somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মিজানুর রহমান মিরান
অন্ধকারের কাছ থেকে আলোকে ছিনিয়ে আনার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছি। জানিনা এ চেষ্টা কতদিন চালিয়ে যেতে পারবো। স্রষ্টার এই অপরূপ পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই, শুধু মানুষ হওয়া প্রয়োজন।

চাঁপা দীর্ঘশ্বাস....

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেই চৈত্রের কাঠফাটা কোনো এক রোদেলা দুপুরে দ্বিধাহীন কন্ঠে তোকে বলেছিলাম ভালোবাসি! আশেপাশের সমস্ত ব্যস্ততাকে তুচ্ছ করে তোর মুখে ছিলো এক নির্জন বুদ্ধিতৃপ্ত হাসি। আমি চাইনি কখনো বলতে তোকে বেহায়া শব্দটি, খুব অনুশোচনা হচ্ছিলো নিজের উপর... তাইতো উত্তরের অপেক্ষা না করেই হাটা শুরু করি অলস বাতাসকে উপেক্ষা করে। চৈত্রের ক্ষরতাপ উত্তাপে আমার মুখে দিশেহারা পথিকের ছাপ ছিলো, ছিলো বুকে চিনচিনে ঐতিহাসিক সেই ব্যথা। পিছনে তাকানোর সাহস হয়নি আর আমার। যদি তাকাতাম তবে দেখতে পেতাম সদ্য কৈশোরউত্তীর্ন এক রমনীর স্তব্ধ স্থির তাকিয়ে থাকার দৃশ্য। তোর চোখে মায়া ছিলো, এক মুঠো ভালোবাসাও ছিলো আমার জন্য। কিন্তু ঐ মুহূর্তে বলার সাহস তোর ছিলোনা, ছিলোনা আমার সময়! তারপর... তারপর আবার সেই একি স্থান, তোর বাসায় ফেরার তাড়া, চোখে কিছু একটার প্রতীক্ষা, মন খারাপ করা বিকেলের হতাশা, এসব কিছু ছাপিয়ে আমি আবার তোর সম্মুখে! বলেছিলাম গতকালের জন্য সরি, ভালোবাসি বলবো না কখনো, তবে ভালোবেসে যাব অনন্তকাল। তুই হেসেছিলি, খুব হেসেছিলি আমার পাগলামো কথা শুনে! বলেছিলি তুমি বাসো আর নাই বাসো আমি কিন্তু ভালোবেসে যাবো প্রতিনিয়ত। খুব জানতে ইচ্ছে করে এখনো কি বাসিস ভালো আমায়? এখনো কি চোখ বন্ধ করে কল্পনা করিস ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের প্রথম দিকের সব কটা উচ্ছ্বল বিকেল? রিকাশায় একসাথে বসে আনমনে হাত ছুঁয়ে দেয়ার প্রবল ইচ্ছের মুহূর্ত টুকু? কিংবা অভিজাত টকটকে গোলাপের বদলে তোকে দেয়া অবহেলিত সেই রক্তজবাটির কথা? মনে পরে, আমাদের কাটানো সমস্ত অতীত? যেখানে হাজার রঙের স্বপ্ন ছিলোনা ছিলো কথা রাখার সাদামাটা বাস্তবতা। ছিলো আশংকা ছাপিয়ে একদল উত্তপ্ত ভরসার মিছিল, আর ছিলো তোর আঙ্গুলের সেই তৃপ্ত আশ্বাসের ছোঁয়া। যেখানে শুধু তুই ছিলি আমি ছিলাম ছিলো আমাদের নীলরঙা এক টুকরো আকাশ, সে আকাশে দুখী শঙ্খচিল ছিলোনা, ছিলো শুভ্র হরেক পায়রা, যারা আমাদের জন্য ভালোবাসা ছড়াতো প্রতিনিয়ত। শহরের শেষ প্রান্তে ছিলো একটা অকৃপন ঝর্না, যার বয়ে যাওয়া পানিতে তোর চপলা হাত ভেজানোর দূর্লভ দৃশ্য ও ছিলো। যেখানে তোর আমার মাঝে আদিম কোনো অভ্যেস ছিলোনা, ছিলো পবিত্র অদ্ভুত চাহনি। সেই কাঁচের চুঁড়ি, চোখের কাজল, সাদা এপ্রোন, দীঘল চুল, আমার কাছে তোর হেঁটে আসা, এসেই অহেতুক চোখরাঙানী... এগুলো কিভাবে ভুলতে হয় আমি জানিনা, তাই পারিনিও ভুলতে। তুই কি পেরেছিস? আমি জানি কক্ষনো না! একদিন পাশাপাশি হাটতে হাটতে তুই বলেছিলি... শান্তির রং সাদা, শোকের রং কালো, কষ্টের রং নীল, বন্ধুত্বের রং হলুদ, প্রকৃতির রং সবুজ... বলেছিলাম আর ভালোবাসার রং? তুই হেসে বলেছিলি ভালোবাসার রং গোলাপী। আমাকে ভালোবাসার রঙ চেনানো আজ সেই তুই আর নেই... আমাকে এক মুঠো রঙে ভাসিয়ে তুই কেন গেলি! খুব ইচ্ছে করে সৃষ্টিকর্তার সাথে যুদ্ধ করে তোকে মর্ত্যে ফিরিয়ে আনি, ইচ্ছে করে খুব তোর হাতটি আবার ধরি! কিন্তু তা কি সম্ভব? সবাই বলে পৃথীবিতে সবই সম্ভব। ডাহা মিথ্যা কথা! আজ সেই দিন... যেদিন তুই বলেছিলি পহৈলা বৈশাখে শুভ্র পাঞ্জাবি তুমি পড়ে এসো, আমি একটা লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পড়বো। বলেছিলি আমাকে ঐদিন ভালোবাসা শিখাবি! কিন্তু... কিন্তু তার আগেই অসমাপ্ত কাব্য রচনা করে গেলি তুই। যে কাব্যের শেষ কটি লাইন এখনো মেলাতে পারিনি আমি, পারবো বলে মনেও হয়না। কাব্যটি লাশ হয়েই থাক... তোর মত নিষ্ঠুর এক! প্রতিবছর বৈশাখ আসে নানান ঢঙে, কিন্তু আমার ভালোবাসা শিখা হয় না আর। আমি ভালোবাসা কি তাও আর জানতে চাইনা, শিখবো না কাকে বলে ভালোবাসা!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১০:৩৪
৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×