সতেরো (পর্ব: -১)
সতেরো (পর্ব: ০)
ভোর থেকে মেঘলা আকাশ দেখতে দেখতে মিথিলার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। দু'ঘন্টা ধরে কেমিস্ট্রি নিয়ে বসে আছে কিন্তু মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না। কেমিস্ট্রি তো কঠিন সাবজেক্ট না, তারপরও এরকম হবে কেন? টেবিলে মাথা রেখে একটা পেনসিল নিয়ে খাতার ওপর বড় বড় করে লিখলো: CHEMISTRY IS SOPHISTRY. সফিস্ট্রি মানে কি? ও জানেনা। ওর মাথায় এখন কিমিয়া ডওসনের গান ঘুরছে। ও পৃষ্ঠা উল্টে লিখলো: I washed away the empty space in between my ears.
সামিহা একটু আগে ফোন করে কাঁদছিলো। অয়ন ওর সাথে আবারও ব্রেক-আপ করেছে, ও ওর জীবন একদম পছন্দ করে না, ইত্যাদি। মেয়েটা এত্তো বোকা! একই জিনিস বার বার হচ্ছে তবুও ওর শিক্ষা হচ্ছে না। ওর ব্যাপারটা একটু আজব; মেয়েটা সারাক্ষন সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে ওর মত কঠিন মেয়ে পাওয়া বড় কঠিন, কিন্তু এরকম এক একটা কান্ড হয় আর ও কাঁদতে কাঁদতে শেষ! সারাক্ষন কারন ছাড়াই বাবা মার সাথে ঝগড়া করছে, আয়নার সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাচ্ছে, নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে সোসাইটিতে নিজেকে সঁপে দিয়েছে - তবুও ওর কথা বার্তা শুনে মনে হয় ও যা করছে ঠিক করছে।
"কি করতেসো?"
মার কথা শুনে আচমকা মাথা ওঠাতে গিয়ে ঘাড়ে টান পড়লো।
"পড়তেসি! আর কি করবো!"
"সোজা হয়ে বসে পড়। আর একটু আগে কে ফোন করেছিলো? সকাল বেলা উঠেই ফোন! তুমি..."
তারপর মা যা যা বললো মাথার ভেতরে কিছুই ঢুকলো না, তার বদলে মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেলো। সকাল বেলা কেও এতো জোরে কথা বলে? মাকে ও ভালোবাসে, হয়তো ওর বয়সী অন্যান্যদের থেকে একটু বেশিই। সমস্যা হচ্ছে মেজাজ খারাপ হলে মা থামতেই চায় না!
তাই মিথিলা কলিংবেলের শব্দে হাফ ছেড়ে বাঁচলো!
মা বকতে বকতে দরজা খুলতে গেলো। পাশের বাসার নতুন বিবাহীতা নওশিন আপু উৎসাহিত কন্ঠে অনেকক্ষন ধরে যা বললো তার সারমর্ম হলো: ওর জামাই সন্দেশ খেতে ভীষন পছন্দ করে। মিথিলার মার সন্দেশ অসম্ভব মজা হয় তাই তার কাছে সন্দেশ বানানো শিখতে এসেছে। মাও মিথিলার কথা ভুলে খুব উৎসাহে শেখাতে শুরু করলো।
নওশিন আপুকে মিথিলা খুব ছোটবেলা থেকে চেনে। ওরা যে বছর এ বাসায় উঠলো, সে বছর মিথিলা স্কুল শুরু করেছে, আর নওশিন আপু হাই স্কুল শুরু করেছে। ওকে দেখে মনে হতো, ও কত্তো বড়! ওর লিপগ্লস, মেকআপ আছে! তারপর যে বছর ও নেটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙে বিছানায় পড়েছিলো, সে বছর ও একটা বই পড়া শুরু করলো, তারপর শর্ট স্কার্ট ছেড়ে লম্বা স্কার্ট পরা শুরু করলো, মিথিলাকে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ভাবে আশেপাশের মানুষের গন্ডির বাইরে চিন্তা করতে শিখাতে চাইলো। বিয়ে হওয়ার পর ও খুব একটা বদলে যায় নি - এখনও হাসিখুশি, শক্ত, রঙীন আছে! ওকে এখনও এত্তো ভালো লাগে!
বাসার ফোন বেজে উঠলো। ও ধরতেই ওপাশ থেকে রাহেলা আন্টির গলা শুনতে পেয়ে মাথায় হাত দিলো! এই মহিলা এখন তো আর ফোন ছাড়বেই না!
"হ্যালো? কে? মিথিলা? হ্যা মা ক্যামন আছো? আমি অর্পনাকে দিয়ে যাচ্ছি মা একটু দেখে রাখতে পারবা? শপিং এ নিয়ে গেলে খালি জালায়! আজকে মেহমান আসবে, ফ্রিজ খুলে দেখি একটা শশাও নাই। আমি ভাবছিলাম..."
অর্পনা মেয়েটা কিউট, কিন্তু মার মতো কথা বলতে শিখলে ভীষন সমস্যা হবে!
আলোচিত ব্লগ
=একটি জোনাক প্রহর দেবে আমায়=

গাঁয়ের বাড়ি মধ্যরাতে
জোনাক নাকি বেড়ায় উড়ে,
ঝিঁঝি নাকি নাকি সুরে
ডাকে দূরে বহুদূরে?
মধ্যরাতের নীল আকাশে
জ্বলে নাকি চাঁদের আলো!
রাতে নাকি নিরিবিলি
বসে থাকলে লাগে ভালো?
শিয়াল ডাকে হুক্কা হুয়া;
কুকুর ডাকে একা ঘেউ ঘেউ;
মধ্যরাতে গাঁয়ে নাকি
ঘুমায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাকিস্তানের বির্যে জন্ম নেয়া জারজরা ধর্মের ভিত্তিতে, বিভাজিত করতে চায় বাংলাদেশের নাগরিকদের ‼️


বাংলাদেশী ধর্মান্ধ মুসলমান,
বাঙালি পরিচয় তোমার কাছে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য।
তুমি কি দেশে দেশে Ehtnic Cleansing এর ইতিহাস জানো? জাতিগত নিধন কী বোঝো?
বাঙালি জাতি নিধনের রক্ত-দাগ প্রজন্ম থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
উৎসর্গ: ব্লগার রাজিব নূর এবং মহাজাগতিক চিন্তা

ঢাকার শীতের সকালটা একটু ঘোলাটে ছিল। রাজিব নূর ট্রেনে চড়ে বগুড়া যাচ্ছিল। হাতে একটা পত্রিকা, মাথায় অন্য কিছু। ট্রেনের জানালা দিয়ে মাঠ, গ্রাম, আর ধোঁয়াটে আকাশ পেরিয়ে যাচ্ছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
কি আছে কারবার

ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
=মন বাগানে ফুটে আছে রঙবাহারী ফুল=

তুমি তো আর করলে না যাচাই, মন আমার মন্দ কী ভালো,
প্রেম কথনে ভরালে না মন, ভালোবেসে করলে না মনঘর আলো;
মনের শাখে শাখে ঝুলে আছে মধু মঞ্জুরী ফুল,
কী মুগ্ধতা ছড়িয়ে পাপড়ির... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।