
সবকিছুই চলবে চিরায়িত নিয়মের
গন্ডিতে। কল্পনা করি আমি...
কোনো পথিক হয়তো শিশ দিতে
দিতে হেটে যাবে আমার কবরের
পাশ দিয়ে, রিকশায় করে যাওয়া
কিছু উচ্ছ্বল কপোত কপোতীর প্রেম
ঝড়ানো বাতাসগুলো হয়তো ছুঁয়ে
যাবে আমার এপিটাফখানা, নিয়ম
মানা ব্যস্ত মানুষগুলোর পদশব্দে
কাঁপতে থাকবে আমার কবরের
পাশে রাস্তাটি। ভাবতে অবাক
লাগে, আমি যখন থাকবো না তখনো
সবকিছু সহজ নিয়মেই চলতে থাকবে!
আচ্ছা আমি যখন শুয়ে থাকবো কবরে
তখন কি কেউ মনে রাখবে আমায়?
ধূলোজমা এপিটাফটি কি কেউ
সযত্নে মুছে দিবে? কেন দিবে, কেন
মনে রাখবে আমায়! আমি তো
বিখ্যাত কেউ নই। খুব কষ্ট হয়, যখন ভাবি
আমি আসলে একজন নিয়মের সন্তান,
যার দমটুকু ফুরোলেই সব শেষ, কিছুই
অবশিষ্ট থাকবে না। খুব ইচ্ছে হয় মৃত্যুর
পরও বেঁচে থাকতে, খুউঊব......। একটা
কাজ করেছি আমি, কাউকেই বলিনি
এমনকি আম্মাকেও না, তবে বলবো।
আমি আমার চোখগুলো মরোনোত্ত্বর
ডোনেট করেছি, খুব ভালো লাগছে
আমার। জানি এটা আমার ধর্মে
সাপোর্ট করে না। তাও আমি অন্য
কারো অনুভূতি দিয়ে পৃথিবীটাকে
দেখতে চাই, বাঁচতে চাই...। হা, হা,
হা...কি সব ফালতু ইমোশন নিয়ে
লিখছি! আরে এখানে তুমি সেলফি
বেলফি দিয়ে ভরিয়ে দাও,
রোমান্সের শিহরনে টাইমলাইন
পরিপূর্ণ করে ফেলো, চেকইন দাও
নামি দামী প্লেসের, এসব কি
লিখছো মিরান!! না, আমার লিখতে
হবে, মনের সকল দুঃখবোধ নিংড়ে
ফেলতে হবে, বলার মতো কেউ নেই
আমার। আমি আমার মনের কথা ব্যক্ত
করি আমার কাছেই! মস্তিষ্কের সব
কথা ঝেড়ে ফেলতে হয়। তা নাহলে
এটা কষ্ট দেয়। আমি কষ্ট থেকে মুক্তি
পেতেই লিখি, আমি আমার সুখের
জন্যই লিখি, ডিয়ার ডাইরি এটা
আমার। মানুষ মাত্রই স্বার্থের উর্দ্বে
নয়, আমিও। হে প্রভু আমি কখনই মহাপুরুষ
হতে পারবো না,পারবো না
তাদের অনুসরনও করতে। আমি আমার
আমিত্বটাকে কখনোই বিসর্জন
দিতে পারবো না, কারন তুমি তো
এই আমিটাকেই আমিরূপেই সৃষ্টি
করেছো.... আমাকে ক্ষমা করো হে
প্রভু আর রহমান, ক্ষমা করো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুভি রিভিউ - ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা : দেশ ভাগের ট্র্যাজেডি আর হারিয়ে ফেলা প্রেমের অসাধারণ এক মেলবন্ধন 

লিখেছেন আলভী রহমান শোভন, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



একটা সময় হিন্দি মুভির বেশ ভক্ত ছিলাম। ভালো কোন হিন্দি মুভি রিলিজ পেলেই দেখে ফেলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে হিন্দি মুভি তেমন দেখা হয়ে ওঠে না। বছরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×