somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রম

১০ ই জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝেমাঝে মনে হয় বিষণ্ণ হওয়ার জন্যই আমাদের জন্ম। আমরা যেনো একটা বিষণ্ণতার নদীতে খাবি খেতে খেতে অন্য নদীতে পৌঁছাই। অবাক হয়ে লক্ষ্য করে দেখি দুটি নদী আদতে একই৷ তখন মনে পড়ে যায় শৈশবের কথা৷ আর মনে হয় শৈশবের সময়টুকু মানুষের জীবনে আসেই যেন ভবিষ্যতে মানুষ এ নিয়ে আফসোস করতে পারে, বিষণ্ণ হতে পারে৷

আমি মাল্টিভার্সে বিশ্বাস করি না। তবুও মাঝেমাঝে মনে হয় অনেকগুলো জগত থাকলে মন্দ হতো না। এমন যদি হতো একদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে দেখলাম অন্য কোনো জগতে৷ সেখানে ভ্যান গগ আর আবুল হাসান একই দেশে জন্মেছেন। তাদের বয়সের ফারাকও সামান্য। তারথেকেও বড় কথা সেই জগতে তুমি আর আমি একসাথে আছি। কোনো এক বিকেলে আমরা আড্ডা দিচ্ছি। এক পর্যায়ে আড্ডার বিষয়বস্তু গিয়ে পৌঁছায় বিষণ্ণতায়। একে অপরকে জানাই বিষণ্ণ থাকলে কী কী করা হয়। আড্ডা দিতে দিতে হঠাৎ রাত হয়ে হয়ে যায়। আমাদের খেয়াল থাকে না কিছু৷ পাশের টেবিলে এক যুবক আফসোসের সুরে অনেকটা উচ্চ স্বরেই বলে ওঠেন ‘আমার কেবলই রাত হয়ে যায়’। তোমার চোখ পাশ কাটিয়ে এই প্রথম বাইরে তাকাই আমি। দেখি আকাশে জ্বলজ্বল করা তারা৷ পাশ থেকে কে যেন বলে উঠলেন ‘স্টারি নাইট’!

আমাদের পাশের টেবিলে আড্ডা দিচ্ছেলেন আবুল হাসান আর ভ্যান গগ। কাকতালীয়ভাবে তারাও তখন কথা বলছিলেন বিষণ্ণতা নিয়ে৷ তাদের আলোচনায় উঠে আসে বিষণ্ণতা থেকে মুক্তির উপায়। ভ্যান গগ তখন বললেন, ‘To suffer without complain is the only thing we have to learn in our life.’ আবুল হাসান একই বাক্যকে নিজের মতো করে বললেন, ‘ঝিনুক নীরবে সহো ঝিনুক নীরবে সহে যাও। ভিতরে বিষের বালি, মুখবুজে মুক্তা ফলাও।’ তাদের এসব ফিলোসোফি মার্কা কথাকে তখন ভীষণ বাজে লাগে। আমার মনে হয় আমার পাশে তুমি যতক্ষণ আছো ততক্ষণ বিষণ্ণ হবার কোনো প্রশ্নই ওঠে না৷ কিন্তু তারপর হঠাৎ সম্বিত ফেরে আমার। একসময় মনে হয় তোমার বিষয়টা তো আসলে পুরোটাই ভ্রম। বাস্তবে তো কখনো এমন হবার নয়। তখন আমার আসলে সয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৫ রাত ১০:৪৯
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতছানি

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাঁশবনের উপরে গোধূলীর আকাশে
কি'যে অপরুপ লাগে একফালি চাঁদ,
কাশবনের দুধারে মৃদুমন্দ বাতাসে
ঢেউ খেলে যায় সেথা জোৎস্নার ফাঁদ-
আহা..., কী অপরুপ সেই 'বাঁশফালি চাঁদ' ।

পাখিদের নীড়ে ফেরা কল-কাকলীতে
শিউলী-কামিনী যেথা ছড়ায় সুবাস,
আজানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিচ্ছু চাই না আমি, আজীবন ভালোবাসা ছাড়া!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৫১



অতি তুচ্ছ বিষয় গুলোতে আমি আনন্দ পাই।
পথে ঘাটের সব রকম দৃশ্য আমি উপভোগ করি। পথে হেটে যাচ্ছি, একসাথে অনেক গুলো কাক কা কা করতে করতে উড়ে গেলো! এটা দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×