somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বিষণ্ণ দিনলিপি

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফোনের গ্যালারীতে নানীর ছবি আছে। নানী মারা গেছেন বছর দেড় আগে। একটা পুরোনো ছবিতে তাকে মায়ের থেকেও অল্প বয়সী লাগে। একটা ছবি কত কত বছরের ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের সাক্ষী। মাকে এসব ছবি দেখাই, মায়ের মুখ ফ্যাকাশে হয়, কেঁদে দেওয়ার আগ মূহুর্ত যেমন। মাকে তখন বিষণ্ণ লাগে, বিষণ্ণ কিন্তু সুন্দর। প্রিয় কোনো জিনিস যা হারিয়ে গেছে, আর ফিরে আসবে না - এই বোধ মানুষের মস্তিষ্কে কোনো হরমোন ক্ষরণ করায় এর জন্য মায়ের মুখ এমন হয়ে যায়।

আমি যখন তোমাকে না পাওয়ার কথা ভাবি আমার মুখও হয়ত তেমন হয়ে যায়। কখনো আয়না ধরে দেখিনি যদিও। তবে সেদিন দু চামচ চিনি নেয়ার পরও পানসে লাগে চা। শীতের সকালের রোদের তাপকেও বড্ড বিরক্ত মনে হয়। আকাশের দিকে তাকাই, পাখির উড়ে যাওয়া দেখি। আমার তখন একটা পাখি হয়ে উড়ে যেতে ইচ্ছা হয়। মা ফোন করেন। দু কথা বলতেই ওপাশ থেকে বলেন, 'তোর শরীর খারাপ নাকি?' কোনো সদুত্তর দিতে পারি না, দীর্ঘ সুরে না বলি শুধু।

রাত হলে যেন আরও বিষণ্ণ লাগে। ছোটবেলায় হাত পা ছিলে গেলে সেই ব্যথা দিন থেকে রাতে যেন দ্বিগুন হয়ে যেতো। মা বলতেন, 'ব্যথাফুলার যন্ত্রণা রাইতে বাড়ে'। ছোটবেলার হাঁটু ছেলা ব্যথার মতন তোমাকে না পাওয়ার ব্যথাও রাতে খুব বাড়ে। ছারখার লাগে। সবকিছু ছেড়েছুড়ে পালাতে ইচ্ছা হয়। বাস্তবে পালাতে পারি না আমি, কল্পনায় পালাই। চোখ বুজে থাকি।

একদিন স্যার ক্লাসে প্রশ্ন করলেন, 'সবচেয়ে দ্রুতগামী জিনিস কোনটা?' আমরা কেউ জেট বিমান, কেউ বিদেশী রেল বললাম। মৃদু হেসে স্যার বলেছিলেন, 'সবচেয়ে দ্রুতগামী জিনিস হলো মানুষের মন। এটা চাইলেই যেকোনো জায়গায় যেতে পারে।' আমি সেই মনের সহযোগে একটা মাঠে চলে যাই। মাঠ জুড়ে সরিষা। মাঝখানে ভ্যান গঁগের মত এক লোক একটা পিস্তল তাঁর বুক বরাবর ঠেকিয়ে আছেন। পিস্তল দেখিয়ে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, 'তুইও যাবি আমার সাথে?' আমি গা ঝাড়া দিয়ে এগিয়ে যাই তাঁর দিকে৷পরপর দুটো আওয়াজ শোনা যায়। কোথা থেকে যেন একটা পাখির পালক উড়ে এসে আমার কপালের ক্ষত ঢেকে দেয়৷ বেশ বড় পালক। মনে হয় যেন মা তার কোমল হাত কপালে ঠেকিয়ে দেখছেন আমার গায়ে জ্বর এসেছে কিনা। চোখ বুজে আসে আমার, শেষমেশ ঘুমিয়ে পড়ি। একটা করুণ দিন অথবা করুণ জীবনের শেষ হয়৷
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ রাত ৯:১৩
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×