দীর্ঘ রাত্রী চলে যায়,
খালি সুশোভন খাটিয়াতে রমেশ কান্তির ছটফটানী বাড়ে;
টাকার কুমির রমেশ কান্তির বউ
এই আধুনিক হোটেলের নাচের ফ্লোরে সবচাইতে বেশী নিপুণ নাচিয়ে।
এখন এই নিয়ন বাতির ঝলমলে রাতে
রমেশের বউর দিপীকার সুঢৌল বক্ষে অনেকগুলো ফলচোর বাঁদুরের মুখ
আর নিটোল কোমরের ভাঁজে সামুদ্রিক অক্টোপাস।
অথচ পুলিশ বিভাগে সবচেয়ে বেশী বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত
বলে যে পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট রমেশের খ্যাতি আজ তার ঘুম নেই;
তার ঘরের সেই সুশোভন খাটিয়া থেকে শুরু করে
অতি অত্যাধুনিক শোকেসের প্রতিটি কোণায়
দুঃস্বপ্নের চোখে ভাসে লাইসেন্সবিহীন অটরিক্সা চালক ছানু মিয়াঁ,
রিক্সায় করে চন্দ্রিমায় জীবনের আহার্য্য খুঁজতে যাওয়া লাইলী,
আর ট্রাক চালক কুদ্দুস মিয়ার মুখ।
কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক রমেশের বউ যখন শেষ রাত্রে ঘরে ফেরে
রমেশের দুঃস্বপ্ন তখনও শেষ হয়না।
তার অর্ধ হা করা মুখের কাছে এই শেষ রাত্রেও দুইটি মাছি ভন ভন করে,
আর অতি যত্নে রমেশের বউ দীপিকা যেই অবশিষ্ট ভালবাসাটুকু নিয়ে ঘরে ফিরেছিল
তার থেকে কিয়দংশ সে রমেশের হা করা ঠোঁটে বিলিয়ে দেয়।
দুঃস্বপ্নের মাঝেও রমেশ দিপীকাকে চন্দ্রিমার লাইলী ভেবে জাপটে ধরে
তার মুখ দিয়ে অস্ফুটে বেড়িয়ে আসে তিনটি শব্দ 'লাইলী আমার লাইলী'।
১৪ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



