somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

সিফিলিসের জীবাণু কার কাছ থেকে আসলো? /পর্ব ছয়

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্ববর্তী পর্ব পর্ব ৬
স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখা হয় ওয়াসীম সর্দারের সাথে। সম্পর্কে মামা হয়। আসাদের মধ্যে একটি ভয় ঢুকে গেছে। কেউ ডাকলেই মনে হয় স্কুলের কথা জিজ্ঞাসা করবে। কিন্তু কেউ কিছুই বলে না, স্কুল নিয়ে। তেমন কথা হয় না, কেমন আছো ভাল আছি টাইপের কথা হয়। ওয়াসীম সর্দারের সাথে ৭ বছর আগের একটি ঘটনা মনে পড়ে।

মানিকজোড় যাকে বলে অসীম আসাদের সে রকমের বন্ধু। একজন ঢাকা কলেজে আরেকজন নটরডেম কলেজে পড়তো। অসীম হলে আর আসাদ ম্যাছে। বহু বছরের মধ্যে ওরাই দুই বন্ধু এই গ্রাম থেকে দেশের সেরা দুটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। ওরা একসাথে বাড়ি আসে, একসাথে ঢাকায় যায়, একসাথে গ্রামেও ঘুড়ে বেড়ায়। আবার একসাথেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ভাগ্যকুল জামে মসজিদের পাশ দিয়ে নদীর পাড়ের দিকে যাচ্ছিল। মসজিদের বারান্দা থেকে ওয়াসিম সর্দার ডাক দিলেন, ভাইগনা এদিকে আয়। ওয়াসিম সর্দার আপন মামা নয়। কি কারণে আসাদ তাকে মামা ডাকে নিজেও জানে না। লোকটাকে পছন্দ করে না। তার মূল পেশা বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, আজান দেয়। মাঝেমধ্যে ইমামতিও করে। আসাদ এগিয়ে যায়। সালাম দেয়। জিজ্ঞাসা করে, কেমন আছেন মামা।
ওয়াসিম সর্দার জোড় গলায় বলেন, তুই যে দিনরাত একটা মালাউনের সাথে ঘুরে বেড়াস, আখেরাতে কি জবাব দিবি?
আসাদ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, অসীম শুনে ফেলল কিনা। বলে, মামা ও ভাল ছাত্র, ওর মতো ভাল ছেলে আর কে আছে এই গ্রামে? মুসলমানরা আর কেউতো সেভাবে পড়ে না।
ওয়াসীম সর্দার আরো জোড় গলায় বলেন, খৃষ্টানগো কলেজে পড়ে ইহুদী নাছাড়া হচ্ছস। নাছাড়াগো সাথে থাকলে তুইও নাছাড়া হবি। আসাদ বুঝতে পারে অসীমকে শোনানোর জন্যই ওয়াসীম সর্দার জোড় গলায় কথা বলছে। অসীমের ওর দিকে এগিয়ে আসতে দেখে আরো বিব্রত হয়ে পড়ে। ওরা নদীর দিকে হাটতে থাকে। অনেকক্ষণ পড়ে অসীমই নিরবতা ভাঙ্গে, আসাদ আমরা এসব শুনে অভ্যস্ত। তোর মন খারাপ করার কিছু নাই। বিকেলে হাবীবের সাথে দেখা হলে, ওয়াসীম সর্দারের প্রসঙ্গ উঠাতেই বলে, ওতো হারামজাদা টাইপের লোক। ভারতে অনেকদিন গায়ল করে, হাড়ি পাতিল বিক্রি করেছে। বছরে একবার দেশে আসতো। এখন বৈদ্যুতিক কাজ করে এবং সাইকেল মেরামতের দোকান দিছে। তবে রসিক মানুষও। আমার সাথে গুড সম্পর্ক। কদিন আগে গান শুনাল। গলা কাশি দিয়ে হাবীব গান ধরে।
সাধের ভাইগনারে তুই ভাল তোর মামা ভাল না .. ..
গানটি অশ্লিল। রাধা তার প্রেমিক প্রবর কৃষ্ণকে আহবান করে। যৌন তাড়না আর যৌন ক্রিয়ার গান। আর একটি গান শোনায় ঐ যে রাধার ফাঁক দেখা যায়। এই গানটিও রাধাকৃষ্ণের এবং যথারীতি অশ্লিল মনে হয় আসাদ ও হাবিবের কাছে। আসাদ বলে, আমিতো মনে করেছিলাম উগ্রপন্থী লোক। হাবীব কথা কেড়ে নিয়ে বলে, এখনো উগ্রপন্থীই। তবে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নয়। এখন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করে। মিলিরে বিয়া করতে চায়। এখনকার বউর সাথে নাকী কাজ হয় না। আমি জানতে চেয়েছিলাম, কাম না হইলে বছর বছর পোলাপান হচ্ছে কিভাবে? আসলে বাজারের মাইয়া মিলিরে দেখে ওর মাথা খারাপ হইছে। মিলিরতো বাজারে নাং এর কমতি নাই। মনে হয় ওয়াসিম সর্দাররেও কাম দেয়।
সেই প্রাইমারী জীবন থেকেই অসীম আর আসাদ দুই বন্ধু হরিহর আত্মা। একজন আরেকজনকে এগিয়ে দিয়ে আসে, আমার উল্টোটা ঘটে এভাবে অনেকবার ঘটে। অসীমকে বাড়িতে দিয়ে আসাদ বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে ওয়াসিম সর্দার ধরলেন। ভাইগনা তুমি নাকি অসীমদের বাড়িতে ভাত খাও। আসাদের খুবই রাগ লাগে। জিদ চেপে রেখে বলে, হ্যাঁ খাই, এই তো এখনই খেয়ে আসলাম। নাছোরবান্দা ওয়াসীম সর্দার জিজ্ঞাসা করে, কাছিম কুছিম খাওয়ায় নি আবার?
আসাদের রাগ এবার প্রকাশ পায়। কঠিনভাবে বলে, বাজারের মাইয়াগো লগে আকাম কুকাম করার চেয়ে কাছিম খাওয়া বেশি খারাপ না।
ওয়াসীম সর্দার হেসে ফেলে। আসাদের মনে হয় লোকটি ব্যক্তিত্ব আসলেই নাই। আসাদ একটু লজ্জা পায়। ওয়াসীম সর্দার বলে, ভাইগনা কি রাগ করলা নি? তোমার বাবা নামকরা আলেম। তোমার মেঝোভাইও আলেম। সেই জন্যই বলা।
আসাদ মনে করার চেষ্টা করে সকালে এই লোকটি তাকে তুই তুই করে বলেছে এখন বলছে তুমি তুমি। কিছুটা এগিয়ে গেলে ওয়াসীম সর্দার ডাকে, ভাইগনা শুনে যাও। শোনলাম তুমি নাকী লট্টরড্রাম কলেজে পড়।
আসাদ বলে, হ্যাঁ পড়তাম কলেজের নাম নটর ডেম কলেজ। ওখান থেকে পাশ করে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি পড়ি।
এবার ওয়াসীম সর্দার পকেট থেকে ২৫ পয়সা বের করে বলল, ভাইগনা একটা বিড়ি কিনে দিয়ে যাওতো। আসাদ বুঝতে পারে ওকে ছোট করার জন্য এ কাজটি করছে। আসাদ একটি বিড়ি কিনে দেয়। ওয়াসীম সর্দার ভাবে তুমি যত বড়ই হও বলতে পারুম ওকে দিয়ে বিড়ি কিনিয়ে খেয়েছি।
পরের মাসে বাড়ি এসে শুনে ওয়সীম সর্দার বৈদ্যুতিক তার চুরি করে ধরা খেয়েছে। কদিন আগে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামে সদ্য লাগানো বৈদ্যুতিক তার চুরি অভিযোগে। বেদম মারপিট করেছে। এখন জেলে আছে। পিতার থানা হাজত, জেল, অসুস্থতার সুযোগে ওয়াসীম সর্দারের বড় মেয়েটি তার সহকারী জালালের সাথে পালিয়ে বিয়ে করে গ্রামে ফিরে এসেছে। শ্বশুর বাড়ির হাল ধরেছে। গ্রামের লোকেরা বলছে, সর্দারের স্ত্রীই ওদের পালিয়ে বিয়ে করতে সহায়তা করেছে। সে ভেবেছিল তার আত্মীয় স্বজনরা এই বিয়ে মেনে নিবে না। কিন্তু সংসার চালানোর জন্য নিজস্ব লোক দরকার। এতে দোকানও চালু থাকবে।
ওয়াসিম সর্দার কিছু বলে না। হাফ ছেড়ে বাঁচে আসাদ।

রাতে আসে গ্রামের সিনিয়র আলম ভাই। আসাদ ভয় পেয়ে যায়। কি জবাব দিবে। কেউতো আসাদকে বিশ্বাস করবে না। আলম ভাই তাকে বলে, শুনলাম তুমি স্কুলে ভালই পড়াও। আমিতো এমএ পরীক্ষা দিবো। তুমি আমার মাদ্রাসায় আমার পরিবর্তে মাস খানেক ক্লাশ করালে আমার জন্য বিরাট উপকার হয়। আসাদ হাফ ছেড়ে বাঁচে। ও কাল সকালেই হয়তো ঢাকা ফিরে যেতো। কোথায় উঠবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল। আসাদের সামনে সুবর্ণ সুযোগ চলে আসে। এটাই সেই মাদ্রাসা যেখানে ছাত্রাবস্থায় আসাদ ধর্ষিত হয়েছিল। আসাদকে জানতে হবে, এই মাদ্রাসা থেকে তার মধ্যে সিফিলিসের জীবাণূ প্রবেশ করেছে কিনা?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×