খুব বাজে অভ্যেস হয়ে যাচ্ছে ইদানিং,
যখন তখন ঘুমাই।
অথচ দুপুরে ঘুমোনোর ব্যাপারটা
অনেকটা আগে স্মৃতি হাতড়িয়ে
সেই কবে তনুশ্রীকে প্রথমবার দেখেছিলাম
সেই রকম কিছু মনে করার মতই দূর্লভ হয়ে যাচ্ছিল দিন দিন।
তনুশ্রীর সাথে আমার প্রায়ই দেখা হত,
তার বাসা থেকে বেড়িয়ে
হাতের ডানে ঘুরে একটু হেঁটে আবার হাতের ডানে,
তারপর সোজা নাক বরাবর হাঁটলেই তনুশ্রীর স্কুল;
তাকে আমি কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিলাম
'তুমি আমাকে কখনো দেখনি তনুশ্রী?'
সে বলেছিল 'নাহ্,!'
কিভাবে দেখবে?
সে তখন সদ্য ফোঁটা গোলাপের মত পাপড়ি মেলতে শুরু করেছ মাত্র,
চারদিকে ভ্রমর, কুঞ্জ বীথিকায় নানা কন্ঠী নানা বর্ণের পাখির কলরব,
দূরের বাগানে কোন এক নিঃসঙ্গ পাখির অযাচিত কুহূতান
তনুশ্রীর সেই তারুণ্যের দিনগুলোতে কর্ণকূহর পর্যন্ত পৌঁছত কিনা সন্দেহ!
আজকের মত ইদানিং এই দুপুরগুলোয়
আমি আর অপেক্ষা করিনা কেউ আমাকে ভেবে কিছুটা প্রহর কাটাবে,
কিংবা সেল-ফোনটা বেজে উঠবে অকস্মাৎ;
তবু আমি সেল-ফোনটা হাতের কাছে রাখি,
তনুশ্রীর নাম্বার গুলো দেখে দেখে আবার ওটা দূরে ঠেলে রাখি।
ঐদিন অপ্রত্যাশিতভাবে যেমন বলেছিল
'তোমাকে মিস করছি, ভাল থেক!'
এমনিভাবে হয়ত আবার বলবে 'তোমাকে মিস করছি, ভালবাসি;'
আমি কিছুই বলবো না
সময় আর স্থানের দূরত্ব ভুলে যেয়ে প্রচন্ড উল্লাসে সব নক্ষত্র-মঞ্জুরীকে জানিয়ে দেব
আমাদের জন্য আলোর মিছিল সাজাতে
আজ আমি ও তনুশ্রী জ্যোৎস্নার সব আলো গায়ে মেখে
পৃথিবীর সব ক্লেদাক্ততা ধূয়ে-মুছে
আরও একবার শুদ্ধতম মানুষ হব।
২০শে জানুয়ারী ২০১৭
যুক্তরাজ্য।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ৮:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



