শাহজাহান বাচ্চু ভাই খুন হওয়ার পরে আমার দুজন হিন্দু সম্প্রদায়ের বন্ধু প্রায় একই রকম প্রশ্ন করলো, পৃথিবীতে মুসলিমরাই কি নিজেরা হানাহানি করে সবচেয়ে বেশি মরছে?
তারা প্রেক্ষাপটও ব্যাখ্যা করলো, এই যে ইয়েমেনে সৌদীজোটের হামলায় অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। সিরিয়া, আইএস ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর ভিন্ন অবস্থান, আফগানিস্তানে তালেবান বনাব আইএসের দ্বন্দ্ব, কাতারের উপর সৌদী আরবের অবরোধ, পাকিস্তানে জঙ্গীদের তাণ্ডব... ইত্যাদি। এছাড়া বাংলাদেশেও মুসলিম লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও বুদ্ধিজীবীগণ মুসলিম উগ্রপন্থীদের হাতে খুন হচ্ছেন। এটা কি অন্য কোন ধর্মে আছে?
আমি বলার চেষ্টা করি, এটা দেশগুলোর শিক্ষার মান, বিজ্ঞান চর্চা - বিজ্ঞানমনষ্কতা ও মানবিকতার বিকাশ ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। কয়েক শ বছর আগে ইউরোপেও খৃস্টানরা মুক্তচিন্তার মানুষের উপর এভাবে নিপিড়ন করতো। ব্রুনোকে হত্যা করা হয়েছে, গ্যালিলিওকে খৃস্টানরাই অসম্মান করেছে। এখন ভারতেও গোরক্ষার নামে বেশ কয়েকজন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে, গোমাংস খাওয়া বা রাখার অভিযোগ তুলে। ইউরোপ শিক্ষায়, বিজ্ঞান চর্চায়, মানবাধিকার ও অর্থবিত্তে এগিয়ে যাওয়ার পরে ওরা অনেকটা সভ্য হয়ে উঠেছে। এখন ওসব দেশে বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষই সংখ্যাগরিষ্ঠ। চীন জাপানে ধর্মবিশ্বাসী মানুষের মধ্যে বৌদ্ধরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ওসব দেশের বৌদ্ধরা সহনশীল কিন্তু মিয়ানমারের বৌদ্ধরা সহনশীল নয়। এমনকি ইহুদিদের রাষ্ট্র ইসরাইলেও কোন ইহুদীকে অন্য ইহুদী ভিন্নমতের কারণে এভাবে হত্যা করে না। ওরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে এতোটাই অগ্রগতি করেছে যে, সারা পৃথিবীতেই ওদের সংখ্যা মাত্র ১ কোটি ৪০ লক্ষ হওয়া সত্বেও, ওদের সাথে মুসলিম জাহানের ১৪০ কোটি মানুষ একত্রিত হয়েও পারছে না। এখন সংখ্যার চেয়ে মান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে মুসলিমরাই শুধু নয় ও হিন্দুরা এগিয়ে যেতে পারে নি।
জবাব দিতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেছি কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করতে পারিনি কারণ আমার কাছেও একই রকম তথ্য রয়েছে। এ প্রশ্ন আমাকেও লজ্জিত করে। আমিও চাই শুধু মুসলিমরাই নয়, সব ধর্মের মানুষই মানবিক গুণাবলীতে আলোকিত হোক। শুধু নিজ ধর্মের মানুষের হাতেই নয়, কারো হাতেই যেন কেউ খুন না হন।
রমজান মাসে শাহজাহান বাচ্চু ভাইর হত্যাকাণ্ডে বহু কট্টরপন্থীই উল্লাস প্রকাশ করেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ খুশি হয়েছে। অথচ তারাও বলে, রমজান সিয়াম সাধনার মাস। এই রমজান মাসে সংঘটিত একটা হত্যাকাণ্ড যাদের খুশি করেছে, তাদের কোনভাবেই মানবিক বিকাশ ঘটেনি। তারা আত্মসংযমের প্রকাশ ঘটাতে পারেননি। তারা কৃচ্ছপূর্ণ জীবনযাপনের মাধ্যমে রিপুকে দমনের পরিবর্তে জিঘাংসায় মেতে উঠলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৮ দুপুর ২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



