জন্মের পরপরই আমাদের পরিবার আমাদের মধ্যের একটা ভাবাদর্শ তৈরি করে দেয়৷ পরিবারের বিশ্বাসগুলো আমাদের মধ্যে ঢুকে যায়৷ পরিবার যাদের ভালবাসে আমরা তাদের ভালবাসতে শিখি৷ পরিবার যাদের ঘৃণা করে আমরা তাদের ঘৃণা করতে শিখি৷ এটা ধর্ম, রাজনীতি, প্রতিবেশি সবক্ষেত্রেই সত্যি হয়ে উঠে৷ সমাজও একই ভাবাদর্শের হলে আমাদের মনোভাব আরো পোক্ত হয়৷

শিক্ষার্জন করতে গিয়ে দেখি রাষ্ট্র সরকারের ইচ্ছায় আরেকটি ভাবাদর্শ গড়ে তুলতে চায়৷ পরিবার ও সমাজ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সাথে অনেকটাই মিলে যায়৷ যেমন ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রচলিত প্রথা ইত্যাদি৷ সরকার প্রশাসন, মিডিয়া ও শিক্ষকদের দিয়ে তাদের নীতি আদর্শের পক্ষে ভাবাদর্শ গড়ে তুলার চেষ্টা করে৷ চাকরি করতে গিয়ে আমরা একই বৃত্ত দেখি৷ আমরা নিজেরাই এবার লিপ্ত হই পুরাতন ভাবাদর্শ টিকিয়ে রাখতে৷ পুনরুৎপাদন ঘটতে থাকে৷

তাহলে কি ভাবাদর্শ পরিবর্তনের কোন পথ নেই?
আছে!
শিক্ষা কিছু বেসিক পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়৷
১) মানবিক করে
২) সামাজিক করে এবং
৩) মেধার বিকাশ ঘটায়৷
মানবিক ও সামাজিক একজন মানুষের যখন মেধার বিকাশ ঘটে তখন সে তার এতোদিনের গঠিত ভাবাদর্শের মধ্যে ফাঁকগুলো দেখতে পায়৷ সে প্রশ্ন করতে থাকে৷ উত্তরগুলো খুঁজে পায় নিজের কাছেও৷ সে প্রথা ভাঙ্গতে থাকে৷
তাহলে অধিকাংশ মানুষ প্রায় একই মানসিকতার থাকে কেন?
কারণ মানহীন শিক্ষা৷ আমাদের কজন মানুষকে পড়াশোনা করে পাশ করতে দেখি? আপনার প্রাথমিক স্কুলটির খোঁজ নিন৷ প্রশ্ন করি, কেন একজনও ফেল করে না? শৈশবেই যাদের মধ্যে অনৈতিকতা ঢুকিয়ে দেই তারা চুরি করার ভাবাদর্শ আর বদলাতে পারেন না৷ যাদের মেধা কম বিকশিত হয়েছে তারাও কুসংস্কারাচ্ছন্ন নষ্ট ভাবাদর্শ অতিক্রম করতে পারে না৷ তাই প্রতি বছরই বদলায় অল্প কিছু মানুষ৷ তারাই আশার বাতি জ্বালিয়ে রাখে৷
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


