) অথবা আসলেই অনেক বেশি কঠিন। হতাশ হয়ে বইটা বন্ধ করে ফেললাম। ঠিক করলাম নিজের উর্বর মস্তিষ্ক ঘেটে যে অখাদ্যই পাওয়া যায়, তাই হবে রাতের খাবার।
রান্নাঘরের আলমিরা থেকে একটা পটেটো বেকের মিক্স আর ইনস্ট্যান্ট নুডুলস পেলাম। ফ্রিজে কিছু ফল। কিন্তু বস্তুর স্বল্পতায় ঘাবড়ালাম না। আজ রাতে হবেই হবে ফুল কোর্স ডিনার। মেনু রেডি। অনট্রে - পটেটো বেক, মেইন - গরমেই নুডুলস (ইনস্ট্যান্ট নুডুলসের আমার দেওয়া ঝকমকে নাম) আর ডেসার্ট - কাস্টার্ড। প্রথমে তৈরি হলো কাস্টার্ডের দুধ, হু, ওটাতে মা একটু সাহায্য করেছে ঠিকই, কিন্তু - ঐ 'একটু' সাহায্য না করলে কারও পেটেই ভাত পড়তো না, তাই অনিচ্ছাসত্বেও সাহায্যটা নিতে হলো। ওটা ঠান্ডা করতে করতে নুডুলস রান্না করলাম। ইনস্ট্যান্ট হলেও ওটা গাজর, সয়া সস ইত্যাদি দিয়ে চুলাতেই রান্না করেছি। নামটার সম্মানটা তো হলো?
পটেটো বেকে এসেই শুরু সমস্যা। উপরে দেওয়ার জন্য লাগবে চীজ। ভাইয়াকে বলেছিলাম এনে দিতে। এই ছেলে দশ মিনিট ধরে পঁ্যাচাল পারলো ও আমাকে বোঝানোর চেষ্টা চালালো যে সে কোন চীজ আনতে হবে চিনতে পারবে না। শতবার বৃত্তান্ত দেওয়ার পরেও যখন ব্যর্থ হলাম, তখন রেগে গিয়ে বললাম আমাকেই নিয়ে যেতে। চীজ (সাথে আরও কিছু) কিনে যখন আধঘন্টা নষ্ট করে ফিরলাম, তখন প্রায় সন্ধ্যা। টেবিলে খাবার দিয়ে (সিদ্দিকা কবিরের ভাষায় - 'পরিবেশন'!)অপেক্ষার পালা। আমার ইচ্ছে ছিলো মোমের আলোতে খাওয়ার। আপুনি সেই ইচ্ছে পূরনের জন্য বাসার আনাচে কানাচে থেকে ষোলটা মোম এনে সুন্দর করে সাজিয়েছে টেবিলে।
ক্ষিদেয় পেট জ্বলছিলো। রাতের খাবার খেলাম একেবারে হুড়মুড় করে। মাঝখানে দুটো মোম নিভে গিয়েছিলো
।
ছবি: তিন দিনের আমি ও আমার দুই ভাই বোন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



